মেরুনপেপার

তারিক বিন জিয়াদঃ স্পেন বিজয়ী মুসলিম সেনাপতির জীবনী

তারিক বিন জিয়াদ ছিলেন আন্দালুসিয়া বিজয়ের মহানায়ক। জানুন ৭১১ সালে তার স্পেন অভিযান, জাহাজ পোড়ানোর ঘটনা এবং গুয়াদালেতের যুদ্ধের রোমাঞ্চকর ইতিহাস।
৭১১ খ্রিস্টাব্দের বসন্তকালে (রজব মাস, ৯২ হিজরি) তারিক বিন জিয়াদ প্রায় ৭,০০০ বারবার সৈন্যের একটি বাহিনী নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেন।

ইসলামের সোনালী যুগের ইতিহাসে যে কয়জন সেনাপতি তাদের অসামান্য বীরত্ব এবং রণকৌশলের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন, তারিক বিন জিয়াদ (Tariq bin Ziyad) তাদের মধ্যে অন্যতম। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে আইবেরিয়ান উপদ্বীপ বা বর্তমান স্পেন ও পর্তুগাল বিজয়ের মাধ্যমে তিনি ইউরোপের মাটিতে মুসলিম শাসনের বাতিঘর ‘আন্দালুসিয়া’-এর ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তিনি কেবল একজন যোদ্ধা ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন সেই মহানায়ক যিনি ভিসিগোথিক অত্যাচারী শাসনের কবল থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্ত করে এক নতুন সভ্যতার সূচনা করেছিলেন। এই নিবন্ধে আমরা ইতিহাসের এই অবিসংবাদিত বীরের জীবন, স্পেন অভিযান এবং তার রেখে যাওয়া কীর্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।

এক নজরে তারিক বিন জিয়াদ

  • নাম: তারিক বিন জিয়াদ
  • পরিচিতি: স্পেন বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি
  • উল্লেখযোগ্য অর্জন: ভিসিগথদের পরাজিত করে আন্দালুসিয়া প্রতিষ্ঠা (৭১১ খ্রি:)
  • বিখ্যাত যুদ্ধ: গুয়াদালেতের যুদ্ধ
  • ঐতিহাসিক স্থান: জিব্রাল্টার (জাবাল আল তারিক)
  • মৃত্যু: আনুমানিক ৭২০ খ্রিস্টাব্দ

প্রাথমিক জীবন এবং সামরিক উত্থান

তারিক বিন জিয়াদ-এর জন্ম ও বংশপরিচয় নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কিছুটা মতভেদ থাকলেও, নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে তিনি ছিলেন উত্তর আফ্রিকার বারবার (Berber) গোত্রের সন্তান। তার জন্ম হয়েছিল আনুমানিক ৬৭০ খ্রিস্টাব্দে।

ইসলাম গ্রহণ করার পর তিনি উমাইয়া খিলাফতের উত্তর আফ্রিকার গভর্নর মুসা বিন নুসাইর-এর সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। তারিক তার মেধা, সততা এবং সাহসিকতার মাধ্যমে দ্রুত মুসা বিন নুসাইরের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।

তার অসামান্য যোগ্যতার প্রমাণস্বরূপ মুসা তাকে উত্তর আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ শহর তানজিয়ারের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেন। এখান থেকেই মূলত তারিকের বিশ্বজয়ের স্বপ্নের সূচনা হয়।

স্পেন বিজয়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

অষ্টম শতাব্দীর শুরুতে স্পেন বা হিস্পানিয়া শাসন করত ভিসিগোথ রাজা রডারিক (Roderic)। রডারিকের শাসনকাল ছিল অরাজকতা, অত্যাচার এবং নৈতিক অবক্ষয়ে পূর্ণ। রাজ্যের সাধারণ প্রজা এবং ইহুদিরা তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিল।

ইতিহাসের মোড় ঘুরে যায় যখন সিউটার (Ceuta) গভর্নর কাউন্ট জুলিয়ান রাজা রডারিকের ওপর ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মুসা বিন নুসাইরের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। জুলিয়ান মুসলিম বাহিনীকে স্পেন আক্রমণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। খলিফা আল-ওয়ালিদের অনুমতি সাপেক্ষে মুসা বিন নুসাইর তারিক বিন জিয়াদকে এই ঐতিহাসিক অভিযানের নেতৃত্ব দেন।

