ইসরায়েল ও হামাস যুদ্ধঃ ৭ অক্টোবর
১৯৪৮ থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে শত শত নারী-শিশু নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন কিংবা দখলদার ইসরায়েলিদের হাতে বিনা বিচারে আটক রয়েছেন। তারই প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে ১২০০ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়। এরপর থেকে গাজায় ইসরায়েল ব্যাপক হামলা চালানো শুরু করে। গত ১৫ ই জানুয়ারি পর্যন্ত এসব হামলায় গাজায় ৪৬ হাজার ৭০৭ জন ফিলিস্তিনীকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া ১০৯৬৬০ জনেরও বেশী আহত এবং ১১১৬০ জনেরও বেশি নিখোঁজ হয়েছেন। পশ্চিম তীরে ৮৫২ জন নিহত হয়েছেন যাদের মধ্যে ১৭৫ জন শিশু রয়েছেন। এছাড়া ৬৭০০ জন আহত হয়েছেন। ইউনিসেফের মতে, অন্ততপক্ষে ১৪ হাজার পাঁচশ শিশু মারা গেছে, কয়েক হাজার আহত হয়েছে, ১৭ হাজার তাদের পরিবারের থেকে বিচ্ছিন্ন, ১০ লাখ গৃহচ্যূত হয়েছে।'' জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ফিলিস্তিনি সরকারের জানুয়ারি ১৫ তারিখের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রায় সব বসতবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৮০ শতাংশ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৮৮ শতাংশ স্কুল ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রেও বড় আঘাত এসেছে, যেখানে ৫০ শতাংশ হাসপাতাল আংশিক কার্যকর অবস্থায় রয়েছে। ৬৮ শতাংশ সড়ক নেটওয়ার্ক ধ্বংস হয়েছে এবং একই পরিমাণ কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত গাজা যুদ্ধে ২০০ জনেরও বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। সাংবাদিক সুরক্ষা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই সংঘর্ষে অন্তত ২১৭ জন ফিলিস্তিনি, তিনজন লেবানিজ এবং দুইজন ইসরায়েলি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।গাজায় যুদ্ধ বিরতি চুক্তির শর্তাবলী
গাজায় যুদ্ধ বিরতির খবর জানার পর গাজায় ফিলিস্তিনিদের অনেককে রাস্তায় উল্লাস করতে দেখা গেছে। এই চুক্তির ফলে গাজা শহর এবং দক্ষিণ গাজা থেকে লক্ষ লক্ষ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা এখন তাদের নিজেদের ঘরে ফিরে যেতে পারবেন। আগামী ১৯ জানুয়ারি, রোববার থেকে এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা চুক্তিটি তিনটি পর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে:প্রথম পর্যায় (৬ সপ্তাহ)ঃ
-
- ইসরায়েল গাজার ভেতরে ৭০০ মিটার পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার করবে।
- হামাস ৩৩ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে।
- ইসরায়েল ২,০০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে, যার মধ্যে ২৫০ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত।
- রাফাহ সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক ত্রাণ ও চিকিৎসা সামগ্রী প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
- গাজার হাসপাতালগুলো সচল রাখতে ৫০টি জ্বালানী ভর্তি লরি পাঠানো হবে।
দ্বিতীয় পর্যায়ঃ
-
- হামাস বাকি জীবিত ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি দেবে।
- ইসরায়েল গাজা থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার শুরু করবে।
তৃতীয় পর্যায়ঃ
-
- বাকি বন্দিদের দেহ হস্তান্তর করা হবে।
- আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে তিন থেকে পাঁচ বছরের পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।




