মেরুনপেপার

দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা কি? বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকার দেওয়ানি আদালতসমূহ কি কি?

যখন কোনো মোকদ্দমায় সম্পত্তি বা পদের অধিকার নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়, তখন সেটিকে দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা হিসেবে গণ্য করা হয়।
যখন কোনো মোকদ্দমায় সম্পত্তি বা পদের অধিকার নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়, তখন সেটিকে দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা হিসেবে গণ্য করা হয়।

বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় দেওয়ানি মোকদ্দমা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যক্তিগত অধিকার, সম্পত্তি, বা পদের মালিকানা নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি দেওয়ানি আদালতের প্রধান কাজ। তবে, “দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা” বলতে আসলে কী বোঝায়? এবং এ ধরনের মোকদ্দমাগুলোর বিচার করতে আমাদের দেশে কী কী প্রকারের দেওয়ানি আদালত বিদ্যমান?

এই নিবন্ধে আমরা দেওয়ানি মোকদ্দমার সংজ্ঞা, এর বৈশিষ্ট্য, এবং বিভিন্ন আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা কাকে বলে? [Suits of a Civil Nature]

দেওয়ানি কার্যবিধির ৯ ধারায় দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট বিধান দেওয়া হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, যে ধরণের মোকাদ্দমায় সম্পত্তি বা পদের অধিকার নিয়ে বিরোধ দেখা দেয় তাকে দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা বলে। অর্থাৎ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি সম্পত্তি বা পদের অধিকার দাবি করে, তবে সেটি দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা হিসেবে বিবেচিত হবে, এমনকি যদি সেই অধিকার ধর্মীয় আচার বা সামাজিক উৎসবের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়।

দেওয়ানি মামলাকে সাধারণত আদালতের ভাষায় “মোকদ্দমা” বলা হয়। এই ধরনের মামলা সম্পত্তির অধিকার বা দখল নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার বিরোধ বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যক্তির বিরোধ থেকে এই মামলাগুলো তৈরি হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই বিরোধের সমাধান হয় ক্ষতিপূরণ আদায় বা অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।

রেস সাব জুডিস কি? রেস সাব জুডিস ও রেস জুডিকাটার মধ্যে পার্থক্য কি?

কোনো নাগরিকের অধিকার ও দায়িত্ব লঙ্ঘিত হলে সেখান থেকে দেওয়ানি মামলার উদ্ভব হয়। তবে নিছক ধর্মীয় রীতি, সামাজিকতা, বা গোত্রীয় রীতিনীতি নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে, যেখানে অধিকারের প্রশ্ন জড়িত নয়, সেগুলো দেওয়ানি মামলার আওতায় পড়ে না। তবে এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো সম্পত্তি বা পদের প্রশ্ন ধর্মীয় বা সামাজিক নিয়মের ওপর নির্ভরশীল হয়, তবে আদালত সেই প্রশ্ন নিষ্পত্তির এখতিয়ার রাখে।

উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তি তার গোত্র থেকে বহিষ্কৃত হয় এবং এতে তার অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, তবে এটি দেওয়ানি মামলার আওতায় পড়বে। একইভাবে, যদি কাউকে কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পদ থেকে অপসারণ করা হয়, তবে সেটিও দেওয়ানি প্রকৃতির মামলা বলে বিবেচিত হবে। কিন্তু ধর্মীয় নেতার বিশেষ সুবিধা সংক্রান্ত দাবি, গোত্রীয় ভোজসভায় নিমন্ত্রণ না করা, বা সামাজিক কোনো অনুষ্ঠানের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে, যেখানে অধিকারের কোনো দাবি নেই, সেগুলো দেওয়ানি মামলার পর্যায়ে পড়ে না।

