মেরুনপেপার

পুঁজিবাদঃ লাভের লড়াই নাকি বৈষম্যের খেলা?

পুঁজিবাদ হল একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে উৎপাদনের উপায় (যেমন কারখানা, জমি) ব্যক্তিদের মালিকানাধীন এবং বাজার মূলত সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই চাহিদা ও সরবরাহের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।
পুঁজিবাদঃ লাভের লড়াই, বৈষম্যের খেলা?

পুঁজিবাদ – একটি শব্দ যা অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজ, সবখানেই ঝড় তোলে। শব্দটা শুনলেই কেমন একটা গম্ভীর ভাব আসে, মনে হয় বড় বড় অর্থনীতিবিদদের আড্ডা চলছে। কিংবা, পুঁজিবাদ – শব্দটি শুনলেই মনে ভেসে ওঠে লোভ, শোষণ, বৈষম্যের চিত্র। তবে, আজকের এই আড্ডাটা একটু অন্যরকম।

ধরুন, একটা বাজার, যেখানে রঙিন জিনিসপত্র, সুস্বাদু খাবার, চোখ ধাঁধানো জামাকাপড় – সবকিছুই ঝলমলে। আর সেই বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা। কেউ কিনছে, কেউ বিক্রি করছে। এই কেনা-বেচার লীলাখেলাই হলো পুঁজিবাদের মূল চালিকাশক্তি। আবার লোভ তো আছেই। বিক্রেতা চায় বেশি লাভ, ক্রেতা চায় কম খরচে ভালো জিনিস। কিন্তু এই লাভের লোভই তো বাজারকে চাঙ্গা করে। বিক্রেতা ভালো জিনিস বানাতে আগ্রহী হয়, ক্রেতা ভালো জিনিসের জন্য বেশি দাম দিতে রাজি হয়। এমতাবস্থায়, পুঁজিবাদ কি তাহলে লোভের খেলা, শুধুই নেতিবাচক? কিংবা সত্যিকার অর্থে পুঁজিবাদ আসলে কি?

পুঁজিবাদ কি?

পুঁজিবাদ (Capitalism) হল একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে উৎপাদনের উপায় (যেমন কারখানা, জমি) ব্যক্তিদের মালিকানাধীন এবং বাজার মূলত সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই চাহিদা ও সরবরাহের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। এই ব্যবস্থায়, মালিকরা লাভের জন্য উৎপাদন করে এবং প্রতিষ্ঠানগুলি পরিচালনা করে। এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হল লাভ অর্জন এবং ব্যবসায়িক সাফল্য। পুঁজিবাদ সমাজের বিভিন্ন অংশে প্রভাব ফেলে, যেমন সামাজিক সমানতা, শ্রমিক অধিকার, এবং সরকারের ভূমিকা। এটি বিভিন্ন রাজনীতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন উপায়ে বাস্তবায়ন করা হয়, যেমন লিবারেল ডেমোক্রেসি, সোশ্যাল ডেমোক্রেসি, ফ্যাসিজম এবং অন্যান্য।পুঁজিবাদের মূলনীতিগুলো হলোঃ

