মেরুনপেপার — Header

বাহাত্তরের সংবিধানঃ সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস ও বৈশিষ্ট্য

জানুন বাহাত্তরের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস ও বৈশিষ্ট্যগুলি কি কি।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে জায়গা করে নেয়। কিন্তু স্বাধীনতা লাভের পর, যেকোনো নতুন রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশের সামনেও এসে দাঁড়ায় একটি মৌলিক প্রশ্ন – আমরা কীভাবে চলবো? কী নিয়ম-নীতিতে আমাদের জাতীয় জীবন গড়ে উঠবে? এই প্রশ্নেরই উত্তরে রচিত হয় বাংলাদেশের সংবিধান – আমাদের সর্বোচ্চ আইন, আমাদের জাতীয় স্বাধীনতা ও মর্যাদার রক্ষাকবচ।

সংবিধান বলতে মূলত এক ধরনের আইনকানুনের সংকলনকে বোঝায়, যা একটি দেশের শাসনব্যবস্থা, নীতি, এবং অধিকার সংক্রান্ত মৌলিক বিধান নির্ধারণ করে। সর্বপ্রথম ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়েছে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত বহুবার এই সংবিধান সংশোধিত হয়েছে। নানাভাবে চেষ্টা হয়েছে বাহাত্তরের সংবিধানকে ছিন্নভিন্ন করার। বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে বর্তমান পর্যন্ত যে সংগ্রামের ইতিহাস তা সংবিধানের পরতে পরতে লিপিবদ্ধ আছে। আজ আমরা আলোচনা করবো বাহাত্তরের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস ও বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী।

বাহাত্তরের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস

বাহাত্তরের সংবিধান পাওয়ার পূর্বের ইতিহাস আমাদের না জানলেই নয়। সংক্ষেপিত দৃষ্টিপাতে, ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ দখলদার মুক্ত হয় এবং স্বাধীন হয়। স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭০ সালের নির্বাচনের জাতীয় এবং প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিতদের মধ্যে ৪০৩ জন সদস্য নিয়ে গণপরিষদ গঠন করা হয়। একটি সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট “খসড়া সংবিধান-প্রণয়ন কমিটি” গঠিত হয়। ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ড. কামাল হোসেন খসড়া সংবিধান বিল আকারে উত্থাপন করেন। এরপরে ১৯৭২ সালের ৪ঠা নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়।

বাহাত্তরের সংবিধান
মূল সংবিধান

বাহাত্তরের সংবিধানের বৈশিষ্ট্যগুলি কি কি?

বাহাত্তরের সংবিধান বাংলাদেশের প্রথম এবং মূল সংবিধান। এই সংবিধান বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংবিধানের মতোই কতগুলো মৌলিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। সংবিধান একটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক এবং সেই দেশের জন্য একটি সার্বিক ও চুড়ান্ত দিকনির্দেশনা প্রদান করে। বাহাত্তরের সংবিধান নানা কারণে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই সংবিধানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো:

লিখিত দলিল

বাংলাদেশের সংবিধান লিখিত দলিল। এতে শাসন ব্যবস্থার নিয়ম নীতিগুলো বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ আছে এতে। ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত এবং ১৬ই ডিসেম্বর সর্বসম্মতভাবে কার্যকর হয়। এই সংবিধানে একটি প্রস্তাবনা, ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ ১১ টি ভাগ, এবং সাতটি তফসিল রয়েছে। 

সংবিধানের প্রাধান্য ও জনগণের সার্বভৌমত্ব

বাংলাদেশের সংবিধান বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন।  কোন আইন এই সংবিধানের সাথে অসামযুক্ত পূর্ণ হলে তা তত যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে বাংলাদেশের সংবিধানে জনগণের হাতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্র ক্ষমতা জনগণের ইচ্ছানুসারে প্রয়োগ করা হবে। জনগণের ভোটেই সরকার নির্বাচিত হয় এবং জনগণের কাছেই সরকার জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। 

সাক্ষী কাকে বলে? কে সাক্ষ্য দিতে পারে?