এভাবে, দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা কেবল তখনই তৈরি হয়, যখন কোনো ব্যক্তির অধিকার, সম্পত্তি বা পদ নিয়ে প্রশ্ন জড়িত থাকে। তবে, মামলার বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করবে যে সংশ্লিষ্ট মামলাটি দেওয়ানি প্রকৃতির কি না, পক্ষগণের মর্যাদার ওপর নয়। যদি মামলার বিষয়বস্তু দেওয়ানি প্রকৃতির হয়, তবে তা বিচার করার ক্ষমতা দেওয়ানি আদালতের থাকবে। কোনো আইন যদি সুস্পষ্টভাবে কোনো বিষয় নিষিদ্ধ না করে, তবে প্রতিটি দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার অক্ষুণ্ন থাকবে। এই ধারাটি সাধারণ আইন এবং বিধিবদ্ধ আইন দ্বারা সৃষ্ট ও সংরক্ষিত দেওয়ানি প্রকৃতির অধিকারের মধ্যে কোনো পার্থক্য স্বীকার করে না।

রেস জুডিকাটা বা বিচারকৃত সিদ্ধান্ত নীতি (Res Judicata) কি? রেস জুডিকাটার শর্তাবলী ও কনস্ট্রাকটিভ রেস জুডিকাটা

কোনগুলি দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা?

বিভিন্ন আদালতের রায়ের ভিত্তিতে যে সমস্ত মামলা দেওয়ানি প্রকৃতির হিসেবে গণ্য হয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো:
১) সরকার বা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা কর্তৃক বা তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা।
২) চাকরি থেকে অবৈধভাবে অপসারণের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর মামলা।
৩) প্রার্থনা করার অধিকার প্রতিষ্ঠা করার মামলা।
৪) মুসলিম বা হিন্দু বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলা।
৫) কোনো সদস্যকে বেআইনিভাবে কোনো সামাজিক ক্লাবের সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা।

কোনগুলি দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা নয়?

অন্যদিকে, যে সমস্ত মামলা দেওয়ানি প্রকৃতির নয় বলে বিবেচিত, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো:
১) যে মামলার প্রধান বিষয় কোনো ধর্মীয় প্রথা বা অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত।
২) কোনো পদাধিকার সূত্রে পদমর্যাদার দাবি, যেমন- একটি মঠের স্বামী কর্তৃক উৎসবের সময় প্রধান প্রধান রাস্তায় পালকীতে বহন করার দাবি।
৩) যেখানে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে বাদীর কোনো স্বত্ব নেই, কিন্তু কোনো দায়িত্ব পালনের দাবি জানানো হয়, যেমন- ট্রাস্টি কর্তৃক মন্দির পরিচালনার দায়িত্ব পালনের দাবি।
৪) ধর্মীয় অনুসারীদের দ্বারা সম্মান ও সেবা পাবার দাবি।
৫) কোনো সম্পত্তি বা পদের অধিকার ছাড়া শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার দাবি সংক্রান্ত মামলা।

এই ধারা অনুযায়ী, দেওয়ানি আদালত শুধুমাত্র সেই মামলা গ্রহণ করবে যেখানে সম্পত্তি বা পদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমার প্রকারভেদ

৯ ধারার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা সাধারণত দুইটি প্রধান বিভাগে বিভক্তঃ

  • প্রথমত, সম্পত্তির অধিকার সম্পর্কিত মোকদ্দমা। উদাহরণস্বরূপ, বন্ধকী সম্পত্তি উদ্ধারের অধিকার, ঋণ আদায়ের অধিকার, অথবা সরকারি কর্মকর্তার বকেয়া বেতন উদ্ধারের অধিকার। এই সকল মামলা দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা হিসেবে গণ্য হয়।
  • দ্বিতীয়ত, পদের অধিকার সম্পর্কিত মোকদ্দমা। যেমন, মুতওয়াল্লির পদের অধিকার সংক্রান্ত মামলা, যেখানে মুতওয়াল্লির পদের অধিকার হারানোর বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়, অথবা কোনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের কোনো পদের অধিকার দাবি করেন।

চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা বা ভাড়া আদায়ের মোকদ্দমা বা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার যেমন চুক্তি বলবৎ, চুক্তি রদ, দলিল সংশোধন, দলিল বাতিল, ঘোষণামূলক মোকদ্দমা, নিষেধাজ্ঞা, সম্পত্তিতে দখল উদ্ধার ইত্যাদি সম্পর্কিত মোকদ্দমাগুলি দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা।

What is Woke Culture? Why is it so controversial?