  • ব্যক্তিগত মালিকানাঃ পুঁজিবাদের মূল ভিত্তি হলো ব্যক্তিগত মালিকানা, যেখানে উৎপাদনের মাধ্যম যেমন কারখানা, বা ব্যবসা, যন্ত্রপাতি, জমি প্রভৃতি উৎপাদনের উপকরণসমূহ ব্যক্তি মালিকানাধীন থাকে। এই ব্যবস্থায় উৎপাদন, বণ্টন, ভোগ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ থাকে না এবং সরবরাহ ও চাহিদার উপর ভিত্তি করে মূল্য নির্ধারণ করা হয়। উৎপাদনের স্বাধীনতা এবং উদ্যোগের জন্যএই ব্যবস্থা বিশেষভাবে উপযোগী এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ব্যক্তিগত মালিকানার নীতি ব্যক্তিদেরকে সম্পদের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দেয়, এবং এই সম্পদ ব্যবহার করে আর্থিক লাভ অর্জনের অধিকার দেয়। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় পুঁজির ব্যক্তিগত মালিকানা ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠীর হাতেই সীমাবদ্ধ থাকে,  বিপুলভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষ এই মালিকানা থেকে বঞ্চিত থাকে।
  • মুক্ত বাজারঃ পুঁজিবাদ এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে মুনাফা তৈরির লক্ষ্যে ব্যবসা, কারখানা এবং উৎপাদনের উপকরণসমূহের উপর ব্যক্তিগত মালিকানার নিয়ন্ত্রণ থাকে। মুক্ত বাজারের ধারণা হল এমন একটি অর্থনীতির মডেল, যেখানে সরকারের হস্তক্ষেপ ব্যতিত বাজার নিজেই পণ্যের দাম, উৎপাদন এবং বিতরণ নিয়ন্ত্রণ করে। এই ব্যবস্থায়, সরবরাহ এবং চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের দাম নির্ধারিত হয়, যা ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার, অবাধ প্রতিযোগিতা এবং বাজারের নমনীয়তা নিশ্চিত করে। মুক্ত বাজার ব্যবস্থায়, উদ্ভাবন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উৎসাহিত হয়, কারণ ব্যবসায়ীরা সর্বোচ্চ লাভের জন্য নতুন পণ্য এবং সেবা উদ্ভাবন করতে উৎসাহিত হন। 
  • শ্রমিক শ্রেণির অস্তিত্বঃ ধনতন্ত্রে শ্রমিকশ্রেণির সৃষ্টি হয় এবং অদৃশ্যভাবে পুজিপতিদের হাতে বন্দি। পুজিপতিরা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করে।
  • মুনাফাঃ পুঁজিবাদের মূল ভিত্তি হলো মুনাফা অর্জন। এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থায়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলি পণ্য ও সেবা উৎপাদন করে এবং বাজারে বিক্রি করে লাভ অর্জনের লক্ষ্যে চালিত হয়। মুনাফা হলো ব্যবসায়িক সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি এবং এটি প্রতিষ্ঠানের বৃদ্ধি, প্রসার এবং টেকসইতার জন্য অপরিহার্য। 
  • অবাধ প্রতিযোগিতাঃপ্রতিযোগিতা পুজিবাদী অর্থনীতির অন্যতম একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য। ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলি বাজারে টিকে থাকার জন্য একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করে। এই প্রতিযোগিতা ব্যবসায়ীদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে, নতুন নতুন পণ্য এবং সেবা উদ্ভাবন ও মান উন্নয়ন করতে, এবং গ্রাহকদের চাহিদা বাড়াতে উৎসাহিত করেএই প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বাজারে উৎপাদন ক্ষমতা এবং সম্পদ বিনিময়ের মূল্য নির্ধারণ করে
  • ভোক্তা সার্বভৌমত্বঃ ভোক্তা সার্বভৌমত্ব এই ব্যবস্থার একটি মূল বৈশিষ্ট্য, যেখানে ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন হয়। এই ব্যবস্থায় রাষ্ট্র বা সরকার ভোক্তার পছন্দকে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করবেনা। উতপাদনকারীরা ভোক্তাদের স্বাধীন চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে তাদের উৎপাদন পরিচালনা করে। 

সাম্রাজ্যবাদ কি? মধ্যপ্রাচ্যে জার্মান সাম্রাজ্যবাদের প্রকৃতি ও ইউরোপের অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদীদের প্রতিক্রিয়া

পুঁজিবাদের সুবিধা ও অসুবিধা

ব্যক্তিগত মালিকানা, মুক্ত বাজার এবং লাভের ভিত্তিতে পরিচালিত একটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা হলো পুঁজিবাদ। এই ব্যবস্থার অনেক সুবিধা রয়েছে, যেমনঃ

  • উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিঃ পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় ব্যবসাগুলো বাজারে টিকে থাকার জন্য এবং লাভ করার জন্য নতুন নতুন পণ্য ও পরিষেবা বিকাশ করতে বাধ্য থাকে। এভাবে প্রতিযোগিতা বাজার উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে উৎসাহিত করে।
  • দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিঃ পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় ব্যবসাগুলো তাদের খরচ কমাতে এবং লাভ বৃদ্ধি করতে বাধ্য। এর ফলে, দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
  • অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিঃ পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি। কারণ, ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং বিনিয়োগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে।
  • ব্যক্তিগত স্বাধীনতাঃ পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় ব্যক্তিদের পছন্দ ও স্বাধীনতার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্যক্তিরা তাদের পছন্দের জিনিস উৎপাদন করতে, বাজারে বিক্রি করতে এবং তাদের আয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
  • জীবনযাত্রার মান উন্নয়নঃ পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। কারণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন, এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি জীবনযাত্রার মান উন্নত করে।

আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলা

পুঁজিবাদের ব্যবস্থার অনেক সমস্যাও রয়েছে, যেমনঃ

  • বৈষম্য বৃদ্ধিঃ পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শ্রেণিবৈষম্য মাত্রা ছাড়িয়ে যায় এবং ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য বৃদ্ধি পায়। বাজারে অনিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতার ফলে ধনী ব্যক্তিরা আরও ধনী এবং দরিদ্র ব্যক্তিরা আরও দরিদ্র হয়।
  • বেকারত্বঃ বাজারের চাহিদা অনুযায়ী কর্মসংস্থান হওয়ায়, বেকারত্বের হার বাড়তে পারে।
  • অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতাঃ পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় অর্থনৈতিক ভাঙনের মতো অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে। কারণ, বাজারে স্বাধীন প্রতিযোগিতার ফলে অর্থনীতিতে অনিয়ন্ত্রিত উত্থান-পতন দেখা দিতে পারে।
  • পরিবেশগত ক্ষতিঃ পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে। কারণ,অতিরিক্ত উৎপাদন ও ভোগবাদ পরিবেশের ক্ষতি করে।
  • বাজার ব্যর্থতাঃ পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় বাজার ব্যর্থতা দেখা দিতে পারে। কারণ, বাজার সবসময় সকলের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ, বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য, তথ্যের অসাম্য, এবং বাহ্যিকতা বাজার ব্যর্থতার কারণ হতে পারে।
  • সামাজিক সমস্যাঃ পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় কিছু সামাজিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, অসমতা, দারিদ্র্য, অপরাধ, এবং সামাজিক অস্থিতিশীলতা পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।

রুয়ান্ডা গণহত্যার প্রেক্ষাপট ও ফলাফল

পুঁজিবাদের সমালোচনা ও নিরসনে করণীয়

পুঁজিবাদী ব্যবস্থার নীতি ও নৈতিকতা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরে চলছে। সমালোচকরা বলেন, পুঁজিবাদ লোভ, বৈষম্য, শোষণ, পরিবেশ ধ্বংসের জন্য দায়ী। সমর্থকরা মনে করেন, পুঁজিবাদ স্বাধীনতা, উন্নয়ন, সমৃদ্ধির পথ দেখায়। যাইহোক, পুঁজিবাদের সুবিধা ও অসুবিধা উভয়ই রয়েছে। সমাজের জন্য এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য নীতিমালা, নিয়ন্ত্রণ ও নৈতিক দিক বিবেচনা করা জরুরি। পুঁজিবাদের সুবিধাগুলোকে কাজে লাগিয়ে এর সমস্যাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। যেমনঃ 

  • সরকারি নিয়ন্ত্রণ: সঠিক ও কার্যকরী বাজার নিয়ন্ত্রণ, কর নীতি, এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার পুঁজিবাদের সমস্যাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
  • সামাজিক উদ্যোগ: শ্রমিক সংগঠন, সহযোগিতা, এবং সামাজিক উদ্যোগ বৈষম্য হ্রাস করতে এবং কর্মীদের ক্ষমতায়ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
  • নৈতিকতা ও সচেতনতা: ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিদের নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্বের প্রতি সচেতন হতে হবে।

পরিশেষে, পুঁজিবাদকে কেবল লাভের খেলা বা নেতিবাচক হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং, পুঁজিবাদের সুবিধাগুলোকে কাজে লাগিয়ে এর অসুবিধাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকার, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। পুঁজিবাদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে এর সুবিধাগুলোকে কতটা কাজে লাগানো যায় এবং এর অসুবিধাগুলোকে কতটা নিয়ন্ত্রণ করা যায় তার উপর।

    Leave a Comment

    আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

    শেয়ার করুনঃ
    আরো আর্টিকেল পড়ুন
    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়
    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয় কি বাংলাদেশের জন্য নতুন হুমকি, নাকি পুরোনো শোষণের নগ্ন রূপ?

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সাউথ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির আসল অংক কী? বাংলাদেশ কি শুধুই ভারতের ডাম্পিং গ্রাউন্ড?

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয়ের মাত্র দুই বছর পর, বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আরেকটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ২০১৪ সালের ৭ জুলাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিটেশন (PCA) এই রায় ঘোষণা করে।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট
    মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?

