মেরুনপেপার

৬ দফা দাবী কীভাবে বাঙালির স্বাধীনতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল?

৬ দফা দাবি বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে ইতিহাসে অমর। এটি শুধু একটি দাবি ছিল না, এটি ছিল বাঙালির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার সুস্পষ্ট রূপরেখা।
৬ দফা দাবী কীভাবে বাঙালির স্বাধীনতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল?

১৯৬৬ সালে উত্থাপিত ৬ দফা দাবি বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি শুধু একটি দাবি ছিল না, এটি ছিল বাঙালির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার সুস্পষ্ট রূপরেখা। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা থেকে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের এই কর্মসূচি হয়ে ওঠে মুক্তি আন্দোলনের মূল ভিত্তি। ছয় দফার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের দাবিগুলো একটি সুসংগঠিত কাঠামোতে উপস্থাপিত হয়, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলনকে বেগবান করে।

৬ দফা কি?

৬ দফা দাবি বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে ইতিহাসে অমর। এর মধ্যেই নিহিত ছিল বাংলার স্বাধীনতার বীজ। তবে, ৬ দফা আকস্মিক কোনো দাবির ফল নয়। এটি ছিল দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, এবং সামরিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালির সংগ্রামের একটি স্বতঃস্ফূর্ত এবং ঐতিহাসিক প্রকাশ।

ছয় দফার পটভূমি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে উপনিবেশগুলোতে স্বাধীনতার আন্দোলন জোরালো হয়ে ওঠে। পাকিস্তানের জন্মের পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বৈষম্যের শিকার হতে থাকে—অর্থনীতি, রাজনীতি, প্রশাসন, এবং সামরিক ক্ষেত্রে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ছয় দফা দাবি একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সঙ্গত রাষ্ট্রব্যবস্থার দাবি জানায়।

৬ দফার ভিত্তি গড়ে ওঠে ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব, ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাজন, ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন, এবং ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের শাসনের পটভূমিতে। এই ঘটনাগুলোর প্রতিটি পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মাঝে শোষণের চিত্র আরও স্পষ্ট করেছে।

উপমহাদেশ বিভাজনের পর থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও পূর্ব পাকিস্তান শাসন-ব্যবস্থায় ছিল পুরোপুরি উপেক্ষিত। পশ্চিম পাকিস্তান বরাবরই পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নিয়ে নিজ অঞ্চলের উন্নয়নে ব্যয় করেছে। পাকিস্তান সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের ১৯৭০ সালের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৫০ থেকে ১৯৫৫ সালের মধ্যে পাকিস্তানের বাজেটের ৬৮.৩১ শতাংশ ব্যয় হয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তানে, যেখানে পূর্ব পাকিস্তানে মাত্র ৩১.৬৯ শতাংশ।

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর এই বৈষম্য আরও প্রকট হয়ে ওঠে। যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা কার্যত উপেক্ষিত ছিল। ১৯৬৫-৭০ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের সামগ্রিক বাজেটের মাত্র ২৮.৮৪ শতাংশ পূর্ব পাকিস্তানে ব্যয় হয়। এতে বাঙালিদের মধ্যে ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়।

শেখ মুজিবুর রহমান এই বৈষম্যের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, পূর্ব পাকিস্তানকে যুদ্ধকালীন সময়ে এতিমের মতো ফেলে রাখা হয়েছে। ভারতীয় সৈন্যরা যদি এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে হেঁটে যেত, তবুও তাদের প্রতিরোধ করার মতো অস্ত্র বা সেনাশক্তি পূর্ব বাংলায় ছিল না। যদি চীন আমাদের রক্ষাকর্তা হয়, তবে পশ্চিম পাকিস্তানের বদলে চীনের সঙ্গে গাঁটছাড়া বাঁধলেই ভালো হতো।”

এই ধরনের বৈষম্য এবং শোষণের প্রেক্ষাপটেই ৬ দফার উত্থান ঘটে। এটি শুধু রাজনৈতিক দাবি নয়; এটি ছিল বাঙালির আত্মনির্ভরশীলতা এবং শোষণমুক্ত জীবনের প্রতি এক দৃঢ় অঙ্গীকার।

এক নজরে ৬ দফা দাবিসমূহ

১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলের এক সম্মেলনে তাজউদ্দীন আহমেদকে সাথে নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান সংবাদ সম্মেলন করেন। ওই সম্মেলনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এই দাবিগুলো ছিল পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অধিকার রক্ষার একটি সুসংগঠিত কর্মসূচি। পরবর্তীতে, ২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের বাঁচার দাবিঃ ছয় দফা দাবি’ শীর্ষক পুস্তিকায় এই দাবিগুলো সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়। ছয় দফার মূল বিষয়বস্তু রাষ্ট্রের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক কাঠামোকে কেন্দ্র করে গঠিত। নিচে এই ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবির বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো:

১. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি

পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রীয় পদ্ধতির অধীনে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রাপ্তবয়স্ক ভোটারদের সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

২. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা

কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক ক্ষমতা থাকবে। অন্য সকল বিষয় প্রাদেশিক সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

৩. মুদ্রা ও আর্থিক নীতি

  • সারাদেশে অবাধে বিনিময়যোগ্য দুটি মুদ্রা চালু থাকবে, অথবা একটি অভিন্ন মুদ্রা চালু হবে, যা নির্দিষ্ট শর্তে কার্যকর থাকবে।
  • একটি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক এবং দুটি আঞ্চলিক রিজার্ভ ব্যাংক থাকবে।

৪. রাজস্ব ও শুল্ক আদায়

প্রাদেশিক সরকার সকল প্রকার কর ও শুল্ক ধার্য এবং আদায় করার ক্ষমতা পাবে। তবে, প্রাদেশিক সরকারের সংগ্রহ করা রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেওয়ার নিয়ম থাকবে।

৫. বৈদেশিক বাণিজ্য ও মুদ্রা ব্যবস্থাপনা

প্রাদেশিক সরকার নিজের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার মালিক হবে এবং একটি নির্ধারিত অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রদান করবে।

৬. আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাহিনী গঠন

প্রাদেশিক সরকারের অধীনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা থাকবে।

ছয় দফার গুরুত্ব

ছয় দফা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের আত্মপরিচয়ের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি শুধু রাজনৈতিক দাবি নয়; এটি ছিল অর্থনৈতিক মুক্তি, সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি এক বলিষ্ঠ অঙ্গীকার। ছয় দফা দাবি পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের শোষণমুক্ত জীবনের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে নিয়ে আসে এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ তৈরি করে।

১৯৫৪ সালের নির্বাচনঃ যুক্তফ্রন্টের গঠন, বিজয় ও মুসলিম লীগের পরাজয়

১৯৬৬ সালের মার্চে আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটিতে ছয় দফা গৃহীত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিভিন্ন স্থানে জনসমর্থন গড়ে তোলার জন্য বক্তব্য দেন। দ্রুতই এই দাবিগুলো জনগণের মধ্যে গভীর সাড়া ফেলে। আতঙ্কিত আইয়ুব সরকার ছয় দফাকে রাষ্ট্রদ্রোহী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী দাবি হিসেবে আখ্যায়িত করে। এই দমননীতি জনগণের চেতনায় ছয় দফাকে আরও গভীরভাবে প্রোথিত করে।

৬ দফা দাবী কীভাবে বাঙালির স্বাধীনতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল?

নারায়ণগঞ্জ পাটকল শ্রমিকদের সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার পর ৯ই মে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। এর প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত হরতালে পাকিস্তান সরকার গুলি চালালে টঙ্গী, ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জে ১১ জন বাঙালি নিহত হন। এই ঘটনায় সারা দেশে উত্তাল বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ছয় দফার পক্ষে সৃষ্ট জাতীয় জাগরণের চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে। এই আন্দোলনের ফলে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান সরকার। এর পাশাপাশি, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ছয় দফার ওপর ভিত্তি করে ১১ দফা দাবি ঘোষণা করে, যা কৃষক ও শ্রমিকদের স্বার্থকে অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করে।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে ছয় দফা ছিল আওয়ামী লীগের প্রধান ইশতেহার। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত করে যে, ছয় দফা দাবিই ছিল বাঙালির মুক্তির প্রধান রূপরেখা।

১৯৭০ সালের নির্বাচনঃ যে নির্বাচনে পাকিস্তানের অবিচারের জবাব দিয়েছে বাংলা

ছয় দফার মাধ্যমে বাঙালি বুঝতে পারে যে পাকিস্তানের শাসন ব্যবস্থায় থেকে তাদের মুক্তি ও ন্যায্য অধিকার কখনো সম্ভব নয়। ছয় দফার প্রত্যাখ্যানই বাঙালির স্বাধীনতার আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করে। এ কারণেই ছয় দফাকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বা “ম্যাগনা কার্টা” হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ছয় দফার ওপর ভিত্তি করেই সম্ভব হয়েছিল। ছয় দফা ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ, যা জাতিকে শোষণমুক্ত ভবিষ্যতের পথে পরিচালিত করে।

    Leave a Comment

    আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

    শেয়ার করুনঃ
    আরো আর্টিকেল পড়ুন
    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়
    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয় কি বাংলাদেশের জন্য নতুন হুমকি, নাকি পুরোনো শোষণের নগ্ন রূপ?

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সাউথ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির আসল অংক কী? বাংলাদেশ কি শুধুই ভারতের ডাম্পিং গ্রাউন্ড?

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয়ের মাত্র দুই বছর পর, বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আরেকটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ২০১৪ সালের ৭ জুলাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিটেশন (PCA) এই রায় ঘোষণা করে।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট
    মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?

