মেরুনপেপার

সমুদ্র আইনঃ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সংজ্ঞা ও ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব

সমুদ্র আইন হলো আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন, চুক্তি এবং প্রথার সমষ্টি, যা বিশ্বের সাগর ও মহাসাগরগুলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোনো একক দেশের আইন নয়, বরং জাতিসংঘের মাধ্যমে স্বীকৃত একটি আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো।
সমুদ্র আইনঃ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সংজ্ঞা ও ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব, law of the sea

পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় ৭০ শতাংশই জলভাগ। প্রাচীনকাল থেকেই বাণিজ্যের প্রসার এবং যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে সমুদ্র ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এই বিশাল জলরাশির মালিকানা, ব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিরোধ নতুন কিছু নয়। এই বিরোধ নিরসন এবং সমুদ্রের সুশৃঙ্খল ব্যবহারের লক্ষ্যেই উৎপত্তি হয়েছে সমুদ্র আইন বা Law of the Sea-এর। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বিশেষ করে বর্তমান ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে সমুদ্র আইনের গুরুত্ব অপরিসীম। এই প্রবন্ধে আমরা জানব সমুদ্র আইন কী, এর আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা এবং কেন এটি রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এত গুরুত্বপূর্ণ।

মূল সারসংক্ষেপ (Key Takeaways)

  • সংজ্ঞা: সমুদ্র আইন হলো আন্তর্জাতিক আইনের সেই শাখা যা সমুদ্রের ব্যবহার, সামুদ্রিক সম্পদের অধিকার এবং পরিবেশ রক্ষায় রাষ্ট্রগুলোর আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
  • মূল ভিত্তি: আধুনিক সমুদ্র আইনের মূল ভিত্তি হলো ‘United Nations Convention on the Law of the Sea (UNCLOS) 1982’।
  • মেরিটাইম জোন: সমুদ্রকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করা হয়েছে, যেমন: টেরিটোরিয়াল সি (১২ নটিক্যাল মাইল), এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (২০০ নটিক্যাল মাইল) ইত্যাদি।
  • গুরুত্ব: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, মৎস্য আহরণ, খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই আইন অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

সমুদ্র আইন বা আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সংজ্ঞা

সহজ কথায়, সমুদ্র আইন হলো আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন, চুক্তি এবং প্রথার সমষ্টি, যা বিশ্বের সাগর ও মহাসাগরগুলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোনো একক দেশের আইন নয়, বরং জাতিসংঘের মাধ্যমে স্বীকৃত একটি আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো।

আইনশাস্ত্রীয় ভাষায়, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন হলো পাবলিক ইন্টারন্যাশনাল ল-এর সেই অংশ, যা সমুদ্রের ওপর উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর অধিকার (Rights) এবং দায়িত্ব (Obligations) নির্ধারণ করে। এর মাধ্যমে সমুদ্রের পানি, তলদেশ (Seabed) এবং আকাশসীমার আইনি মর্যাদা সংজ্ঞায়িত করা হয়।

সমুদ্র আইন: আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সংজ্ঞা ও ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব

ঐতিহাসিকভাবে সপ্তদশ শতাব্দীতে ডাচ আইনজ্ঞ হুগো গ্রোশিয়াস (Hugo Grotius) তাঁর বিখ্যাত Mare Liberum (মুক্ত সমুদ্র) তত্ত্বে বলেছিলেন যে, সমুদ্র সবার জন্য উন্মুক্ত। কিন্তু বিংশ শতাব্দীতে এসে প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং সম্পদের চাহিদার কারণে রাষ্ট্রগুলো সমুদ্রের ওপর নিজেদের অধিকার দাবি করতে শুরু করলে একটি সুনির্দিষ্ট সনদের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এরই ফলশ্রুতিতে ১৯৮২ সালে গৃহীত হয় UNCLOS বা ‘সমুদ্র আইন বিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশন‘, যা বর্তমানে “সমুদ্রের সংবিধান” (Constitution of the Oceans) হিসেবে পরিচিত।

UNCLOS ১৯৮২ এবং মেরিটাইম জোনসমূহ

UNCLOS ১৯৮২ অনুযায়ী, উপকূলীয় একটি রাষ্ট্রের সমুদ্রসীমাকে কয়েকটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বা জোনে (Maritime Zones) ভাগ করা হয়েছে। এই জোনগুলোর পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত জরুরি।

