মেরুনপেপার — Header

পশতুনিস্তান সমস্যা ও সমাধান

আন্তর্জাতিক সমস্যাগুলোর মধ্যে পশতুনিস্তান সমস্যা অন্যতম যা গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশক থেকে আজও অমিমাংসিত অবস্থায় বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে। পশতুনিস্তান, পাকতুনিস্তান নামেও পরিচিত যার অর্থ “পশতুদের দেশ”।
পশতুনিস্তান সমস্যা, পাকতুনিস্তান, Pashtunistan. (2022, October 22). In Wikipedia. https://en.wikipedia.org/wiki/Pashtunistan

আন্তর্জাতিক সমস্যাগুলোর মধ্যে পশতুনিস্তান সমস্যা অন্যতম যা গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশক থেকে আজও অমিমাংসিত অবস্থায় বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে। পশতুনিস্তান, পাকতুনিস্তান নামেও পরিচিত যার অর্থ “পশতুদের দেশ”। এটি  ভাষীর জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের কিছু অঞ্চল নিয়ে গঠিত একটি ঐতিহাসিক ভৌগোলিক অঞ্চল। ইংরেজরা ভারতবর্ষ ছেড়ে যাওয়ার পর ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয় এবং এর পরই পশতু ভাষাভাষী অঞ্চলের সার্বভৌমত্বের দাবি নিয়ে আফগানদের সাথে পাকিস্তানের সীমান্ত বিরোধ শুরু হয়। এটিই পশতুনিস্তান বা পাকতুনিস্তান সমস্যা।

পশতুনিস্তান সমস্যা

আহম্মদ শাহ আবদালী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আফগান রাজ্য ও ভারতের সীমানা নির্ধারিত ছিলনা। কিন্তু ব্রিটিশরা ভারতীয় উপমহাদেশে আগমনের পরই আফগানিস্তানের সীমানা নির্ধারণ অতীব জরুরী হয়ে পড়ে কেননা তখন ব্রিটিশদের ক্ষমতা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় ঈঙ্গ-আফগান যুদ্ধের পর ১৮৯৩ সালে আফগানিস্তান ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত রেখা নির্ধারিত হয় যা ডুরাল্ড লাইন নামে পরিচিত। ১৮৯৩ সালে স্যার মার্টিমার ডুরাল্ড এবং আব্দুর রহমানের মধ্যকার চুক্তি অনুসারে ডুরাল্ড লাইনের দক্ষিণাঞ্চল তথা চিত্রল ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত (দিরত্রির, সওয়াত ও রাজাউর অঞ্চল) এবং বেলুচিস্তান পাঠান এলাকা ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে আসে।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা ভারত ত্যাগকালে আফগান সীমান্তে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয় এবং উত্তরাধিকারসূত্রে ডুরাল্ড লাইনের দক্ষিণাঞ্চলের মালিকানা লাভ করে পাকিস্তান। কিন্তু এতে সৃষ্টি হয় এক নতুন বিপত্তির। আফগানরা এর চরম বিরোধিতা শুরু করে, তাদের দাবী যেহেতু ব্রিটিশরা উক্ত অঞ্চলসমূহ জোড়পূর্বক আফগানদের নিকট থেকে দখল করেছে সেহেতু ব্রিটিশদের ভারত ত্যাগের পর উক্ত অঞ্চল থাকবে শুধুই আফগানদের অধীনে নতুবা উক্ত অঞ্চল জন্মলাভ করবে এক নতুন রাষ্ট্র হিসেবে যার নাম হবে “পাকতুনিস্তান”। কিন্তু পাকিস্তান তাদের এ দাবী মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় আর এতে করেই উভয়ের মাঝেই সৃষ্টি হয় এক চরম উত্তেজনার। আর এভাবেই উদ্ভব ঘটে পাকতুনিস্তান সমস্যার।

পশতুনিস্তান সমস্যা, পাকতুনিস্তান, Pashtunistan. (2022, October 22). In Wikipedia. https://en.wikipedia.org/wiki/Pashtunistan