    পশ্চিমা মিডিয়ার শেখানো বুলি ভুলে গিয়ে একবার মানচিত্রের দিকে তাকান। মধ্যপ্রাচ্যের এই অন্তহীন রক্তপাতের আড়ালে আসলে চলছে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের লাইফলাইন—’হরমুজ প্রণালী’ নিয়ন্ত্রণের এক নোংরা স্নায়ুযুদ্ধ।

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯): আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ
    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)-এর ঘটনা, আইনি ইস্যু এবং ICJ-এর ঐতিহাসিক রায় সম্পর্কে জানুন। ইনোসেন্ট প্যাসেজ ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব অপরিসীম।

    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১২)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও আইনি বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১২)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও আইনি বিশ্লেষণ

    দীর্ঘ চার দশকের জট এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর, জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ল অফ দ্য সি (ITLOS)-এর ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ-এর শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি ঘটে।

    সমুদ্র আইনঃ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সংজ্ঞা ও ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব, law of the sea
    সমুদ্র আইনঃ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সংজ্ঞা ও ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব

    সমুদ্র আইন হলো আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন, চুক্তি এবং প্রথার সমষ্টি, যা বিশ্বের সাগর ও মহাসাগরগুলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোনো একক দেশের আইন নয়, বরং জাতিসংঘের মাধ্যমে স্বীকৃত একটি আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো।

    ৭১১ খ্রিস্টাব্দের বসন্তকালে (রজব মাস, ৯২ হিজরি) তারিক বিন জিয়াদ প্রায় ৭,০০০ বারবার সৈন্যের একটি বাহিনী নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেন।
    তারিক বিন জিয়াদঃ স্পেন বিজয়ী মুসলিম সেনাপতির জীবনী

    তারিক বিন জিয়াদ ছিলেন আন্দালুসিয়া বিজয়ের মহানায়ক। জানুন ৭১১ সালে তার স্পেন অভিযান, জাহাজ পোড়ানোর ঘটনা এবং গুয়াদালেতের যুদ্ধের রোমাঞ্চকর ইতিহাস।

    স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাসঃ ইউরোপে ৮০০ বছরের গৌরবময় উপাখ্যান
    স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাসঃ ইউরোপে ৮০০ বছরের গৌরবময় উপাখ্যান

    ইউরোপের ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, মধ্যযুগে যখন পুরো মহাদেশটি কুসংস্কার, অপরিচ্ছন্নতা আর অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, ঠিক তখনই আইবেরীয় উপদ্বীপ বা স্পেনের বুকে জ্বলে উঠেছিল এক অনন্য সভ্যতার মশাল। মুসলমানরা এই ভূখণ্ডের নাম দিয়েছিল ‘আল-আন্দালুস’।

    মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজ যে উত্তেজনায় ভরা, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিলিস্তিনি সংকট এবং আব্রাহাম চুক্তি নামের এক পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক প্যাকেজ।
    ফিলিস্তিনি সংকট ও আব্রাহাম চুক্তিঃ সমালোচনা, সুফল ও বাস্তবতা

    মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজ যে উত্তেজনায় ভরা, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিলিস্তিনি সংকট এবং আব্রাহাম চুক্তি নামের এক পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক প্যাকেজ।

    পি আর পদ্ধতি কী — ধরন, সুবিধা-অসুবিধা ও বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রাসঙ্গিকতা (1)
    পি আর পদ্ধতি কী — ধরন, সুবিধা-অসুবিধা ও বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রাসঙ্গিকতা

    পি আর পদ্ধতি হলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন ব্যবস্থা। পি আর পদ্ধতির ধরন, সুবিধা, অসুবিধা বিবেচনায় বাংলাদেশে পি আর পদ্ধতি প্রাসঙ্গিক কি না প্রশ্ন উঠেছে।

    এই আর্টিকেলগুলিও আপনি পড়তে পারেন

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয় কি বাংলাদেশের জন্য নতুন হুমকি, নাকি পুরোনো শোষণের নগ্ন রূপ?

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সাউথ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির আসল অংক কী? বাংলাদেশ কি শুধুই ভারতের ডাম্পিং গ্রাউন্ড?

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয়ের মাত্র দুই বছর পর, বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আরেকটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ২০১৪ সালের ৭ জুলাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিটেশন (PCA) এই রায় ঘোষণা করে।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?

    পশ্চিমা মিডিয়ার শেখানো বুলি ভুলে গিয়ে একবার মানচিত্রের দিকে তাকান। মধ্যপ্রাচ্যের এই অন্তহীন রক্তপাতের আড়ালে আসলে চলছে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের লাইফলাইন—’হরমুজ প্রণালী’ নিয়ন্ত্রণের এক নোংরা স্নায়ুযুদ্ধ।

    নিয়মিত আর্টিকেল পেতে

    সাবস্ক্রাইব করুন

    Scroll to Top