১. অভ্যন্তরীণ জলসীমা (Internal Waters)

উপকূলীয় রেখা বা বেসলাইন (Baseline) থেকে দেশের ভেতরের দিকে অবস্থিত নদ-নদী, খাল এবং বন্দরসমূহ এর অন্তর্ভুক্ত। এখানে রাষ্ট্রের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব বা একচ্ছত্র আধিপত্য থাকে। বিদেশি জাহাজ এখানে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করতে পারে না।

২. টেরিটোরিয়াল সি বা আঞ্চলিক সমুদ্র (Territorial Sea)

বেসলাইন থেকে সমুদ্রের দিকে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাকে টেরিটোরিয়াল সি বলা হয়। এই এলাকায় উপকূলীয় রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বজায় থাকে, তবে বিদেশি জাহাজগুলো এখানে ‘ইনোসেন্ট প্যাসেজ’ (Innocent Passage) বা নির্দোষ যাতায়াতের অধিকার পায়। অর্থাৎ, তারা কোনো ক্ষতি না করে এই পথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে।

৩. এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (EEZ)

বেসলাইন থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাকে EEZ বা একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল বলা হয়। এই জোনে উপকূলীয় রাষ্ট্রটি সমুদ্রের প্রাণিজ (যেমন মাছ) ও অপ্রাণিজ (যেমন তেল, গ্যাস) সম্পদ অনুসন্ধান, উত্তোলন এবং সংরক্ষণের সার্বভৌম অধিকার ভোগ করে। তবে অন্য দেশগুলোর জাহাজ ও বিমান চলাচলের স্বাধীনতা এখানে থাকে।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১২) এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বিরোধ (২০১৪) নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ITLOS (International Tribunal for the Law of the Sea) এবং আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত এই UNCLOS ১৯৮২-এর ধারাগুলোই প্রয়োগ করেছিল। এর ফলে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে বিশাল একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চলের অধিকার লাভ করে, যা আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সফল প্রয়োগের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি (Intellectual Property) কি এবং কেন তা গুরুত্বপূর্ণ?

আন্তর্জাতিক সম্পর্কে সমুদ্র আইনের গুরুত্ব

বর্তমান বিশ্বে কোনো রাষ্ট্রই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ৮০-৯০ শতাংশই সমুদ্রপথে সম্পন্ন হয়। তাই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমুদ্র আইনের গুরুত্ব বহুমুখী।

১. সম্পদ আহরণ ও ব্লু-ইকোনমি

সমুদ্র তলদেশে রয়েছে তেল, গ্যাস এবং বিরল খনিজ সম্পদ। ব্লু-ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির ধারণাটি বাস্তবায়নের জন্য একটি রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার সমুদ্রসীমার ওপর আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হয়। সমুদ্র আইন নিশ্চিত করে যে, একটি দেশ তার EEZ-এর সম্পদ নির্বিঘ্নে আহরণ করতে পারবে।

২. নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ও বাণিজ্য

বিশ্ব বাণিজ্যের ধমনী হলো সমুদ্রপথ। মালাক্কা প্রণালী, সুয়েজ খাল বা হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ চোকপয়েন্টগুলো (Choke points) দিয়ে যেন নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচল করতে পারে, তা নিশ্চিত করে সমুদ্র আইন। এই আইন না থাকলে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো সমুদ্রপথ অবরোধ করে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামাতে পারত।

৩. পরিবেশ রক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা

সমুদ্র দূষণ রোধ এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা বর্তমানে একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। UNCLOS রাষ্ট্রগুলোকে বাধ্য করে তাদের জলসীমায় দূষণ রোধ করতে। এছাড়াও, সমুদ্র বিজ্ঞানের গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করে এই আইন।

৪. বিরোধ নিষ্পত্তি ও শান্তি স্থাপন

দক্ষিণ চীন সাগরের মতো বিতর্কিত এলাকাগুলোতে উত্তেজনা প্রশমনে সমুদ্র আইন একটি মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে। যদিও সব ক্ষেত্রে বিরোধ মেটানো সম্ভব হয় না, তবুও আইনি কাঠামো থাকার কারণে সামরিক সংঘাতের বদলে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা থাকে।

