মেরুনপেপার

আমেরিকান মিডিয়াঃ সন্ত্রাসবাদ, মানসিক অস্থিরতা এবং বর্ণবাদের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড

আমেরিকান মিডিয়া সত্যকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এক বিশেষ ধরণের "ফিল্টার" ব্যবহার করে। তারা জাতিগত পরিচয়ের উপর ভিত্তি করে অপরাধীদের আলাদা পরিচয় দেয়।
আমেরিকান মিডিয়া, সন্ত্রাসবাদ,

আমেরিকান মিডিয়া সত্যকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এক বিশেষ ধরণের “ফিল্টার” ব্যবহার করে। তারা জাতিগত পরিচয়ের উপর ভিত্তি করে অপরাধীদের আলাদা পরিচয় দেয়। উদাহরণস্বরূপ, একজন মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ কোনো অপরাধ করলেই তার নামের আগে “সন্ত্রাসী” শব্দটি যুক্ত হয় যেন এটি তার পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এটি তার পাসপোর্টে স্ট্যাম্প করা আছে। অন্যদিকে, একজন শ্বেতাঙ্গ চার্চে ঢুকে নয়জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করলেও তাকে “বিচ্ছিন্ন বন্দুকধারী” বলা হয়। এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন তিনি সমাজ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ছিলেন।

“বিচ্ছিন্ন বন্দুকধারী” শব্দের তাৎপর্য

তাহলে প্রশ্ন হলো: এই “বিচ্ছিন্ন বন্দুকধারী” কথাটার মানে কী?  এই শব্দের মানে এমনভাবে তুলে ধরা হয় যেন অপরাধী আকাশ থেকে হুট করে নেমে এসেছেন এবং পৃথিবীর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তাকে এমন একজন হিসেবে চিত্রিত করা হয় যার বন্ধু নেই, ফেসবুক প্রোফাইল নেই, এবং সামাজিক কোনো যোগসূত্রও নেই। সমাজের এক নিঃসঙ্গ ব্যক্তি হিসেবে তাকে দেখানো হয়, যার অপরাধের জন্য সমাজকেও কিছুটা দায়ী করা হয়। তিনি সমাজের এমন এক নিঃসঙ্গ ব্যক্তি যে তাকে দোষারোপ করতেও আপনার মায়া হবে।

সন্ত্রাসবাদ বনাম মানসিক অস্থিরতা: এক জাতি, দুই বিচারব্যবস্থা

আমেরিকান মিডিয়া অপরাধীদের জাতিগত পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে যেভাবে তাদের বিচার করে, তা চরম পরিহাসের বিষয়। যদি অপরাধী মধ্যপ্রাচ্যের হন, তবে তাকে “সন্ত্রাসী” তকমা দেওয়া হয়। যদি কৃষ্ণাঙ্গ হন, তবে তাকে “গ্যাং কালচারের” অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু শ্বেতাঙ্গ অপরাধীদের ক্ষেত্রে “তিনি মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন” বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। যেন শ্বেতাঙ্গ হওয়া মানেই অপরাধের জন্য ক্ষমা পাওয়ার সার্টিফিকেট।

 ইরাকের গনবিধ্বংসী অস্ত্রের তথ্য মিথ্যা ছিল – দ্য গার্ডিয়ান

প্রশ্ন হলো, মানসিক অস্থিরতা কি শুধুমাত্র শ্বেতাঙ্গ অপরাধীদের জন্য প্রযোজ্য? মধ্যপ্রাচ্যের কোনো ব্যক্তি যদি আত্মঘাতী বোমা হামলা করেন, তবে কি তিনি মানসিকভাবে স্থিতিশীল ছিলেন? কেন তারা “সন্ত্রাসী,” আর শ্বেতাঙ্গ অপরাধী “মানসিকভাবে অসুস্থ”?

মিডিয়ার ভাষার কারসাজি: সৃজনশীল বর্ণবাদ

আমেরিকান মিডিয়া অপরাধের গুরুত্ব নির্ধারণে অপরাধীর জাতিগত পরিচয়কে ব্যবহার করে। শ্বেতাঙ্গ অপরাধীদের ক্ষেত্রে তাদের বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। বলা হয়, “তিনি বন্ধু-বান্ধবহীন ছিলেন, কারো সাথে মিশতেন না।” কিন্তু অপরাধী যদি মধ্যপ্রাচ্যের কেউ হন, তবে তাকে একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর সদস্য এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপরাধ করেছেন বলে তুলে ধরা হয়। এর মানে হলো, শ্বেতাঙ্গ অপরাধীর ক্ষেত্রে এটি একটি ব্যক্তিগত সমস্যা, আর অন্য জাতিগোষ্ঠীর জন্য এটি একটি সামগ্রিক সমস্যা।

সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা: বিকৃত বাস্তবতা

তাত্ত্বিকভাবে, সন্ত্রাসবাদ এমন একটি কার্যকলাপ, যা পরিকল্পিতভাবে ভয় বা ঘৃণা সৃষ্টি করতে পরিচালিত হয়। একটি চূড়ান্ত রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বার্তা প্রেরণের জন্য নিরীহ জনগণের ওপর আক্রমণ চালানোর কৌশল এটি। কিন্তু আমেরিকান মিডিয়া এই সংজ্ঞাকে নিজের মতো করে বদলে নিতে পটু।

What is Woke Culture? Why is it so controversial?

কোন শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি চার্চে ঢুকে একের পর এক মানুষ হত্যা করলে এই ঘটনা কি সন্ত্রাসবাদ নয়? না, আমেরিকান মিডিয়া বলবে, “তিনি মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন।” শ্বেতাঙ্গ অপরাধীর জন্য সন্ত্রাসবাদ শব্দটি যেন অপ্রাসঙ্গিক। তাহলে প্রশ্ন ওঠে: একজন মানসিকভাবে অস্থির ব্যক্তি যদি এই ধরনের হামলা করেন, তবে তার কাজ সন্ত্রাসবাদ থেকে আলাদা হয় কীভাবে? কারণ ভয় সৃষ্টি করা, বিশৃঙ্খলা তৈরি করা, এবং একটি বার্তা পাঠানোর অভিপ্রায় তো সন্ত্রাসবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সন্ত্রাসবাদের মূল উপাদানই হলো মানসিক অস্থিরতা। কোনো মানসিকভাবে স্থিতিশীল ব্যক্তি কি নিজেকে উড়িয়ে দেওয়ার কথা ভাবেন?

মিডিয়ার বর্ণবাদী রাজনীতি

শ্বেতাঙ্গ অপরাধীদের অপরাধকে “মানবিক ভুল” হিসেবে দেখানোর মাধ্যমে আমেরিকান মিডিয়া একটি নির্দিষ্ট বার্তা প্রেরণ করে। তারা বলে, “এই ব্যক্তি নিঃসঙ্গ ছিলেন, পরিবার তাকে বুঝতে পারেনি।” এমন বক্তব্যে শ্বেতাঙ্গ অপরাধীদের প্রতি সহানুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অপরাধীদের পেছনের গল্প, মানসিক অবস্থা বা পরিস্থিতি নিয়ে কোনো আলোচনা হয় না। তাদের নাম এবং ধর্মই যেন প্রমাণ করে তারা অপরাধী।

মুজাহিদিন, আফগানিস্তান, আফগান স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সমর্থন করুন - যুক্তরাষ্ট্র/আফগানিস্তান, ১৯৮০-এর দশক।সোলজার অফ ফর্চুন। অস্ত্র এবং গোলাবারুদের জন্য আপনার করযোগ্য অনুদান পাঠান: বোল্ডার, কলোরাডো।
“আফগান স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সমর্থন করুন – যুক্তরাষ্ট্র/আফগানিস্তান, ১৯৮০-এর দশক। সোলজার অফ ফর্চুন। অস্ত্র এবং গোলাবারুদের জন্য আপনার করযোগ্য অনুদান পাঠান: বোল্ডার, কলোরাডো।”

একবার ভেবে দেখুনঃ শ্বেতাঙ্গ অপরাধী যখন কোনো আক্রমণ চালায়, তখন বলা হয়, “তিনি ব্যক্তিগত কারণ বা হতাশা থেকে এমনটি করেছেন।” কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের কেউ যদি আত্মঘাতী বোমা হামলা করেন, তখন বলা হয়, “তিনি ধর্মীয় বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এমনটি করেছেন।”

What is America’s Blackwater? How does it terrorize the World?

তাহলে কি শ্বেতাঙ্গ অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক বার্তা নেই? শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদ যে আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি হুমকি সৃষ্টি করেছে, তা কি মিডিয়া ভুলে গেছে? বা তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই ভুলে যেতে চায়?