জিব্রাল্টারে অবতরণ ও তারিকের ঐতিহাসিক ভাষণ

৭১১ খ্রিস্টাব্দের বসন্তকালে (রজব মাস, ৯২ হিজরি) তারিক বিন জিয়াদ প্রায় ৭,০০০ বারবার সৈন্যের একটি বাহিনী নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেন। তিনি স্পেনের দক্ষিণ উপকূলে একটি বিশাল পাহাড়ের পাদদেশে অবতরণ করেন। এই পাহাড়টিই পরবর্তীতে তার নামানুসারে ‘জাবাল আল তারিক’ বা তারিকের পাহাড় নামে পরিচিতি লাভ করে, যা আজ লোকমুখে ‘জিব্রাল্টার’ (Gibraltar) নামে সারা বিশ্বে পরিচিত।

স্পেনের মাটিতে পা রাখার পর তারিক বুঝতে পেরেছিলেন যে, সামনে এক বিশাল ও শক্তিশালী শত্রু অপেক্ষা করছে। সৈন্যদের মনোবল অটুট রাখতে এবং পিছু হটার সমস্ত চিন্তা মন থেকে মুছে ফেলার জন্য তিনি এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। তিনি নিজেদের বহনকারী জাহাজগুলো পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেন এবং সৈন্যদের উদ্দেশ্যে সেই কালজয়ী ভাষণ প্রদান করেন:

“হে আমার যোদ্ধারা! পালাবার পথ কোথায়? তোমাদের পেছনে উত্তাল সাগর আর সামনে অগণিত শত্রু। আল্লাহর কসম! এখন তোমাদের জন্য কেবল দুটি পথ খোলা. হয় ধৈর্য ও বীরত্বের সাথে বিজয় ছিনিয়ে আনা, নয়তো শাহাদাত বরণ করা।”

গুয়াদালেতের যুদ্ধ: ইতিহাসের মোড় ঘোরানো লড়াই

তারিক বিন জিয়াদের উপস্থিতির খবর পেয়ে রাজা রডারিক উত্তর থেকে প্রায় ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) সৈন্যের বিশাল বাহিনী নিয়ে তাকে প্রতিহত করতে ছুটে আসেন। ইতিমধ্যে তারিকের সাহায্যের জন্য মুসা বিন নুসাইর আরও ৫,০০০ সৈন্য প্রেরণ করেন, ফলে তারিকের মোট সৈন্যসংখ্যা দাঁড়ায় ১২,০০০-এ।

১৯ জুলাই ৭১১ খ্রিস্টাব্দে, রমজান মাসে গুয়াদালেত নদীর তীরে (Battle of Guadalete) দুই বাহিনী মুখোমুখি হয়। এক সপ্তাহ ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে তারিক বিন জিয়াদ তার অসামান্য রণকৌশল প্রদর্শন করেন। ভিসিগোথ বাহিনীর বিশৃঙ্খলা এবং রডারিকের প্রতি তার নিজ বাহিনীর একাংশের বিশ্বাসঘাতকতা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তারিকের ক্ষিপ্রগতির অশ্বারোহী বাহিনী ভিসিগোথদের ব্যূহ ভেদ করে ফেলে। শেষ পর্যন্ত মুসলিম বাহিনী এক অভাবীয় বিজয় অর্জন করে এবং রাজা রডারিক এই যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত হন। গুয়াদালেতের এই বিজয়ই স্পেনে মুসলিম শাসনের দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়।

টলেডো বিজয় এবং আন্দালুসিিয়া প্রতিষ্ঠা

গুয়াদালেতের যুদ্ধের পর তারিক কালক্ষেপণ না করে স্পেনের রাজধানীর দিকে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তার বাহিনীকে ছোট ছোট দলে ভাগ করে কর্ডোবা, মালাগা এবং গ্রানাডার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো দখলের নির্দেশ দেন এবং নিজে মূল বাহিনী নিয়ে তৎকালীন স্পেনের রাজধানী টলেডো (Toledo) অভিমুখে যাত্রা করেন। ভিসিগোথরা এতটাই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিল যে, তারা কোনো বড় প্রতিরোধ ছাড়াই টলেডো সমর্পণ করে।

