Switch language / ভাষা পরিবর্তন করুন
অবরোধ ও মুক্তিমধ্যপ্রাচ্য / লেভান্টচলমান তীব্র সামরিক সংঘাত ও অবরোধ

ফিলিস্তিন সংকট: ইতিহাস, অবরুদ্ধ গাজা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের দীর্ঘ সংগ্রাম

হযরত ঈসা (আ.)-এর যুগ ও উমরিয়া চুক্তি থেকে ১৯১৭-এর ব্রিটিশ ব্যালফোর চক্রান্ত এবং আধুনিক দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অস্তিত্বের লড়াই

মেরুনপেপার ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক গবেষণা ডেস্ক•হালনাগাদ: ২০২৬ পর্যালোচনা
শেয়ার করুন:
সারসংক্ষেপ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

ফিলিস্তিন সংকট আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী, বিতর্কিত ও রক্তক্ষয়ী ঔপনিবেশিক অবিচার। এটি কোনো চিরন্তন ধর্মীয় শত্রুতা নয়; বরং এটি একটি আদিবাসী ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর নিজ পিতৃভূমিতে টিকে থাকা এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইউরোপীয় জায়নবাদী বসতিস্থাপনকারী ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের যৌথ বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার সংগ্রাম। হযরত ঈসা (আ.)-এর পদচারণা, ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর ঐতিহাসিক ‘উমরিয়া চুক্তি’র মাধ্যমে অর্জিত ধর্মীয় সহাবস্থান এবং উসমানীয় খেলাফতের চার শতকের শান্তি ভেঙে দিয়ে ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য চাপিয়ে দেয় কুখ্যাত ‘ব্যালফোর ঘোষণা’। ১৯৪৭-এর জাতিসংঘের অবিচারমূলক বিভাজন ও ১৯৪৮-এর ‘নকবা’র মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ভূমি সংকুচিত হয়ে পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় পর্যবসিত হয়। ২০০৭ সাল থেকে অবরুদ্ধ গাজায় ২০২৩-এর পর থেকে চলা নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ এই লড়াইকে অস্তিত্বের চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।

# মূল পরিসংখ্যান ও ফ্যাক্টস

সংঘাতের স্থায়িত্ব
৭+ দশক
১৯৪৮ সালের নকবা ও ১৯১৭ সালের ব্যালফোর চক্রান্তের ধারাবাহিকতা
বিশ্বব্যাপী শরণার্থী
৭০+ লাখ
ইউএনআরডব্লিউএ (UNRWA) নিবন্ধিত ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংখ্যা
বর্তমান মানবিক অবস্থা
চরম সংকট
গাজার ৮৫% এর বেশি বেসামরিক জনসংখ্যা বারবার বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত
আন্তর্জাতিক অবস্থান
১৪৬টি দেশ
জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে
ঐতিহাসিক শিকড়