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি

বাহাত্তরের সংবিধানের প্রথম ভাগ মূলনীতির ঘোষণা সম্বলিত। এই মূলনীতিগুলো রাষ্ট্রের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ, গণকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন ইত্যাদি। 

সংসদীয় গণতন্ত্র

বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রীদের মন্ত্রিসভা সরকার পরিচালনা করে। প্রকৃত নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভাই প্রয়োগ করে। এখানে প্রধানমন্ত্রীই ক্ষমতার আসল মাথা। সরকার পরিচালনার একচ্ছত্র কর্তৃত্ব তাঁরই হাতে। প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে অন্য মন্ত্রীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। তবে সংসদের আস্থা হারিয়ে ফেললে তাকে পদত্যাগ করতে হবে, ফলে পুরো সরকার ভেঙে পড়ে।

এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা 

বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে ছোট একটি দেশ। সংবিধানের ১ অনুচ্ছেদে বাংলাদেশকে একটি একক গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই ধরনের ব্যবস্থায়, কেন্দ্রীয় সরকার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। স্থানীয় সরকারগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে কাজ করে এবং কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করে।

সাক্ষ্য কাকে বলে? সাক্ষ্য কত প্রকার ও কি কি?

মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা

বাহাত্তরের সংবিধানের ৩য় ভাগে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ১৮টি মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে। যেমনঃ ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সুরক্ষা, সমানাধিকার, বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শিক্ষার অধিকার, সম্পত্তির অধিকার ইত্যাদি। সংবিধানে এসব অধিকার ভোগ ও প্রয়োগের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র এই অধিকার রক্ষা করতে বাধ্য এবং কেউ এই অধিকার লঙ্ঘন করতে পারে না। মৌলিক অধিকারের বিধানাবলীর সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোন আইন কর্তৃপক্ষ প্রণয়ন করিতে পারবে না এবং অনুরূপ কোন আইন প্রণয়ন করা হলে তা অসামঞ্জস্যতার মাত্রানুযায়ী বাতিল হবে। তবে যখন প্রয়োজন হয় তখন সংবিধান অনুযায়ী এসব অধিকারের উপর প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে।

আইনসভা 

সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদে আইনসভার গঠন, কার্যাবলী এবং ক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত বিধান রয়েছে। জাতীয় সংসদ এককক্ষ বিশিষ্ট এবং এর সদস্যরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। শুরুতে এই সংসদের আসন সংখ্যা ছিল ৩১৫টি, কিন্তু বর্তমানে এর আসন সংখ্যা ৩৫০টি।

স্বাধীন বিচার বিভাগ

বাহাত্তরের সংবিধান বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে দুইভাবে। প্রথমত, প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতি নিয়োগ করা হবে বলে বিধান করা হয়েছিল। অধস্তন বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের বিষয়টিও সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে প্রয়োগ করার কথা ছিল। দ্বিতীয়ত, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জাতীয় সংসদ সদস্যদের গৃহীত প্রস্তাবে রাষ্ট্রপতির আদেশ ব্যতীত একজন বিচারপতিকে তার পদ থেকে অপসারণ করা যাবে না। আবার অধস্তন বিচারপতিদের চাকরির জামানত সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল।

What are Legal Rights? Its Essentials and Classification

সুপ্রিম কোর্ট

সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত। এটি সংবিধানের অভিভাবক ও রক্ষক এবং জনগণের মৌলিক অধিকারের রক্ষক। সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ারের ক্ষেত্রফল তিনটি বিভাগে বিভক্ত- মূল এখতিয়ার, আপিল এখতিয়ার এবং রিট এখতিয়ার।

দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান

সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত। সংবিধান সংশোধন করতে কমপক্ষে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে পাস করা যেতে পারে। তবে, মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

মালিকানা নীতি

বাহাত্তরের সংবিধানের ১৩ নং অনুচ্ছেদে মালিকানা নীতি বর্ণিত হয়েছে। এই নীতি অনুসারে, উৎপাদন যন্ত্র, উৎপাদন ব্যবস্থা ও বন্টন প্রণালীসমূহের মালিক বা নিয়ন্ত্রক হবে জনগণ। রাষ্ট্র এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য আইন প্রণয়ন করবে এবং প্রয়োজনে জনগণের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করবে। বাংলাদেশের সংবিধানে মালিকানার তিনটি প্রধান ধরণ স্বীকৃত হয়েছে যথাঃ রাষ্ট্রীয় মালিকানা, সমবায় মালিকানা ও ব্যক্তিগত মালিকানা।

 নাম সর্বস্ব রাষ্ট্রপতি

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হলেও তিনি নামমাত্র সাংবিধানিক প্রধান। তিনি জাতীয় সংসদের  সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হন। তিনি পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। তিনি একাধিকবার নির্বাচিত হতে পারেন। পদত্যাগ করতে চাইলে তাকে সংসদে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়।

What is Judicial Review? How does it shape the Law and Society?