তবে, স্বাধীন পাকতুনিস্তানের দাবি সর্বপ্রথম ওঠে আফগান শাসক জহির শাহের রাজত্বকালে। ঐতিহাসিকভাবে যেহেতু উক্ত অঞ্চল পশতু ভাষাভাষীদের, সেহেতু তিনি এ অঞ্চলকে আফগানিস্তানের অংশ হিসেবে দাবি করেন এবং এর প্রেক্ষিতে গড়ে তোলেন এক আন্দোলন যা “পাকতুনিস্তান আন্দোলন” নামে পরিচিত।

মূলত এই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি ছিলেন বর্ষিয়ান লালকোর্তা নেতা আব্দুল গাফ্ফার খান। তৎকালীন ভারতের উত্তর- পশ্চিম সীমান্তে বিশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা রোধে মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতি প্রচার ও ধারণ করার জন্য তাকে সীমান্ত গান্ধী উপাধী দেয়া হয়। তিনি ওই এলাকায় একটি পাঠান রাষ্ট্র গঠন করতে চেয়েছিলেন এবং আফগান সরকার উক্ত অঞ্চলের উপর গণভোট দাবি করে কেননা তাদের মতে, কোনো রকম আলোচনা ছাড়াই ব্রিটিশ সরকার উক্ত অঞ্চল পাকিস্তানকে দিতে পারেনা। পশতু ভাষাভাষীরা পাকিস্তান না আফগানিস্তানের সাথে থাকবে এ ব্যাপারে আফগানরা গণভোটের দাবি করলেও ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক তা নাকচ করা হয়।

মরক্কোর জাতীয়তাবাদি আন্দোলন ও সুলতান মুহাম্মাদ

আফগানদের উক্ত অঞ্চলের উপর কর্তৃত্ব দাবি করার অন্যতম কারণ ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত। কেননা আফগানিস্তানের চতুর্দিকে কোনো সমুদ্র বন্দর নেই। পাকিস্তান রাষ্ট্র জন্মের পূর্বে অর্থাৎ, ১৯৪৭ সালের পূর্বে পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে আফগানদের ব্যবসা-বাণিজ্য চলতো। কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্র জন্মের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়ে আফগানরা বিরাট অসুবিধার সম্মুখীন হয়। এর সমাধানকল্পে তারা ভেবেছিল, উক্ত অঞ্চলে পাঠান রাষ্ট্র গঠিত হলে তারা সেটাকে করিডোর হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে সেজন্যই তারা পশতুনিস্তান সমস্যা তুলে ধরে কিন্তু পাকিস্তান তাতে সম্মতি জ্ঞাপন করেনি। পর্যায়ক্রমিক বেশ কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ আন্দোলন পরবর্তীতে ব্যাপক আকার ধারণ করে।

প্রথম পর্যায় (১২ আগস্ট, ১৯৪৭ সাল)

আফ্রিদি জাতির লোক Tinai Bagn এ মিলিত হয় এবং ঘোষণা দেয় তাদের মাতৃভূমির কেন্দ্রস্থলে একটি দেশ প্রতিষ্ঠার। একই সময় অন্য জায়গা Raznak এ মিলিত হয়ে ফাকিরকে পাকতুনিস্তানের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন। এতে করে এই সমস্যা আরো প্রকট রূপ ধারণ করে। পাকিস্তান সরকার ফাকিরসহ আরো অনেক বিদ্রোহী নেতাকে গ্রেফতার করেন।

দ্বিতীয় পর্যায় (১৯৫৩ সাল)

দাউদ খানও পাঠান রাজ্য প্রতিষ্ঠার পক্ষে ছিলেন। তিনি ১৯৫৩ সালে একটি আন্দোলনও গড়ে তোলেন যার লক্ষ্য ছিল একটি স্বাধীন পাঠান রাষ্ট্র গঠন। তিনি দাবি উত্থাপন করেন যে, ” হয় পাঠানরা আফগানিস্তানের সাথে যুক্ত হবে নতুবা তারা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করবে।”

তৃতীয় পর্যায় (১৯৫৫ সাল)