পরবর্তীতে ৭১২ খ্রিস্টাব্দে মুসা বিন নুসাইর ১৮,০০০ সৈন্যের একটি বড় বাহিনী নিয়ে স্পেনে আসেন এবং তারিকের সাথে মিলিত হন। তারা দুজন মিলে সারাগোসা, বার্সেলোনা এবং লিওনের মতো অঞ্চলগুলো বিজয় করেন। এভাবেই আইবেরিয়ান উপদ্বীপে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘আন্দালুসিয়া’, যা পরবর্তী ৮০০ বছর ধরে ইউরোপে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে টিকে ছিল।

দামেস্কে প্রত্যাবর্তন এবং শেষ জীবন

একজন সফল বিজয়ী হিসেবে তারিক বিন জিয়াদের শেষ জীবন রাজকীয় সম্মানে কাটার কথা থাকলেও, বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। ৭১৪ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আল-ওয়ালিদ তারিক এবং মুসা উভয়কেই দামেস্কে তলব করেন। খলিফার নির্দেশে তারা স্পেনের শাসনভার ত্যাগ করে দামেস্কে ফিরে যান। সেখানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং খলিফা সুলাইমানের শাসনকালে এই মহান সেনাপতিকে অনেকটা নিভৃতেই জীবন কাটাতে হয়। আনুমানিক ৭২০ খ্রিস্টাব্দে দামেস্কে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর সময় তার কোনো সম্পদ বা ক্ষমতা ছিল না, কিন্তু তিনি রেখে গিয়েছিলেন এক অমর ইতিহাস।

তারিক বিন জিয়াদ সাহসিকতা, দৃঢ়তা এবং ইমানের এক মূর্ত প্রতীক। তার নেতৃত্বে স্পেন বিজয় ইউরোপের অন্ধকার যুগে আলোর মশাল জ্বালিয়েছিল। তার স্থাপিত আন্দালুসিয়া থেকেই পরবর্তীতে ইউরোপে রেনেসাঁ বা জাগরণের সূচনা হয়েছিল। ইতিহাসের পাতায় তার নাম হয়তো সোনার অক্ষরে লেখা আছে, কিন্তু তার চেয়েও বড় সত্য হলো— তিনি প্রমাণ করে গিয়েছেন যে, সংখ্যার চেয়ে সাহসিকতা এবং লক্ষ্য যদি অটুট থাকে, তবে বিজয় অনিবার্য।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

  1. ১. তারিক বিন জিয়াদ কে ছিলেন?

    তারিক বিন জিয়াদ ছিলেন উমাইয়া খিলাফতের একজন বারবার বংশোদ্ভূত মুসলিম সেনাপতি, যিনি ৭১১ সালে স্পেন বিজয়ের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

  2. ২. জিব্রাল্টার পাহাড়ের নামকরণ কার নামে করা হয়?

    তারিক বিন জিয়াদের নামানুসারে জিব্রাল্টার পাহাড়ের নামকরণ করা হয়। আরবিতে এর নাম ‘জাবাল আল তারিক’ (তারিকের পাহাড়), যা কালক্রমে ‘জিব্রাল্টার’ হয়েছে।

  3. ৩. তারিক বিন জিয়াদ কেন জাহাজ পুড়িয়েছিলেন?

    সৈন্যদের মনে পিছু হটার বা পালিয়ে যাওয়ার চিন্তা দূর করে বিজয়ের জন্য মরিয়া করে তুলতেই তিনি জাহাজ পোড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে ইতিহাসে বর্ণিত আছে।

  4. ৪. গুয়াদালেতের যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়?

    ৭১১ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই গুয়াদালেত নদীর তীরে তারিক বিন জিয়াদ এবং রাজা রডারিকের বাহিনীর মধ্যে এই ঐতিহাসিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

    শেয়ার করুনঃ
    আরো আর্টিকেল পড়ুন
    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়
    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয় কি বাংলাদেশের জন্য নতুন হুমকি, নাকি পুরোনো শোষণের নগ্ন রূপ?

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সাউথ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির আসল অংক কী? বাংলাদেশ কি শুধুই ভারতের ডাম্পিং গ্রাউন্ড?

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয়ের মাত্র দুই বছর পর, বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আরেকটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ২০১৪ সালের ৭ জুলাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিটেশন (PCA) এই রায় ঘোষণা করে।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট
    মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?

