Switch language / ভাষা পরিবর্তন করুন
মেরুনপেপার ভূ-রাজনীতি ও সংঘাত ডসিয়ার

যেখানে কণ্ঠ দমিত, সেখানেই আমাদের দৃষ্টি

বিশ্বব্যাপী মুক্তিকামী মানুষ ও নিপীড়িত ভূখণ্ডের অধিকারের প্রতি সংহতি। ভৌগোলিক দখলদারিত্ব, আদিবাসী স্বাধিকার, সামরিক স্বৈরতন্ত্র ও মানবিক সংকটের বস্তুনিষ্ঠ, নির্ভরযোগ্য ও আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক রূপরেখা।

মূল কেন্দ্র · বাংলাদেশ (ঢাকা) থেকে বৈশ্বিক দৃষ্টি
৮টি ভূ-রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু

চলমান সংগ্রাম ও গভীর ডসিয়ার

প্রতিটি দেশের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস, শক্তি সমীকরণ ও সংশ্লিষ্ট নিবন্ধ দেখতে ক্লিক করুন
অবরোধ ও মুক্তিমধ্যপ্রাচ্য / লেভান্ট

ফিলিস্তিন

Palestine

ফিলিস্তিন সংকট আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী, বিতর্কিত ও রক্তক্ষয়ী ঔপনিবেশিক অবিচার। এটি কোনো চিরন্তন ধর্মীয় শত্রুতা নয়; বরং এটি একটি আদিবাসী ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর নিজ পিতৃভূমিতে টিকে থাকা এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইউরোপীয় জায়নবাদী বসতিস্থাপনকারী ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের যৌথ বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার সংগ্রাম। হযরত ঈসা (আ.)-এর পদচারণা, ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর ঐতিহাসিক ‘উমরিয়া চুক্তি’র মাধ্যমে অর্জিত ধর্মীয় সহাবস্থান এবং উসমানীয় খেলাফতের চার শতকের শান্তি ভেঙে দিয়ে ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য চাপিয়ে দেয় কুখ্যাত ‘ব্যালফোর ঘোষণা’। ১৯৪৭-এর জাতিসংঘের অবিচারমূলক বিভাজন ও ১৯৪৮-এর ‘নকবা’র মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ভূমি সংকুচিত হয়ে পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় পর্যবসিত হয়। ২০০৭ সাল থেকে অবরুদ্ধ গাজায় ২০২৩-এর পর থেকে চলা নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ এই লড়াইকে অস্তিত্বের চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।

সংঘাতের স্থায়িত্ব: ৭+ দশক
বিশ্লেষণ ও ডসিয়ার পড়ুন
গণতান্ত্রিক প্রতিরোধদক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া

মিয়ানমার

Myanmar

মিয়ানমারের ইতিহাস বহুলাংশে সামরিক আধিপত্য, নৃতাত্ত্বিক অসন্তোষ এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ইতিহাস। ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত সামরিক অভ্যুত্থান দেশটিকে এক সর্বাত্মক গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে নির্মমভাবে দমন করার পর সাধারণ তরুণ, পেশাজীবী এবং ছাত্ররা অস্ত্র হাতে তুলে নেয় এবং ‘পিপলস ডিফেন্স ফোর্স’ (PDF) গড়ে তোলে। পাশাপাশি ঐতিহাসিক নৃতাত্ত্বিক সশস্ত্র সংগঠনগুলো (EAOs) অভূতপূর্ব সামরিক সমন্বয় গড়ে তোলে। ২০২৩ সালের শেষের দিকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ১০২৭’ মিয়ানমারের সামরিক জান্তার ভিত কাঁপিয়ে দেয়, যার ফলে তারা দেশের অর্ধেকেরও বেশি ভৌগোলিক এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারায়।

অভ্যুত্থানের সময়কাল: ৫+ বছর
বিশ্লেষণ ও ডসিয়ার পড়ুন
মানবিক সংকটমধ্যপ্রাচ্য / আরব উপদ্বীপ

ইয়েমেন

Yemen

ইয়েমেন সংকটকে জাতিসংঘ আধুনিক বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবসৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ২০১১ সালের আরব বসন্তের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ব্যর্থ হলে দেশটিতে সংঘাত তীব্র রূপ নেয়। ২০১৪ সালে শিয়া জাইদি গোষ্ঠী আনসারুল্লাহ (যাদের হুথি নামে ডাকা হয়) রাজধানী সানা দখল করে। ২০১৫ সালে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বে গঠিত সামরিক জোট হুথিদের হটাতে সর্বাত্মক বিমান হামলা ও নৌ-অবরোধ শুরু করে। এক দশকের এই প্রক্সি যুদ্ধে লক্ষাধিক মানুষ নিহত হয়েছে এবং অপুষ্টি, কলেরা ও চিকিৎসা সংকটে দেশটির ৮০ শতাংশেরও বেশি নাগরিক আন্তর্জাতিক ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে গাজায় সংহতি জানিয়ে লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হুথিদের হামলা এই সংঘাতকে বৈশ্বিক ভূ-অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।