বর্ণবৈষম্যের ঐতিহাসিক শিকড়

শ্বেতাঙ্গ অপরাধীদের প্রতি এই সহানুভূতি আমেরিকার বর্ণবাদী ইতিহাসের গভীর শিকড় থেকে উদ্ভূত। দাসপ্রথা, বর্ণবাদী আইন এবং সামাজিক বিভাজন এমন একটি কাঠামো গড়ে তুলেছে, যেখানে শ্বেতাঙ্গদের অপরাধ ক্ষমার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে, অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর প্রতি এই সহানুভূতি পুরোপুরি অনুপস্থিত।

সরকারি প্রতিবেদন এবং পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদ আমেরিকায় সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হুমকি। তবে মিডিয়া এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে। তারা শ্বেতাঙ্গ অপরাধীদের অপরাধকে ছোট করে এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীকে অপরাধের জন্য দোষারোপ করে।

কারা দায়ী?

এই ভণ্ডামি কোনো দুর্ঘটনা নয়। এটি বড় মিডিয়া হাউসগুলোর দ্বারা পরিচালিত একটি কৌশল, যা তাদের রাজনৈতিক এবং কর্পোরেট এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে করা হয়। মিডিয়ার পক্ষপাতমূলক আচরণ একটি পরিকল্পিত নাটকের মতো পরিচালিত হয়, যেখানে বিভাজন তৈরি করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
মিডিয়া “সন্ত্রাসবাদের” গল্প শোনানোর মাধ্যমে জনগণকে ভীত রেখে যুদ্ধনীতি এবং অস্ত্র বিক্রির বৈধতা নিশ্চিত করে। মধ্যপ্রাচ্যের মানুষদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের একটি অংশ।

কে আইএসআইএস সৃষ্টি করেছে?

“আমাদের এই উজ্জ্বল ধারণা ছিল যে আমরা পাকিস্তানে এসে মুজাহেদিনদের একটি বাহিনী তৈরি করতে যাচ্ছি, তাদের স্টিংগার মিসাইল এবং অন্যান্য সবকিছু দিয়ে সজ্জিত করব, আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে সোভিয়েতদের পিছনে যেতে। এবং আমরা সফল হয়েছিলাম। সোভিয়েতরা আফগানিস্তান ত্যাগ করে। এবং তারপরে আমরা বলেছিলাম দুর্দান্ত, বিদায় – এই প্রশিক্ষিত লোকদের ছেড়ে চলে যাচ্ছি যারা আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানে ধর্মান্ধ ছিল, তাদের ভালভাবে সশস্ত্র রেখে, একটি বিশৃঙ্খলা তৈরি করে, সত্যি বলতে, সেই সময়ে আমরা সত্যিই চিনতে পারিনি। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন দেখে আমরা খুব খুশি হয়েছিলাম এবং আমরা ভেবেছিলাম, ঠিক আছে, ঠিক আছে, আমরা এখন ঠিক আছি, সবকিছু অনেক ভালো হতে চলেছে। এখন তুমি ফিরে তাকাও; আজ আমরা যাদের সাথে যুদ্ধ করছি আমরা সোভিয়েতদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সমর্থন করছিলাম”। ফক্স নিউজের গ্রেটা ভ্যান সাস্টেরেনের সাথে সাক্ষাৎকার, ১৮ জুলাই, ২০১০

আমেরিকান মিডিয়ার বর্ণবাদী মনোভাব শুধু সাংবাদিকতার দিক থেকে নয়, পুরো সমাজের জন্যই হুমকিস্বরূপ। তাদের ভাষার কারসাজি এবং বিভেদমূলক প্রতিবেদনের মাধ্যমে তারা শ্বেতাঙ্গ অপরাধীদের অপরাধ লঘু করে দেখায় এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীকে দোষারোপ করে। এটি শুধু মিডিয়ার দায়িত্বহীনতা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক এবং সামাজিক এজেন্ডার অংশ।

    Leave a Comment

    আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

    শেয়ার করুনঃ
    আরো আর্টিকেল পড়ুন
    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়
    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয় কি বাংলাদেশের জন্য নতুন হুমকি, নাকি পুরোনো শোষণের নগ্ন রূপ?

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সাউথ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির আসল অংক কী? বাংলাদেশ কি শুধুই ভারতের ডাম্পিং গ্রাউন্ড?

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয়ের মাত্র দুই বছর পর, বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আরেকটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ২০১৪ সালের ৭ জুলাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিটেশন (PCA) এই রায় ঘোষণা করে।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট
    মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?