সর্বজনীন ভোটাধিকার

বাহাত্তরের সংবিধানে বাংলাদেশের নাগরিকদের সর্বজনীন ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ধর্ম নির্বিশেষে ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব সকল নাগরিকের ভোটাধিকার রয়েছে। তা ছাড়া বাংলাদেশে অনুসৃত মূল ধারণাটি হলো এক ভোট এক নীতি।

 ন্যায়পাল

সংবিধানের ৭৭ নং অনুচ্ছেদে সংসদ কর্তৃক নিযুক্ত একজন “ন্যায়পাল” বা “Ombudsman” এর ক্ষমতা প্রদানের বিধান রয়েছে। এই ন্যায়পাল মন্ত্রণালয়, সরকারি কর্মচারী বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের যেকোন কাজ সম্পর্কে তদন্ত পরিচালনা করতে পারেন। এই অনুচ্ছেদের আলোকে ১৯৮০ সালে ন্যায়পাল আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, আজও ন্যায়পাল নিয়োগ করা হয়নি।

 দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা 

বাহাত্তরের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে, জাতীয় সংসদের সদস্যরা তাদের নিজ নিজ রাজনৈতিক দলের নীতি ও কর্মসূচির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন। যদি কোন সংসদ সদস্য তার নিজস্ব রাজনৈতিক দলের নির্দেশাবলী অমান্য করে জাতীয় সংসদে ভোট দেন, তাহলে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্যপদ হারাবেন। এর অর্থ হল যে, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সদস্যদের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে এবং সংসদে তাদের ভোটকে একত্রিত করতে এই অনুচ্ছেদটি ব্যবহার করতে পারে। তবে, ৭০ অনুচ্ছেদ ব্যাপকভাবে বিতর্কিত একটি বিধান। অনেকের মতে, এই অনুচ্ছেদটি মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সংসদ সদস্যদের জবাবদিহিতার নীতি লঙ্ঘন করে।

সংবিধান একটি দেশের জন্য মৌলিক দলিল। একটি সংবিধানে সে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটে। বাহাত্তরের সংবিধান আমাদের দেশের গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার মূল ভিত্তি স্থাপন করেছে। এই সংবিধান বাংলাদেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত এবং দেশের শাসনকাঠামো সুসংহত করেছে। 

    Leave a Comment

    আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

    শেয়ার করুনঃ
    আরো আর্টিকেল পড়ুন
    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয়ের মাত্র দুই বছর পর, বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আরেকটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ২০১৪ সালের ৭ জুলাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিটেশন (PCA) এই রায় ঘোষণা করে।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট
    মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?

    পশ্চিমা মিডিয়ার শেখানো বুলি ভুলে গিয়ে একবার মানচিত্রের দিকে তাকান। মধ্যপ্রাচ্যের এই অন্তহীন রক্তপাতের আড়ালে আসলে চলছে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের লাইফলাইন—’হরমুজ প্রণালী’ নিয়ন্ত্রণের এক নোংরা স্নায়ুযুদ্ধ।

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯): আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ
    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)-এর ঘটনা, আইনি ইস্যু এবং ICJ-এর ঐতিহাসিক রায় সম্পর্কে জানুন। ইনোসেন্ট প্যাসেজ ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব অপরিসীম।

    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১২)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও আইনি বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১২)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও আইনি বিশ্লেষণ

    দীর্ঘ চার দশকের জট এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর, জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ল অফ দ্য সি (ITLOS)-এর ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ-এর শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি ঘটে।

    সমুদ্র আইনঃ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সংজ্ঞা ও ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব, law of the sea
    সমুদ্র আইনঃ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সংজ্ঞা ও ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব

    সমুদ্র আইন হলো আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন, চুক্তি এবং প্রথার সমষ্টি, যা বিশ্বের সাগর ও মহাসাগরগুলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোনো একক দেশের আইন নয়, বরং জাতিসংঘের মাধ্যমে স্বীকৃত একটি আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো।

    ৭১১ খ্রিস্টাব্দের বসন্তকালে (রজব মাস, ৯২ হিজরি) তারিক বিন জিয়াদ প্রায় ৭,০০০ বারবার সৈন্যের একটি বাহিনী নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেন।
    তারিক বিন জিয়াদঃ স্পেন বিজয়ী মুসলিম সেনাপতির জীবনী

    তারিক বিন জিয়াদ ছিলেন আন্দালুসিয়া বিজয়ের মহানায়ক। জানুন ৭১১ সালে তার স্পেন অভিযান, জাহাজ পোড়ানোর ঘটনা এবং গুয়াদালেতের যুদ্ধের রোমাঞ্চকর ইতিহাস।

    স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাসঃ ইউরোপে ৮০০ বছরের গৌরবময় উপাখ্যান
    স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাসঃ ইউরোপে ৮০০ বছরের গৌরবময় উপাখ্যান

    ইউরোপের ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, মধ্যযুগে যখন পুরো মহাদেশটি কুসংস্কার, অপরিচ্ছন্নতা আর অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, ঠিক তখনই আইবেরীয় উপদ্বীপ বা স্পেনের বুকে জ্বলে উঠেছিল এক অনন্য সভ্যতার মশাল। মুসলমানরা এই ভূখণ্ডের নাম দিয়েছিল ‘আল-আন্দালুস’।

    মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজ যে উত্তেজনায় ভরা, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিলিস্তিনি সংকট এবং আব্রাহাম চুক্তি নামের এক পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক প্যাকেজ।
    ফিলিস্তিনি সংকট ও আব্রাহাম চুক্তিঃ সমালোচনা, সুফল ও বাস্তবতা

    মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজ যে উত্তেজনায় ভরা, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিলিস্তিনি সংকট এবং আব্রাহাম চুক্তি নামের এক পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক প্যাকেজ।

    পি আর পদ্ধতি কী — ধরন, সুবিধা-অসুবিধা ও বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রাসঙ্গিকতা (1)
    পি আর পদ্ধতি কী — ধরন, সুবিধা-অসুবিধা ও বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রাসঙ্গিকতা

    পি আর পদ্ধতি হলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন ব্যবস্থা। পি আর পদ্ধতির ধরন, সুবিধা, অসুবিধা বিবেচনায় বাংলাদেশে পি আর পদ্ধতি প্রাসঙ্গিক কি না প্রশ্ন উঠেছে।

    বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধানগুলোর অন্যতম মদিনা সনদ ইসলামি রাষ্ট্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক সম্প্রীতির অনন্য ঐতিহাসিক দলিল। 
    মদিনা সনদ কীঃ মদিনা সনদের প্রধান ধারা ও বিশ্ব ইতিহাসে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ

    বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধানগুলোর অন্যতম মদিনা সনদ ইসলামি রাষ্ট্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক সম্প্রীতির অনন্য ঐতিহাসিক দলিল। 

    এই আর্টিকেলগুলিও আপনি পড়তে পারেন

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয়ের মাত্র দুই বছর পর, বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আরেকটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ২০১৪ সালের ৭ জুলাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিটেশন (PCA) এই রায় ঘোষণা করে।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?

    পশ্চিমা মিডিয়ার শেখানো বুলি ভুলে গিয়ে একবার মানচিত্রের দিকে তাকান। মধ্যপ্রাচ্যের এই অন্তহীন রক্তপাতের আড়ালে আসলে চলছে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের লাইফলাইন—’হরমুজ প্রণালী’ নিয়ন্ত্রণের এক নোংরা স্নায়ুযুদ্ধ।

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯): আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)-এর ঘটনা, আইনি ইস্যু এবং ICJ-এর ঐতিহাসিক রায় সম্পর্কে জানুন। ইনোসেন্ট প্যাসেজ ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব অপরিসীম।

    নিয়মিত আর্টিকেল পেতে

    সাবস্ক্রাইব করুন

    Scroll to Top