বিভিন্ন প্রকারের দেওয়ানি আদালত

বাংলাদেশের দেওয়ানি আদালতসমূহ সিভিল কোর্টস অ্যাক্ট, ১৮৮৭ (Civil Courts Act, 1887) অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত। এই আইন ৩ ধারা অনুযায়ী, দেওয়ানি আদালতসমূহকে পাঁচটি প্রধান শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছেঃ

  • জেলা জজের আদালতঃ জেলা জজ আদালত দেওয়ানি বিষয়ের সর্বোচ্চ স্তরের আদালত হিসেবে কাজ করে। এই আদালত রিভিশনের ক্ষমতা প্রয়োগ করে এবং সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা মূল্যমানের দেওয়ানি আপীল নিষ্পত্তি করে। এছাড়া প্রবেট সংক্রান্ত মামলার শুনানি এখানেই অনুষ্ঠিত হয়, যা প্রবেট ও উইল সংক্রান্ত বিষয়াদি পরিচালনার ক্ষেত্রে এর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
  • অতিরিক্ত জেলা জজের আদালতঃ অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত মূলত জেলা জজ আদালতের সহায়ক ভূমিকা পালন করে। জেলা জজ কর্তৃক প্রেরিত সকল মামলা এই আদালতে বিচারাধীন থাকে এবং এই আদালত সেসব মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি করে।
  • যুগ্ম জেলা জজের আদালতঃ যুগ্ম জেলা জজ আদালত দেওয়ানি মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর। এই আদালত পঁচিশ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে সীমাহীন অর্থমূল্যের দেওয়ানি মামলার বিচার করে। উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়াদিসহ সম্পত্তির মালিকানা সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলা এখানে নিষ্পত্তি হয়। এছাড়া জেলা জজ কর্তৃক প্রেরিত আপীল ও রিভিশন মামলাগুলোর বিচারও এই আদালতে সম্পন্ন হয়।
  • সিনিয়র সহকারী জজের আদালতঃ সিনিয়র সহকারী জজ আদালত সাধারণত মাঝারি মানের দেওয়ানি মামলা পরিচালনা করে। এই আদালত পনের লক্ষ টাকা থেকে পঁচিশ লক্ষ টাকার মধ্যে মূল্যমান সম্পন্ন দেওয়ানি মামলার বিচার করে থাকে।
  • সহকারী জজের আদালতঃ সহকারী জজ আদালত হল সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ন আদালত, যেখানে সাধারণত ছোট মামলাগুলি যেমন সাধারণ সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলাগুলি পরিচালনা করা হয়। এই আদালত সর্বোচ্চ পনের লক্ষ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের দেওয়ানি মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করে।

দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমাগুলি সাধারণত সম্পত্তি ও পদের অধিকার সম্পর্কিত থাকে এবং বাংলাদেশের দেওয়ানি আদালতসমূহের এই শ্রেণিবিন্যাস বিচারিক প্রক্রিয়াকে কার্যকর ও সহজতর করতে সহায়তা করে। প্রতিটি আদালত নির্দিষ্ট এখতিয়ার এবং বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে কাজ করে। বিচার প্রার্থী জনগণের জন্য এই কাঠামো সুবিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সঠিক স্তরে মামলা পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি করে।

    Leave a Comment

    আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

    শেয়ার করুনঃ
    আরো আর্টিকেল পড়ুন
    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়
    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয় কি বাংলাদেশের জন্য নতুন হুমকি, নাকি পুরোনো শোষণের নগ্ন রূপ?

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সাউথ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির আসল অংক কী? বাংলাদেশ কি শুধুই ভারতের ডাম্পিং গ্রাউন্ড?

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয়ের মাত্র দুই বছর পর, বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আরেকটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ২০১৪ সালের ৭ জুলাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিটেশন (PCA) এই রায় ঘোষণা করে।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট
    মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?