সংঘাতের সময়কাল: ১১+ বছর
বিশ্লেষণ ও ডসিয়ার পড়ুন
সার্বভৌমত্বপূর্ব ইউরোপ

ইউক্রেন

Ukraine

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কর্তৃক ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপীয় ভূখণ্ডে বৃহত্তম প্রচলিত সামরিক যুদ্ধের সূচনা করে। ইউক্রেন সংকট কেবল একটি ভৌগোলিক সার্বভৌমত্বের লড়াই নয়; এটি স্নায়ুযুদ্ধোত্তর বিশ্বব্যবস্থার ভারসাম্য, ন্যাটোর পূর্বমুখী বিস্তার এবং রাশিয়ার সোভিয়েত সাম্রাজ্যের প্রভাববলয় পুনরুদ্ধারের এক মহাকাব্যিক সংঘর্ষ। এক সহস্র কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ ফ্রন্টলাইনে ড্রোন যুদ্ধ, পরিখা যুদ্ধ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে লাখ লাখ সামরিক ও বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছে। ইউরোপের লাখ লাখ শরণার্থী এবং বৈশ্বিক খাদ্য ও জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বরাজনীতিকে গভীরভাবে পুনর্বিন্যস্ত করেছে।

যুদ্ধের স্থায়িত্ব: ৪+ বছর
বিশ্লেষণ ও ডসিয়ার পড়ুন
ভূ-রাজনীতিমধ্যপ্রাচ্য / পশ্চিম এশিয়া

ইরান

Iran

ইরান ইসলামি প্রজাতন্ত্র আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, জটিল ও প্রভাবশালী ভূ-রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অন্যতম। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে মার্কিনপন্থী পাহলভি রাজতন্ত্রের পতনের পর থেকে তেহরান এক আপসহীন পশ্চিমা-বিরোধী ও ইসরায়েল-বিরোধী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে আসছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন কয়েক দশকের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান নিজেদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির শীর্ষ শক্তিতে রূপান্তর করেছে এবং লেবানন (হিজবুল্লাহ), ইয়েমেন (হুথি), ইরাক ও সিরিয়ায় ঘনিষ্ঠ মিত্র ও মিলিশিয়া নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে এক শক্তিশালী ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ (Axis of Resistance) প্রতিষ্ঠা করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় ধারাবাহিক বিমান হামলা এবং ছায়াযুদ্ধের খোলস ছেড়ে সরাসরি রাষ্ট্রীয় ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়ের ফলে মধ্যপ্রাচ্য এক সর্বাত্মক মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।

ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বয়স: ৪৭+ বছর
বিশ্লেষণ ও ডসিয়ার পড়ুন
আদিবাসী অধিকারদক্ষিণ এশিয়া / উত্তর-পূর্ব ভারত

ভারতের সেভেন সিস্টার্স

Seven Sisters of India

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য—আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচল প্রদেশ—একত্রে ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে পরিচিত। ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিকভাবে এই অঞ্চলটি অবশিষ্ট ভারতের সাথে মাত্র ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ (চিকেনস নেক) দ্বারা যুক্ত। এই অঞ্চলের ৯৮ শতাংশ সীমান্তই চীন, মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভুটানের মতো আন্তর্জাতিক সীমানা দ্বারা বেষ্টিত। কয়েক দশক ধরে এই অঞ্চলটি জাতিগত আত্মনিয়ন্ত্রণ, ভূমির অধিকার, অবৈধ অভিবাসনের ভয় এবং স্বায়ত্তশাসনের রক্তাক্ত সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু। ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া মণিপুরের ভয়াবহ মেইতেই-কুকি জাতিগত সংঘাত সেভেন সিস্টার্সের দীর্ঘস্থায়ী প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং প্রান্তিকীকরণের ক্ষতকে আবারও বিশ্বমঞ্চে উন্মোচিত করেছে।

রাজ্য সংখ্যা: ৭টি রাজ্য
বিশ্লেষণ ও ডসিয়ার পড়ুন
আত্মনিয়ন্ত্রণদক্ষিণ এশিয়া / হিমালয়