উৎপত্তি ও ঐতিহাসিক বিবর্তন

ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইতিহাস বহু সহস্রাব্দ প্রাচীন। খ্রিষ্টীয় প্রথম শতকে হযরত ঈসা (আ.) রোমান সাম্রাজ্যের ‘জুদেয়া’ প্রদেশের অধীন জেরুজালেম, বেথলেহেম ও গ্যালিলিতে তাওহীদ ও ইনসাফের বাণী প্রচার করেন। পরবর্তীতে ৭০ খ্রিষ্টাব্দে রোমান জেনারেল টাইটাস জেরুজালেম ধ্বংস করেন এবং ১৩৫ খ্রিষ্টাব্দে বার কোখবা বিদ্রোহের পর রোমান সম্রাট হাড্রিয়ান ইহুদিদের জেরুজালেম থেকে সম্পূর্ণরূপে বিতাড়িত করে অঞ্চলটির নাম দেন 'সিরিয়া প্যালেস্টিনা' (Syria Palaestina)—যা থেকে আধুনিক 'ফিলিস্তিন' নামের উদ্ভব ঘটে। ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নেতৃত্বে মুসলমানরা রক্তপাতহীনভাবে জেরুজালেম বিজয় করেন। খলিফা উমর এবং খ্রিস্টান পেট্রিয়ার্ক সোফ্রোনিয়াসের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় ইতিহাসের অন্যতম মানবাধিকার সনদ ‘আল-উহদা আল-উমারিয়া’ (উমরিয়া চুক্তি)। এই সনদে খ্রিস্টানদের গির্জা, ক্রুশ ও ধর্মপালনের পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হয় এবং রোমানদের দ্বারা বহু শতাব্দী ধরে বিতাড়িত ইহুদিদের পুনরায় জেরুজালেমে বসবাস ও প্রার্থনার অধিকার ফিরিয়ে দেন খলিফা উমর (রা.)। পরবর্তীতে উমাইয়া, আব্বাসীয় ও মামলুক যুগে ডোম অব দ্য রক ও মসজিদ আল-আকসার কেন্দ্র হিসেবে জেরুজালেম মুসলিম উম্মাহর তৃতীয় পবিত্রতম ভূমিতে রূপ নেয়। ১০৯৯ সালে ইউরোপীয় ক্রুসেডাররা জেরুজালেম দখল করে মুসলিম ও ইহুদিদের নির্বিচার গণহত্যা চালালেও, ১১৮৭ সালে বীর সেনাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন আল-আইয়ুবী হিত্তিনের বিজয়ের মাধ্যমে জেরুজালেম মুক্ত করেন এবং পুনরায় মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করেন। ১৫১৬ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত চার শতক ধরে অটোমান (উসমানীয়) খেলাফতের অধীনে ফিলিস্তিনি আরব মুসলিম, খ্রিস্টান ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ইহুদি সম্প্রদায় সম্প্রীতির সাথে বসবাস করছিল। তবে উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ইউরোপে ভয়াবহ ইহুদি-বিদ্বেষের (Anti-Semitism) প্রতিক্রিয়ায় ১৮৯৭ সালে থিওডোর হার্জেলের নেতৃত্বে 'জায়নবাদী আন্দোলন' গড়ে ওঠে। তারা ইউরোপের বাইরে একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয় এবং উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদের তীব্র প্রত্যাখ্যান সত্ত্বেও ফিলিস্তিনকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ব্রিটিশরা একদিকে অটোমানদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে আরবদেরকে স্বাধীন অখণ্ড আরব রাষ্ট্রের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয় (ম্যাকমাহন-হুসাইন চুক্তি), অন্যদিকে ১৯১৬ সালে গোপনে ফ্রান্সের সাথে 'সাইকস-পিকো চুক্তি' করে মধ্যপ্রাচ্য ভাগবাটোয়ারার ছক কাটে। এর চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর—ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার ব্যালফোর জায়নবাদী নেতা লর্ড রথসচাইল্ডকে লিখিত চিঠিতে প্রতিশ্রুতি দেন যে ফিলিস্তিনে 'ইহুদি জনগণের জন্য একটি জাতীয় আবাসভূমি' প্রতিষ্ঠা করা হবে। ফিলিস্তিনের তৎকালীন ৯০% এর বেশি আদিবাসী আরব জনগণের কোনো মতামত ছাড়াই এক সাম্রাজ্যবাদী শক্তি অন্য একটি বহিরাগত গোষ্ঠীকে অন্যের ভূখণ্ড দানের এই ঘটনাকে ইতিহাসবিদরা 'আধুনিক ইতিহাসের বৃহত্তম ঔপনিবেশিক প্রতারণা' হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ঐতিহাসিক কালরেখা ও গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ

খ্রিষ্টীয় ১ম শতক

হযরত ঈসা (আ.) ও রোমান যুগ

বেথলেহেমে ঈসা (আ.)-এর জন্ম ও জেরুজালেমে নবুয়ত প্রচার; পরবর্তীতে ৭০ খ্রিষ্টাব্দে রোমানদের দ্বারা জেরুজালেম ধ্বংস এবং অঞ্চলটির নাম 'প্যালেস্টিনা' রাখা।

৬৩৮

খলিফা উমর (রা.)-এর জেরুজালেম বিজয় ও উমরিয়া চুক্তি

রক্তপাতহীন বিজয়; খ্রিস্টান ও ইহুদিদের উপাসনালয় রক্ষা ও পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতার ঐতিহাসিক সনদ 'আল-উহদা আল-উমারিয়া' সম্পাদন।

১১৮৭

সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর জেরুজালেম পুনরুদ্ধার

ক্রুসেডারদের ৮৮ বছরের রক্তক্ষয়ী শাসনের অবসান ঘটিয়ে সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর ঐতিহাসিক হিত্তিন বিজয় ও ধর্মীয় সম্প্রীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

১৫১৬-১৯১৭

উসমানীয় (অটোমান) যুগ ও দীর্ঘ সহাবস্থান

৪০০ বছর ধরে ফিলিস্তিনি মুসলিম, খ্রিস্টান ও আদিবাসী ইহুদিদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান; সমৃদ্ধ কৃষি, বাণিজ্য ও সংস্কৃতি।

১৮৯৭

১ম জায়নবাদী কংগ্রেস (বাসেল)

থিওডোর হার্জেলের নেতৃত্বে ফিলিস্তিনের আদিবাসীদের ভূমি বেদখল করে একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক রোডম্যাপ গ্রহণ।