    পশ্চিমা মিডিয়ার শেখানো বুলি ভুলে গিয়ে একবার মানচিত্রের দিকে তাকান। মধ্যপ্রাচ্যের এই অন্তহীন রক্তপাতের আড়ালে আসলে চলছে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের লাইফলাইন—’হরমুজ প্রণালী’ নিয়ন্ত্রণের এক নোংরা স্নায়ুযুদ্ধ।

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯): আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ
    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)-এর ঘটনা, আইনি ইস্যু এবং ICJ-এর ঐতিহাসিক রায় সম্পর্কে জানুন। ইনোসেন্ট প্যাসেজ ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব অপরিসীম।

    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১২)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও আইনি বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১২)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও আইনি বিশ্লেষণ

    দীর্ঘ চার দশকের জট এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর, জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ল অফ দ্য সি (ITLOS)-এর ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ-এর শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি ঘটে।

    সমুদ্র আইনঃ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সংজ্ঞা ও ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব, law of the sea
    সমুদ্র আইনঃ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সংজ্ঞা ও ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব

    সমুদ্র আইন হলো আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন, চুক্তি এবং প্রথার সমষ্টি, যা বিশ্বের সাগর ও মহাসাগরগুলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোনো একক দেশের আইন নয়, বরং জাতিসংঘের মাধ্যমে স্বীকৃত একটি আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো।

    ৭১১ খ্রিস্টাব্দের বসন্তকালে (রজব মাস, ৯২ হিজরি) তারিক বিন জিয়াদ প্রায় ৭,০০০ বারবার সৈন্যের একটি বাহিনী নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেন।
    তারিক বিন জিয়াদঃ স্পেন বিজয়ী মুসলিম সেনাপতির জীবনী

    তারিক বিন জিয়াদ ছিলেন আন্দালুসিয়া বিজয়ের মহানায়ক। জানুন ৭১১ সালে তার স্পেন অভিযান, জাহাজ পোড়ানোর ঘটনা এবং গুয়াদালেতের যুদ্ধের রোমাঞ্চকর ইতিহাস।

    স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাসঃ ইউরোপে ৮০০ বছরের গৌরবময় উপাখ্যান
    স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাসঃ ইউরোপে ৮০০ বছরের গৌরবময় উপাখ্যান

    ইউরোপের ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, মধ্যযুগে যখন পুরো মহাদেশটি কুসংস্কার, অপরিচ্ছন্নতা আর অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, ঠিক তখনই আইবেরীয় উপদ্বীপ বা স্পেনের বুকে জ্বলে উঠেছিল এক অনন্য সভ্যতার মশাল। মুসলমানরা এই ভূখণ্ডের নাম দিয়েছিল ‘আল-আন্দালুস’।

    মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজ যে উত্তেজনায় ভরা, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিলিস্তিনি সংকট এবং আব্রাহাম চুক্তি নামের এক পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক প্যাকেজ।
    ফিলিস্তিনি সংকট ও আব্রাহাম চুক্তিঃ সমালোচনা, সুফল ও বাস্তবতা

    মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজ যে উত্তেজনায় ভরা, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিলিস্তিনি সংকট এবং আব্রাহাম চুক্তি নামের এক পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক প্যাকেজ।

    পি আর পদ্ধতি কী — ধরন, সুবিধা-অসুবিধা ও বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রাসঙ্গিকতা (1)
    পি আর পদ্ধতি কী — ধরন, সুবিধা-অসুবিধা ও বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রাসঙ্গিকতা

    পি আর পদ্ধতি হলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন ব্যবস্থা। পি আর পদ্ধতির ধরন, সুবিধা, অসুবিধা বিবেচনায় বাংলাদেশে পি আর পদ্ধতি প্রাসঙ্গিক কি না প্রশ্ন উঠেছে।

    এই আর্টিকেলগুলিও আপনি পড়তে পারেন

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয় কি বাংলাদেশের জন্য নতুন হুমকি, নাকি পুরোনো শোষণের নগ্ন রূপ?

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সাউথ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির আসল অংক কী? বাংলাদেশ কি শুধুই ভারতের ডাম্পিং গ্রাউন্ড?

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয়ের মাত্র দুই বছর পর, বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আরেকটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ২০১৪ সালের ৭ জুলাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিটেশন (PCA) এই রায় ঘোষণা করে।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?

    পশ্চিমা মিডিয়ার শেখানো বুলি ভুলে গিয়ে একবার মানচিত্রের দিকে তাকান। মধ্যপ্রাচ্যের এই অন্তহীন রক্তপাতের আড়ালে আসলে চলছে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের লাইফলাইন—’হরমুজ প্রণালী’ নিয়ন্ত্রণের এক নোংরা স্নায়ুযুদ্ধ।

    নিয়মিত আর্টিকেল পেতে

    সাবস্ক্রাইব করুন

    Scroll to Top