১৯৫৫  সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক পাকিস্তানকে পূর্ব ও পশ্চিম এ দু’প্রদেশে ভাগ করার প্রস্তাব সংসদে পাশ করার পূর্বেই আফগান সরকার পাকিস্তানকে তীব্র নিন্দা করে। ৩০ শে মার্চ ১৫ হাজার আফগান কাবুলে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাস আক্রমণ করে, আসবাবপত্র ভাংচুর করে, পাকিস্তানি পতাকা পুড়িয়ে ফেলে শুধু তাই নয় আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানি কূটনীতিককে প্রত্যাহার করা হয় এবং পাকিস্তান থেকে আফগান কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হয়।

১৯৫৮ সালে ইরাকের সামরিক বিপ্লবের পটভূমি

পশতুনিস্তান সমস্যার সমাধান কি আদৌ হয়েছে? আসুন সে সম্পর্কেও জেনে নেওয়া যাক। এ সমস্যা সমাধানের বেশ কিছু প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হলেও আজও তার নিষ্পত্তি ঘটেনি।

  • ১৯৪৭ সালে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানে সর্বপ্রথম প্রচেষ্টা চালান আফগানিস্তানের নজিবুল্লাহ্ ও পাকিস্তানের গভর্নর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ কিন্তু তা ব্যর্থ হয়।
  • ১৯৫৫ সালে আফগান প্রধানমন্ত্রী তাদের দূতাবাসে পাকিস্তানি পতাকা উত্তোলন করেন। তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইস্কান্দার মির্জা ১৯৫৬ সালে আফগান সফরে যান। এতে করে দু’দেশের বৈরী সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। কিন্তু পরের বছর বৈরীতার পুনরাবৃত্তি ঘটে। ঐ বছর পাকিস্তান সরকার যুক্তরাষ্ট্র হতে যুদ্ধাস্ত্র আমদানী করে এতে করে বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে আফগানিস্তান। পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
  • মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান ও সৌদি আরব উক্ত সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টায় দু’দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে এগিয়ে আসে কিন্তু সেটিও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

এছাড়া ১৯৬১ সালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এম এইচ মেইনডলের প্রচেষ্টায় উক্ত সমস্যার সাময়িক উন্নতি হয়। অপরদিকে রুশ প্রেসিডেন্টও এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করেন কিন্তু কোনো সুরাহা মেলানি। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান এই সীমান্ত সমস্যা ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক সৃষ্ট ডুরাল্ড লাইনকে কেন্দ্র করেই। পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকে আজ পর্যন্ত আফগানিস্তানের সাথে এই “পাকতুনিস্তান” বা “পশতুনিস্তান” নামক সমস্যা রয়েই গেছে।

    Leave a Comment

    আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

    শেয়ার করুনঃ
    আরো আর্টিকেল পড়ুন
    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয়ের মাত্র দুই বছর পর, বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আরেকটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ২০১৪ সালের ৭ জুলাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিটেশন (PCA) এই রায় ঘোষণা করে।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট
    মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?

    পশ্চিমা মিডিয়ার শেখানো বুলি ভুলে গিয়ে একবার মানচিত্রের দিকে তাকান। মধ্যপ্রাচ্যের এই অন্তহীন রক্তপাতের আড়ালে আসলে চলছে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের লাইফলাইন—’হরমুজ প্রণালী’ নিয়ন্ত্রণের এক নোংরা স্নায়ুযুদ্ধ।

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯): আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ
    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)-এর ঘটনা, আইনি ইস্যু এবং ICJ-এর ঐতিহাসিক রায় সম্পর্কে জানুন। ইনোসেন্ট প্যাসেজ ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব অপরিসীম।

    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১২)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও আইনি বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১২)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও আইনি বিশ্লেষণ

    দীর্ঘ চার দশকের জট এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর, জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ল অফ দ্য সি (ITLOS)-এর ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ-এর শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি ঘটে।

    সমুদ্র আইনঃ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সংজ্ঞা ও ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব, law of the sea
    সমুদ্র আইনঃ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সংজ্ঞা ও ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব

    সমুদ্র আইন হলো আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন, চুক্তি এবং প্রথার সমষ্টি, যা বিশ্বের সাগর ও মহাসাগরগুলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোনো একক দেশের আইন নয়, বরং জাতিসংঘের মাধ্যমে স্বীকৃত একটি আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো।

    ৭১১ খ্রিস্টাব্দের বসন্তকালে (রজব মাস, ৯২ হিজরি) তারিক বিন জিয়াদ প্রায় ৭,০০০ বারবার সৈন্যের একটি বাহিনী নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেন।
    তারিক বিন জিয়াদঃ স্পেন বিজয়ী মুসলিম সেনাপতির জীবনী

    তারিক বিন জিয়াদ ছিলেন আন্দালুসিয়া বিজয়ের মহানায়ক। জানুন ৭১১ সালে তার স্পেন অভিযান, জাহাজ পোড়ানোর ঘটনা এবং গুয়াদালেতের যুদ্ধের রোমাঞ্চকর ইতিহাস।

    স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাসঃ ইউরোপে ৮০০ বছরের গৌরবময় উপাখ্যান
    স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাসঃ ইউরোপে ৮০০ বছরের গৌরবময় উপাখ্যান

    ইউরোপের ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, মধ্যযুগে যখন পুরো মহাদেশটি কুসংস্কার, অপরিচ্ছন্নতা আর অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, ঠিক তখনই আইবেরীয় উপদ্বীপ বা স্পেনের বুকে জ্বলে উঠেছিল এক অনন্য সভ্যতার মশাল। মুসলমানরা এই ভূখণ্ডের নাম দিয়েছিল ‘আল-আন্দালুস’।

    মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজ যে উত্তেজনায় ভরা, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিলিস্তিনি সংকট এবং আব্রাহাম চুক্তি নামের এক পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক প্যাকেজ।
    ফিলিস্তিনি সংকট ও আব্রাহাম চুক্তিঃ সমালোচনা, সুফল ও বাস্তবতা

    মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজ যে উত্তেজনায় ভরা, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিলিস্তিনি সংকট এবং আব্রাহাম চুক্তি নামের এক পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক প্যাকেজ।

    পি আর পদ্ধতি কী — ধরন, সুবিধা-অসুবিধা ও বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রাসঙ্গিকতা (1)
    পি আর পদ্ধতি কী — ধরন, সুবিধা-অসুবিধা ও বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রাসঙ্গিকতা

    পি আর পদ্ধতি হলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন ব্যবস্থা। পি আর পদ্ধতির ধরন, সুবিধা, অসুবিধা বিবেচনায় বাংলাদেশে পি আর পদ্ধতি প্রাসঙ্গিক কি না প্রশ্ন উঠেছে।

    বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধানগুলোর অন্যতম মদিনা সনদ ইসলামি রাষ্ট্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক সম্প্রীতির অনন্য ঐতিহাসিক দলিল। 
    মদিনা সনদ কীঃ মদিনা সনদের প্রধান ধারা ও বিশ্ব ইতিহাসে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ

    বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধানগুলোর অন্যতম মদিনা সনদ ইসলামি রাষ্ট্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক সম্প্রীতির অনন্য ঐতিহাসিক দলিল। 

    এই আর্টিকেলগুলিও আপনি পড়তে পারেন

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয়ের মাত্র দুই বছর পর, বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আরেকটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ২০১৪ সালের ৭ জুলাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিটেশন (PCA) এই রায় ঘোষণা করে।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?

    পশ্চিমা মিডিয়ার শেখানো বুলি ভুলে গিয়ে একবার মানচিত্রের দিকে তাকান। মধ্যপ্রাচ্যের এই অন্তহীন রক্তপাতের আড়ালে আসলে চলছে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের লাইফলাইন—’হরমুজ প্রণালী’ নিয়ন্ত্রণের এক নোংরা স্নায়ুযুদ্ধ।

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯): আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)-এর ঘটনা, আইনি ইস্যু এবং ICJ-এর ঐতিহাসিক রায় সম্পর্কে জানুন। ইনোসেন্ট প্যাসেজ ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব অপরিসীম।

    নিয়মিত আর্টিকেল পেতে

    সাবস্ক্রাইব করুন

    Scroll to Top