মেরিটাইম জোনসমূহের তুলনামূলক চিত্র

জোন বা এলাকাসীমা (বেসলাইন থেকে)উপকূলীয় রাষ্ট্রের অধিকারবিদেশি রাষ্ট্রের অধিকার
অভ্যন্তরীণ জলসীমাবেসলাইনের ভেতরপূর্ণ সার্বভৌমত্বনেই (বিনা অনুমতিতে)
টেরিটোরিয়াল সি১২ নটিক্যাল মাইলপূর্ণ সার্বভৌমত্ব (শর্তসাপেক্ষে)নির্দোষ যাতায়াত (Innocent Passage)
সংলগ্ন অঞ্চল (Contiguous Zone)২৪ নটিক্যাল মাইলশুল্ক, অভিবাসন ও স্যানিটারি আইন প্রয়োগচলাচলের স্বাধীনতা
EEZ২০০ নটিক্যাল মাইলঅর্থনৈতিক সম্পদ আহরণ ও গবেষণানৌ ও বিমান চলাচলের স্বাধীনতা
উন্মুক্ত সমুদ্র (High Seas)২০০ মাইলের পরেকোনো সার্বভৌমত্ব নেইসকলের জন্য উন্মুক্ত (Common Heritage)
UNCLOS অনুযায়ী বিভিন্ন মেরিটাইম জোনের অধিকার ও সীমার একটি তুলনামূলক সারণী

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশের করণীয়

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. নটিক্যাল মাইল এবং সাধারণ মাইলের মধ্যে পার্থক্য কী?

সাধারণত স্থলে দূরত্ব মাপতে আমরা স্ট্যাটিউট মাইল (Statute Mile) ব্যবহার করি। ১ নটিক্যাল মাইল সমান ১.১৫ স্ট্যাটিউট মাইল বা ১.৮৫২ কিলোমিটার। সমুদ্রের বক্রতা এবং অক্ষাংশের ওপর ভিত্তি করে এই এককটি নির্ধারিত হয়।

২. হাই সি (High Seas) বা উন্মুক্ত সমুদ্র কী?

কোনো দেশের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (EEZ) বা ২০০ নটিক্যাল মাইলের বাইরের সমুদ্র এলাকাকে হাই সিস বলা হয়। এই এলাকাটি “মানবজাতির সাধারণ ঐতিহ্য” (Common Heritage of Mankind) হিসেবে গণ্য হয় এবং এখানে কোনো দেশের একক মালিকানা নেই।

৩. বাংলাদেশ কি সমুদ্র আইন দ্বারা উপকৃত হয়েছে?

অবশ্যই। ২০১২ এবং ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ মিয়ানমার ও ভারতের কাছ থেকে ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটারের বিশাল সমুদ্র এলাকার অধিকার পেয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের (UNCLOS) সঠিক প্রয়োগের কারণে।

উপসংহার

একবিংশ শতাব্দীতে এসে সমুদ্র কেবল আর যাতায়াতের পথ নয়, বরং এটি জ্বালানি, খাদ্য এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রধান উৎস। সমুদ্র আইন বা Law of the Sea সেই অপরিহার্য কাঠামো, যা শক্তিশালী ও দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর জন্য এই আইনের খুঁটিনাটি জানা এবং প্রয়োগ করা জাতীয় স্বার্থেই অত্যন্ত জরুরি।

    শেয়ার করুনঃ
    আরো আর্টিকেল পড়ুন
    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়
    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয় কি বাংলাদেশের জন্য নতুন হুমকি, নাকি পুরোনো শোষণের নগ্ন রূপ?

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সাউথ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির আসল অংক কী? বাংলাদেশ কি শুধুই ভারতের ডাম্পিং গ্রাউন্ড?

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয়ের মাত্র দুই বছর পর, বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আরেকটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ২০১৪ সালের ৭ জুলাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিটেশন (PCA) এই রায় ঘোষণা করে।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট
    মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?