    পশ্চিমা মিডিয়ার শেখানো বুলি ভুলে গিয়ে একবার মানচিত্রের দিকে তাকান। মধ্যপ্রাচ্যের এই অন্তহীন রক্তপাতের আড়ালে আসলে চলছে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের লাইফলাইন—’হরমুজ প্রণালী’ নিয়ন্ত্রণের এক নোংরা স্নায়ুযুদ্ধ।

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯): আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ
    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)-এর ঘটনা, আইনি ইস্যু এবং ICJ-এর ঐতিহাসিক রায় সম্পর্কে জানুন। ইনোসেন্ট প্যাসেজ ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব অপরিসীম।

    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১২)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও আইনি বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১২)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও আইনি বিশ্লেষণ

    দীর্ঘ চার দশকের জট এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর, জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ল অফ দ্য সি (ITLOS)-এর ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ-এর শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি ঘটে।

    সমুদ্র আইনঃ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সংজ্ঞা ও ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব, law of the sea
    সমুদ্র আইনঃ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সংজ্ঞা ও ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব

    সমুদ্র আইন হলো আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন, চুক্তি এবং প্রথার সমষ্টি, যা বিশ্বের সাগর ও মহাসাগরগুলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোনো একক দেশের আইন নয়, বরং জাতিসংঘের মাধ্যমে স্বীকৃত একটি আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো।

    স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাসঃ ইউরোপে ৮০০ বছরের গৌরবময় উপাখ্যান
    স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাসঃ ইউরোপে ৮০০ বছরের গৌরবময় উপাখ্যান

    ইউরোপের ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, মধ্যযুগে যখন পুরো মহাদেশটি কুসংস্কার, অপরিচ্ছন্নতা আর অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, ঠিক তখনই আইবেরীয় উপদ্বীপ বা স্পেনের বুকে জ্বলে উঠেছিল এক অনন্য সভ্যতার মশাল। মুসলমানরা এই ভূখণ্ডের নাম দিয়েছিল ‘আল-আন্দালুস’।

    মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজ যে উত্তেজনায় ভরা, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিলিস্তিনি সংকট এবং আব্রাহাম চুক্তি নামের এক পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক প্যাকেজ।
    ফিলিস্তিনি সংকট ও আব্রাহাম চুক্তিঃ সমালোচনা, সুফল ও বাস্তবতা

    মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজ যে উত্তেজনায় ভরা, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিলিস্তিনি সংকট এবং আব্রাহাম চুক্তি নামের এক পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক প্যাকেজ।

    পি আর পদ্ধতি কী — ধরন, সুবিধা-অসুবিধা ও বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রাসঙ্গিকতা (1)
    পি আর পদ্ধতি কী — ধরন, সুবিধা-অসুবিধা ও বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রাসঙ্গিকতা

    পি আর পদ্ধতি হলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন ব্যবস্থা। পি আর পদ্ধতির ধরন, সুবিধা, অসুবিধা বিবেচনায় বাংলাদেশে পি আর পদ্ধতি প্রাসঙ্গিক কি না প্রশ্ন উঠেছে।

    বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধানগুলোর অন্যতম মদিনা সনদ ইসলামি রাষ্ট্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক সম্প্রীতির অনন্য ঐতিহাসিক দলিল। 
    মদিনা সনদ কীঃ মদিনা সনদের প্রধান ধারা ও বিশ্ব ইতিহাসে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ

    বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধানগুলোর অন্যতম মদিনা সনদ ইসলামি রাষ্ট্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক সম্প্রীতির অনন্য ঐতিহাসিক দলিল। 

    এই আর্টিকেলগুলিও আপনি পড়তে পারেন

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয় কি বাংলাদেশের জন্য নতুন হুমকি, নাকি পুরোনো শোষণের নগ্ন রূপ?

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সাউথ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির আসল অংক কী? বাংলাদেশ কি শুধুই ভারতের ডাম্পিং গ্রাউন্ড?

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয়ের মাত্র দুই বছর পর, বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আরেকটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ২০১৪ সালের ৭ জুলাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিটেশন (PCA) এই রায় ঘোষণা করে।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?

    পশ্চিমা মিডিয়ার শেখানো বুলি ভুলে গিয়ে একবার মানচিত্রের দিকে তাকান। মধ্যপ্রাচ্যের এই অন্তহীন রক্তপাতের আড়ালে আসলে চলছে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের লাইফলাইন—’হরমুজ প্রণালী’ নিয়ন্ত্রণের এক নোংরা স্নায়ুযুদ্ধ।

    নিয়মিত আর্টিকেল পেতে

    সাবস্ক্রাইব করুন

    Scroll to Top