কাশ্মীর

Kashmir

কাশ্মীর সংকট দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং দীর্ঘস্থায়ী অমীমাংসিত ভূ-রাজনৈতিক বিরোধ। দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী—ভারত ও পাকিস্তান—উভয়েই সম্পূর্ণ কাশ্মীরকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে, যার ফলে তারা ১৯৪৭, ১৯৬৫ ও ১৯৯৯ সালে তিনটি বড় যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। তবে এই রাষ্ট্রীয় সংঘাতের আড়ালে সবচেয়ে বেশি নিষ্পেষিত হয়েছে কাশ্মীরি জনগণ, যাদেরকে ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও গণভোটের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্ট ২০১৯ তারিখে ভারত সরকার সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫(এ) অনুচ্ছেদ বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরের আধা-স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেয় এবং উপত্যকাটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করে বিশ্বের সবচেয়ে ঘন সামরিক নজরদারির অধীনে নিয়ে আসে।

সংঘাতের বয়স: ৭৮+ বছর
বিশ্লেষণ ও ডসিয়ার পড়ুন
গৃহযুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতিউত্তর-পূর্ব আফ্রিকা / সাহেল

সুদান

Sudan

২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল সুদানের রাজধানী খার্তুমে হঠাৎ শুরু হওয়া ক্ষমতার রক্তক্ষয়ী সংঘাত অল্প সময়ের মধ্যেই আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম দেশকে এক ধ্বংসাত্মক ও বর্বর গৃহযুদ্ধের নরকে পরিণত করে। এই লড়াই কোনো মতাদর্শিক বা নাগরিক মুক্তি আন্দোলন নয়; এটি মূলত সুদানের দুই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার অহংবোধ, লোভ ও একনায়কতান্ত্রিক ক্ষমতা দখলের লড়াই। একপক্ষে সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর (SAF) প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান, অপরপক্ষে কুখ্যাত প্যারা-মিলিটারি বাহিনী ‘র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস’ (RSF)-এর প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালো (যিনি ‘হেমেদতি’ নামে পরিচিত)। এই যুদ্ধের ফলে ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ নিজ বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত হয়ে বিশ্বের সর্বকালের বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির রেকর্ড তৈরি করেছে এবং দারফুর অঞ্চলে পুনরায় জাতিগত নিধন ও গণহত্যার বিভীষিকা নেমে এসেছে।

গৃহযুদ্ধের সময়কাল: ৩+ বছর
বিশ্লেষণ ও ডসিয়ার পড়ুন
রাষ্ট্রহীন জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণমধ্যপ্রাচ্য (তুরস্ক, সিরিয়া, ইরাক ও ইরান)

কুর্দিস্তান

Kurdistan

কুর্দিরা হলো আধুনিক পৃথিবীর বৃহত্তম রাষ্ট্রহীন নৃগোষ্ঠী, যাদের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি। মেসোপটেমিয়ার এই প্রাচীন জনগোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবে নিজেদের স্বাধীন পার্বত্য আবাসভূমিতে বাস করলেও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পরাশক্তিগুলোর সীমানা নির্ধারণের খেসারত দিতে গিয়ে চার টুকরো হয়ে যায়। বর্তমানে কুর্দিরা প্রধানত তুরস্ক, ইরান, ইরাক ও সিরিয়ায় বিভক্ত। এক শতাব্দী ধরে তারা নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি, সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও স্বায়ত্তশাসনের জন্য আন্দোলন ও সশস্ত্র প্রতিরোধ চালিয়ে আসছে। সাদ্দাম হোসেন কর্তৃক ১৯৮৮ সালে হালাবজায় রাসায়নিক বিষবাষ্পে ৫ হাজার মানুষকে হত্যা, তুরস্কে পিকেকে-র দীর্ঘ গেরিলা যুদ্ধ এবং সিরিয়ায় আইএসআইএস বিরোধী যুদ্ধে কুর্দি নারী ও পুরুষ যোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ লড়াই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

মোট কুর্দি জনসংখ্যা: ৩.৫-৪ কোটি
বিশ্লেষণ ও ডসিয়ার পড়ুন
সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব ও মানবাধিকারমধ্য এশিয়া / জিনজিয়াং

পূর্ব তুর্কিস্তান (উইঘুর)

East Turkestan / Uyghur

চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল প্রদেশ যা বেইজিং ‘জিনজিয়াং’ (নতুন সীমান্ত) নামে অভিহিত করে, তা ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে উইঘুর মুসলিম জনগোষ্ঠীর আদি নিবাস ‘পূর্ব তুর্কিস্তান’। মধ্য এশিয়ার তুর্কি বংশোদ্ভূত ও ধর্মে মুসলিম এই জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখেরও বেশি। গত এক দশকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি উইঘুরদের ওপর আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহতম ডিজিটাল ও শারীরিক নজরদারি ব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়েছে। ১০ লাখেরও বেশি উইঘুরকে তথাকথিত ‘পেশাগত পুনঃশিক্ষণ শিবিরে’ (Re-education Camps) আটকে রাখা, মসজিদ ধ্বংস, উইঘুর ভাষা ও ধর্মীয় প্রতীক নিষিদ্ধ করা এবং পরিবারগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে যে জিনজিয়াংয়ে উইঘুরদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধগুলো 'মানবতাবিরোধী অপরাধ'-এর শামিল হতে পারে।