    পশ্চিমা মিডিয়ার শেখানো বুলি ভুলে গিয়ে একবার মানচিত্রের দিকে তাকান। মধ্যপ্রাচ্যের এই অন্তহীন রক্তপাতের আড়ালে আসলে চলছে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের লাইফলাইন—’হরমুজ প্রণালী’ নিয়ন্ত্রণের এক নোংরা স্নায়ুযুদ্ধ।

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯): আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ
    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)-এর ঘটনা, আইনি ইস্যু এবং ICJ-এর ঐতিহাসিক রায় সম্পর্কে জানুন। ইনোসেন্ট প্যাসেজ ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব অপরিসীম।

    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১২)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও আইনি বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১২)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও আইনি বিশ্লেষণ

    দীর্ঘ চার দশকের জট এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর, জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ল অফ দ্য সি (ITLOS)-এর ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ-এর শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি ঘটে।

    সমুদ্র আইনঃ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সংজ্ঞা ও ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব, law of the sea
    সমুদ্র আইনঃ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সংজ্ঞা ও ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব

    সমুদ্র আইন হলো আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন, চুক্তি এবং প্রথার সমষ্টি, যা বিশ্বের সাগর ও মহাসাগরগুলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোনো একক দেশের আইন নয়, বরং জাতিসংঘের মাধ্যমে স্বীকৃত একটি আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো।

    ৭১১ খ্রিস্টাব্দের বসন্তকালে (রজব মাস, ৯২ হিজরি) তারিক বিন জিয়াদ প্রায় ৭,০০০ বারবার সৈন্যের একটি বাহিনী নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেন।
    তারিক বিন জিয়াদঃ স্পেন বিজয়ী মুসলিম সেনাপতির জীবনী

    তারিক বিন জিয়াদ ছিলেন আন্দালুসিয়া বিজয়ের মহানায়ক। জানুন ৭১১ সালে তার স্পেন অভিযান, জাহাজ পোড়ানোর ঘটনা এবং গুয়াদালেতের যুদ্ধের রোমাঞ্চকর ইতিহাস।

    স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাসঃ ইউরোপে ৮০০ বছরের গৌরবময় উপাখ্যান
    স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাসঃ ইউরোপে ৮০০ বছরের গৌরবময় উপাখ্যান

    ইউরোপের ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, মধ্যযুগে যখন পুরো মহাদেশটি কুসংস্কার, অপরিচ্ছন্নতা আর অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, ঠিক তখনই আইবেরীয় উপদ্বীপ বা স্পেনের বুকে জ্বলে উঠেছিল এক অনন্য সভ্যতার মশাল। মুসলমানরা এই ভূখণ্ডের নাম দিয়েছিল ‘আল-আন্দালুস’।

    মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজ যে উত্তেজনায় ভরা, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিলিস্তিনি সংকট এবং আব্রাহাম চুক্তি নামের এক পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক প্যাকেজ।
    ফিলিস্তিনি সংকট ও আব্রাহাম চুক্তিঃ সমালোচনা, সুফল ও বাস্তবতা

    মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজ যে উত্তেজনায় ভরা, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিলিস্তিনি সংকট এবং আব্রাহাম চুক্তি নামের এক পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক প্যাকেজ।

    পি আর পদ্ধতি কী — ধরন, সুবিধা-অসুবিধা ও বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রাসঙ্গিকতা (1)
    পি আর পদ্ধতি কী — ধরন, সুবিধা-অসুবিধা ও বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রাসঙ্গিকতা

    পি আর পদ্ধতি হলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন ব্যবস্থা। পি আর পদ্ধতির ধরন, সুবিধা, অসুবিধা বিবেচনায় বাংলাদেশে পি আর পদ্ধতি প্রাসঙ্গিক কি না প্রশ্ন উঠেছে।

    এই আর্টিকেলগুলিও আপনি পড়তে পারেন

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয় কি বাংলাদেশের জন্য নতুন হুমকি, নাকি পুরোনো শোষণের নগ্ন রূপ?

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সাউথ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির আসল অংক কী? বাংলাদেশ কি শুধুই ভারতের ডাম্পিং গ্রাউন্ড?

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয়ের মাত্র দুই বছর পর, বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আরেকটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ২০১৪ সালের ৭ জুলাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিটেশন (PCA) এই রায় ঘোষণা করে।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?

    পশ্চিমা মিডিয়ার শেখানো বুলি ভুলে গিয়ে একবার মানচিত্রের দিকে তাকান। মধ্যপ্রাচ্যের এই অন্তহীন রক্তপাতের আড়ালে আসলে চলছে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের লাইফলাইন—’হরমুজ প্রণালী’ নিয়ন্ত্রণের এক নোংরা স্নায়ুযুদ্ধ।

    নিয়মিত আর্টিকেল পেতে

    সাবস্ক্রাইব করুন

    Scroll to Top