    পশ্চিমা মিডিয়ার শেখানো বুলি ভুলে গিয়ে একবার মানচিত্রের দিকে তাকান। মধ্যপ্রাচ্যের এই অন্তহীন রক্তপাতের আড়ালে আসলে চলছে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের লাইফলাইন—’হরমুজ প্রণালী’ নিয়ন্ত্রণের এক নোংরা স্নায়ুযুদ্ধ।

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯): আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ
    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)-এর ঘটনা, আইনি ইস্যু এবং ICJ-এর ঐতিহাসিক রায় সম্পর্কে জানুন। ইনোসেন্ট প্যাসেজ ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব অপরিসীম।

    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১২)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও আইনি বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১২)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও আইনি বিশ্লেষণ

    দীর্ঘ চার দশকের জট এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর, জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ল অফ দ্য সি (ITLOS)-এর ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ-এর শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি ঘটে।

    ৭১১ খ্রিস্টাব্দের বসন্তকালে (রজব মাস, ৯২ হিজরি) তারিক বিন জিয়াদ প্রায় ৭,০০০ বারবার সৈন্যের একটি বাহিনী নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেন।
    তারিক বিন জিয়াদঃ স্পেন বিজয়ী মুসলিম সেনাপতির জীবনী

    তারিক বিন জিয়াদ ছিলেন আন্দালুসিয়া বিজয়ের মহানায়ক। জানুন ৭১১ সালে তার স্পেন অভিযান, জাহাজ পোড়ানোর ঘটনা এবং গুয়াদালেতের যুদ্ধের রোমাঞ্চকর ইতিহাস।

    স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাসঃ ইউরোপে ৮০০ বছরের গৌরবময় উপাখ্যান
    স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাসঃ ইউরোপে ৮০০ বছরের গৌরবময় উপাখ্যান

    ইউরোপের ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, মধ্যযুগে যখন পুরো মহাদেশটি কুসংস্কার, অপরিচ্ছন্নতা আর অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, ঠিক তখনই আইবেরীয় উপদ্বীপ বা স্পেনের বুকে জ্বলে উঠেছিল এক অনন্য সভ্যতার মশাল। মুসলমানরা এই ভূখণ্ডের নাম দিয়েছিল ‘আল-আন্দালুস’।

    মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজ যে উত্তেজনায় ভরা, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিলিস্তিনি সংকট এবং আব্রাহাম চুক্তি নামের এক পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক প্যাকেজ।
    ফিলিস্তিনি সংকট ও আব্রাহাম চুক্তিঃ সমালোচনা, সুফল ও বাস্তবতা

    মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজ যে উত্তেজনায় ভরা, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিলিস্তিনি সংকট এবং আব্রাহাম চুক্তি নামের এক পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক প্যাকেজ।

    পি আর পদ্ধতি কী — ধরন, সুবিধা-অসুবিধা ও বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রাসঙ্গিকতা (1)
    পি আর পদ্ধতি কী — ধরন, সুবিধা-অসুবিধা ও বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রাসঙ্গিকতা

    পি আর পদ্ধতি হলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন ব্যবস্থা। পি আর পদ্ধতির ধরন, সুবিধা, অসুবিধা বিবেচনায় বাংলাদেশে পি আর পদ্ধতি প্রাসঙ্গিক কি না প্রশ্ন উঠেছে।

    বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধানগুলোর অন্যতম মদিনা সনদ ইসলামি রাষ্ট্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক সম্প্রীতির অনন্য ঐতিহাসিক দলিল। 
    মদিনা সনদ কীঃ মদিনা সনদের প্রধান ধারা ও বিশ্ব ইতিহাসে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ

    বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধানগুলোর অন্যতম মদিনা সনদ ইসলামি রাষ্ট্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক সম্প্রীতির অনন্য ঐতিহাসিক দলিল। 

    এই আর্টিকেলগুলিও আপনি পড়তে পারেন

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয় কি বাংলাদেশের জন্য নতুন হুমকি, নাকি পুরোনো শোষণের নগ্ন রূপ?

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সাউথ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির আসল অংক কী? বাংলাদেশ কি শুধুই ভারতের ডাম্পিং গ্রাউন্ড?

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয়ের মাত্র দুই বছর পর, বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আরেকটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ২০১৪ সালের ৭ জুলাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিটেশন (PCA) এই রায় ঘোষণা করে।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?

    পশ্চিমা মিডিয়ার শেখানো বুলি ভুলে গিয়ে একবার মানচিত্রের দিকে তাকান। মধ্যপ্রাচ্যের এই অন্তহীন রক্তপাতের আড়ালে আসলে চলছে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের লাইফলাইন—’হরমুজ প্রণালী’ নিয়ন্ত্রণের এক নোংরা স্নায়ুযুদ্ধ।

    নিয়মিত আর্টিকেল পেতে

    সাবস্ক্রাইব করুন

    Scroll to Top