উইঘুর জনসংখ্যা: ১.২+ কোটি
বিশ্লেষণ ও ডসিয়ার পড়ুন
খনিজ সম্পদ ও কর্পোরেট যুদ্ধমধ্য আফ্রিকা / গ্রেট লেকস

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো)

Democratic Republic of the Congo

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (DR Congo) একাধারে প্রকৃতির অপার আশীর্বাদ এবং আধুনিক কর্পোরেট লোভের সবচেয়ে নির্মম শিকার। বিশ্বের মোট কোবাল্ট সম্পদের ৭০% এবং কোল্টানের সিংহভাগ এই দেশের মাটিতে অবস্থিত—যা ছাড়া বর্তমান বিশ্বের কোনো স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ব্যাটারি তৈরি অসম্ভব। অথচ এই খনিজ প্রাচুর্যই দেশটির জন্য চিরস্থায়ী অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগের 'আফ্রিকার মহাযুদ্ধ' থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত প্রায় ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং ৭০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। প্রতিবেশী রুয়ান্ডা সমর্থিত শক্তিশালী ‘এম২৩’ (M23) মিলিশিয়াসহ শতাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী পূর্বাঞ্চলীয় উত্তর কিভু ও গোমা অঞ্চলে খনিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চালিয়ে যাচ্ছে, যাকে ইতিহাসবিদরা 'দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত' বলে অভিহিত করেন।

সংঘাতজনিত মৃত্যু: ৬০+ লাখ
বিশ্লেষণ ও ডসিয়ার পড়ুন
উপনিবেশমুক্তি ও গণভোটউত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা / মাগরেব

পশ্চিম সাহারা

Western Sahara

পশ্চিম সাহারা হলো আফ্রিকান মহাদেশের একমাত্র অবশিষ্ট ভূখণ্ড যা জাতিসংঘ কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অ-স্বশাসিত ভূখণ্ড’ (Non-Self-Governing Territory) বা উপনিবেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত। আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে অবস্থিত এই ভূখণ্ডটি ছিল স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের উপনিবেশ। ১৯৭৫ সালে স্পেন তড়িঘড়ি করে বিদায় নেওয়ার পর মরক্কো প্রায় সাড়ে তিন লাখ নাগরিকের 'সবুজ পদযাত্রা' (Green March) এবং সামরিক অভিযানের মাধ্যমে অঞ্চলটির প্রায় ৮০% এলাকা দখল করে নেয়। স্থানীয় আদিবাসী সাহরাউই জনগোষ্ঠী তাদের জাতীয় মুক্তি আন্দোলন 'পলিসারিও ফ্রন্ট'-এর নেতৃত্বে স্বাধীন 'সাহরাউই আরব গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র' (SADR) ঘোষণা করে অস্ত্র তুলে নেয়। ১৯৯১ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি গণভোটের শর্তে যুদ্ধবিরতি হয়, যাতে সাহরাউইরা নির্ধারণ করবে তারা স্বাধীনতা নাকি মরক্কোর সাথে অন্তর্ভুক্তি চায়। তবে তিন দশকেরও বেশি সময় পার হলেও মরক্কোর বাধার কারণে সেই গণভোট কখনোই অনুষ্ঠিত হয়নি।

উপনিবেশমুক্তির স্থায়িত্ব: ৫০+ বছর
বিশ্লেষণ ও ডসিয়ার পড়ুন

মেরুনপেপার সম্পাদকীয় অঙ্গীকার

"আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরাশক্তির আধিপত্য নয়, বরং নিপীড়িত মানুষের মৌলিক অধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের শাসনই আমাদের সাংবাদিকতার দিকনির্দেশক।"
— মেরুনপেপার প্রকাশনা পরিষদ

মেরুনপেপারের সাথে যুক্ত থাকুন

আইন, রাজনীতি, ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষণধর্মী সেরা প্রবন্ধগুলো প্রতি সপ্তাহে সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।

আমরা স্প্যাম করি না। যেকোনো সময় আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।

মেরুনপেপারের সাথে যুক্ত থাকুন

আইন, রাজনীতি, ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষণধর্মী সেরা প্রবন্ধগুলো প্রতি সপ্তাহে সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।

আমরা স্প্যাম করি না। যেকোনো সময় আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।