    পশ্চিমা মিডিয়ার শেখানো বুলি ভুলে গিয়ে একবার মানচিত্রের দিকে তাকান। মধ্যপ্রাচ্যের এই অন্তহীন রক্তপাতের আড়ালে আসলে চলছে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের লাইফলাইন—’হরমুজ প্রণালী’ নিয়ন্ত্রণের এক নোংরা স্নায়ুযুদ্ধ।

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯): আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ
    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)-এর ঘটনা, আইনি ইস্যু এবং ICJ-এর ঐতিহাসিক রায় সম্পর্কে জানুন। ইনোসেন্ট প্যাসেজ ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব অপরিসীম।

    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১২)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও আইনি বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১২)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও আইনি বিশ্লেষণ

    দীর্ঘ চার দশকের জট এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর, জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ল অফ দ্য সি (ITLOS)-এর ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ-এর শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি ঘটে।

    সমুদ্র আইনঃ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সংজ্ঞা ও ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব, law of the sea
    সমুদ্র আইনঃ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সংজ্ঞা ও ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব

    সমুদ্র আইন হলো আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন, চুক্তি এবং প্রথার সমষ্টি, যা বিশ্বের সাগর ও মহাসাগরগুলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোনো একক দেশের আইন নয়, বরং জাতিসংঘের মাধ্যমে স্বীকৃত একটি আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো।

    ৭১১ খ্রিস্টাব্দের বসন্তকালে (রজব মাস, ৯২ হিজরি) তারিক বিন জিয়াদ প্রায় ৭,০০০ বারবার সৈন্যের একটি বাহিনী নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেন।
    তারিক বিন জিয়াদঃ স্পেন বিজয়ী মুসলিম সেনাপতির জীবনী

    তারিক বিন জিয়াদ ছিলেন আন্দালুসিয়া বিজয়ের মহানায়ক। জানুন ৭১১ সালে তার স্পেন অভিযান, জাহাজ পোড়ানোর ঘটনা এবং গুয়াদালেতের যুদ্ধের রোমাঞ্চকর ইতিহাস।

    স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাসঃ ইউরোপে ৮০০ বছরের গৌরবময় উপাখ্যান
    স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাসঃ ইউরোপে ৮০০ বছরের গৌরবময় উপাখ্যান

    ইউরোপের ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, মধ্যযুগে যখন পুরো মহাদেশটি কুসংস্কার, অপরিচ্ছন্নতা আর অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, ঠিক তখনই আইবেরীয় উপদ্বীপ বা স্পেনের বুকে জ্বলে উঠেছিল এক অনন্য সভ্যতার মশাল। মুসলমানরা এই ভূখণ্ডের নাম দিয়েছিল ‘আল-আন্দালুস’।

    মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজ যে উত্তেজনায় ভরা, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিলিস্তিনি সংকট এবং আব্রাহাম চুক্তি নামের এক পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক প্যাকেজ।
    ফিলিস্তিনি সংকট ও আব্রাহাম চুক্তিঃ সমালোচনা, সুফল ও বাস্তবতা

    মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজ যে উত্তেজনায় ভরা, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিলিস্তিনি সংকট এবং আব্রাহাম চুক্তি নামের এক পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক প্যাকেজ।

    পি আর পদ্ধতি কী — ধরন, সুবিধা-অসুবিধা ও বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রাসঙ্গিকতা (1)
    পি আর পদ্ধতি কী — ধরন, সুবিধা-অসুবিধা ও বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রাসঙ্গিকতা

    পি আর পদ্ধতি হলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন ব্যবস্থা। পি আর পদ্ধতির ধরন, সুবিধা, অসুবিধা বিবেচনায় বাংলাদেশে পি আর পদ্ধতি প্রাসঙ্গিক কি না প্রশ্ন উঠেছে।

    এই আর্টিকেলগুলিও আপনি পড়তে পারেন

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয় কি বাংলাদেশের জন্য নতুন হুমকি, নাকি পুরোনো শোষণের নগ্ন রূপ?

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সাউথ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির আসল অংক কী? বাংলাদেশ কি শুধুই ভারতের ডাম্পিং গ্রাউন্ড?

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয়ের মাত্র দুই বছর পর, বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আরেকটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ২০১৪ সালের ৭ জুলাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিটেশন (PCA) এই রায় ঘোষণা করে।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?

    পশ্চিমা মিডিয়ার শেখানো বুলি ভুলে গিয়ে একবার মানচিত্রের দিকে তাকান। মধ্যপ্রাচ্যের এই অন্তহীন রক্তপাতের আড়ালে আসলে চলছে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের লাইফলাইন—’হরমুজ প্রণালী’ নিয়ন্ত্রণের এক নোংরা স্নায়ুযুদ্ধ।

    নিয়মিত আর্টিকেল পেতে

    সাবস্ক্রাইব করুন

    Scroll to Top