১৯১৬

গোপন সাইকস-পিকো চুক্তি

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে অটোমান আরব ভূখণ্ড গোপনে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার জন্য ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র।

১৯১৭

কুখ্যাত ব্যালফোর ঘোষণা

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার ব্যালফোর কর্তৃক স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের অধিকার হরণ করে জায়নবাদীদের 'জাতীয় আবাসভূমি' প্রতিষ্ঠার লিখিত অঙ্গীকার।

১৯৪৮

আল-নকবা (মহাবিপর্যয়)

ইসরায়েল রাষ্ট্র ঘোষণা; জায়নবাদী মিলিশিয়াদের হামলায় সাড়ে সাত লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ ও ৫০০-এর বেশি গ্রাম নিশ্চিহ্ন।

১৯৬৭

ছয় দিনের যুদ্ধ ও সম্পূর্ণ দখল

ইসরায়েল কর্তৃক পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা এবং পূর্ব জেরুজালেম দখল; জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রস্তাব ২৪২ গৃহীত।

১৯৮৭

প্রথম ইন্তিফাদা

দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের গণ-অভ্যুত্থান; পাথরের বিরুদ্ধে সামরিক ট্যাংকের অসম লড়াই বিশ্ববিবেককে নাড়া দেয়।

১৯৯৩

অসলো শান্তি চুক্তি

পিএলও ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমিত স্বায়ত্তশাসন চুক্তি; স্বাধীন রাষ্ট্রের মিথ্যা আশ্বাস দিলেও অবৈধ বসতি বিস্তার থামেনি।

২০০৭

গাজা সর্বাত্মক অবরোধ

গাজা উপত্যকায় স্থল, জল ও আকাশপথে ইসরায়েলি অবরোধ আরোপ; অঞ্চলটিকে বিশ্বের বৃহত্তম উন্মুক্ত কারাগারে রূপান্তর।

২০২৩-২০২৬

অস্তিত্বের মহাযুদ্ধ ও আইসিজে রায়

গাজায় সর্বাত্মক সামরিক আগ্রাসন, আইসিজে-তে গণহত্যা বিষয়ক বিচার এবং ২০২৪ সালে ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণার ঐতিহাসিক রায়।

ক্ষমতার মানচিত্র

মূল পক্ষ ও অংশীদারদের ভূমিকা

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ জোট ও মুক্তিকামী নেতৃত্ব

প্রতিরোধ অক্ষ
গাজায় কার্যকর সশস্ত্র প্রতিরোধ ও রাজনৈতিক শক্তি

অবস্থান ও কৌশল: দখলদারিত্বের অবসান, বন্দিমুক্তি ও ঐতিহাসিক পিতৃভূমির স্বাধীনতা

নেতৃত্ব/প্রতিনিধি: ইয়াহিয়া সিনওয়ার স্মৃতি ও পলিটব্যুরো

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (PA / ফাতাহ)

কূটনৈতিক কর্তৃপক্ষ
পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রতিনিধি

অবস্থান ও কৌশল: ১৯৬৭ সীমানার ভিত্তিতে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান ও অসলো কাঠামোর অনুসরণ

নেতৃত্ব/প্রতিনিধি: মাহমুদ আব্বাস

ইসরায়েলি রাষ্ট্র ও সামরিক বাহিনী (IDF)

দখলদার শক্তি
দখলদার সামরিক শক্তি ও সরকার

অবস্থান ও কৌশল: সম্পূর্ণ সামরিক আধিপত্য, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র নাকচ

নেতৃত্ব/প্রতিনিধি: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও কট্টরপন্থী জোট

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা পৃষ্ঠপোষক

সাম্রাজ্যবাদী পৃষ্ঠপোষক
ইসরায়েলের প্রধান সামরিক, আর্থিক ও ভেটো সুরক্ষাকারী মিত্র

অবস্থান ও কৌশল: ইসরায়েলের 'আত্মরক্ষার অধিকার' তত্ত্ব এবং আইনি জবাবদিহিতা বাধাগ্রস্তকরণ

আন্তর্জাতিক বিচারালয় (ICJ) ও জাতিসংঘ (UN)

আইনি সংস্থা
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও যুদ্ধাপরাধ পর্যবেক্ষক

অবস্থান ও কৌশল: দখলদারিত্বের অবিলম্বে অবসান ও চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন প্রয়োগ

আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো

মানবিক ও আন্তর্জাতিক আইনের বাস্তবতা

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ রেজুলেশন ২৪২ ও ৩৩৮

যুদ্ধ দ্বারা কোনো ভূখণ্ড দখলের অগ্রহণযোগ্যতা ঘোষণা এবং ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দখলকৃত সমস্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বাধ্যবাধকতা।

রেফারেন্স: UNSCR 242 (1967) & 338 (1973)

চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন (অনুচ্ছেদ ৪৯)

দখলদার শক্তি কোনো অবস্থাতেই দখলকৃত ভূখণ্ডে নিজেদের বেসামরিক নাগরিকদের বসতি স্থাপন করাতে পারে না। ফলে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের সকল ইহুদি বসতি সুস্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ।

রেফারেন্স: 4th Geneva Convention, Article 49

আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (ICJ) ২০২৪ ঐতিহাসিক রায়

আইসিজে রায় দিয়েছে যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সামরিক দখলদারিত্ব সম্পূর্ণ অবৈধ এবং ইসরায়েলকে অনতিবিলম্বে সমস্ত সৈন্য ও বসতি স্থাপনকারী প্রত্যাহার করতে হবে।

রেফারেন্স: ICJ Advisory Opinion, July 2024
বৈশ্বিক সমীকরণ

ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ও পরাশক্তিদের ভূমিকা

আব্রাহাম চুক্তি ও ফিলিস্তিন প্রশ্ন পাশ কাটানোর অপচেষ্টা

আরব দেশগুলোর সাথে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রচেষ্টা ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে ধ্বংস করার চেষ্টা করলেও চলমান সংকট প্রমাণ করেছে ফিলিস্তিন সমস্যা অমীমাংসিত রেখে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো শান্তি সম্ভব নয়।

লোহিত সাগর ও আঞ্চলিক প্রতিরোধের মেলবন্ধন

ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ (হুথি), লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরানের সম্পৃক্ততা ফিলিস্তিন সংকটকে স্থানীয় বিরোধ থেকে বিশ্ব অর্থনীতি ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের চাবিকাঠিতে পরিণত করেছে।

জিজ্ঞাসা ও অনুসন্ধান

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

ফিলিস্তিন সংকট কি মূলত মুসলিম বনাম ইহুদি ধর্মীয় যুদ্ধ?+

না। এটি ধর্মীয় যুদ্ধ নয়; বরং এটি ইউরোপীয় জায়নবাদী ঔপনিবেশিক শক্তির মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের পিতৃভূমি দখল ও জাতিগত নিধনের রাজনৈতিক সংঘাত। অটোমান যুগে এবং খলিফা উমরের আমল থেকে ফিলিস্তিনে মুসলিম, খ্রিস্টান ও স্থানীয় ইহুদিরা কয়েক শতাব্দী ধরে শান্তিতে সহাবস্থান করেছে।

ব্যালফোর ঘোষণা কেন এত বিতর্কিত?+

১৯১৭ সালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার ব্যালফোর এমন একটি দেশের ওপর জায়নবাদীদের জাতীয় আবাসভূমি গড়ার অঙ্গীকার করেছিলেন, যা ব্রিটেনের নিজের ছিল না এবং যেখানে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের জনসংখ্যা ছিল ৯০ শতাংশেরও বেশি। এটিকে বলা হয় 'এক জাতির অন্য জাতিকে দেওয়া তৃতীয় জাতির ভূমি'।

উমরিয়া চুক্তি (Umariyya Covenant) কী?+

৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে জেরুজালেম বিজয়ের পর হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) স্থানীয় খ্রিস্টান পেট্রিয়ার্ক সোফ্রোনিয়াসকে যে লিখিত নিরাপত্তা সনদ দেন, তাকে উমরিয়া চুক্তি বলা হয়। এতে গির্জা, ক্রস ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং দীর্ঘকাল পর ইহুদিদেরও জেরুজালেমে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক আদালত (ICJ) ফিলিস্তিন সম্পর্কে কী রায় দিয়েছে?+

২০২৪ সালের জুলাই মাসে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (ICJ) এক ঐতিহাসিক পরামর্শমূলক রায়ে ঘোষণা করেছে যে পূর্ব জেরুজালেম, পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরায়েলের সামরিক দখলদারিত্ব সম্পূর্ণ অবৈধ এবং তা অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করতে হবে।

তথ্যসূত্র ও আন্তর্জাতিক দলিল

মুক্ত মতামতের আহ্বান

ফিলিস্তিন সংকটে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করুন

আপনি কি ফিলিস্তিন পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক আইন বা ভূ-রাজনীতি নিয়ে বিশদ গবেষণা বা মতামত লিখতে চান? মেরুনপেপারের প্ল্যাটফর্মে আপনার বিশ্লেষণ তুলে ধরুন।

লেখা পাঠান

মেরুনপেপারের সাথে যুক্ত থাকুন

আইন, রাজনীতি, ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষণধর্মী সেরা প্রবন্ধগুলো প্রতি সপ্তাহে সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।

আমরা স্প্যাম করি না। যেকোনো সময় আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।