মেরুনপেপার — Header

প্রাচীন গৌড়ে সুলতানী আমলের স্থাপত্যকর্ম

ঐতিহাসিক নিদর্শন ও প্রত্নতত্ত্ব সম্পদে সমৃদ্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থিত। প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড়ের রাজধানী হিসেবে শিবগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও দর্শনীয় নিদর্শন হিন্দু শাসন আমলে বিশেষ করে সেন বংশের শেষ রাজাদের খননকৃত দিঘী ও সুলতানী আমলে মুসলিম সুলতানদের নির্মিত মসজিদই এ উপজেলার প্রধান ঐতিহাসিক স্থাপনা।

ঐতিহাসিক নিদর্শন ও প্রত্নতত্ত্ব সম্পদে সমৃদ্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থিত। প্রাচীন গৌড়ের রাজধানী হিসেবে শিবগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও দর্শনীয় নিদর্শন হিন্দু শাসন আমলে বিশেষ করে সেন বংশের শেষ রাজাদের খননকৃত দিঘী ও সুলতানী আমলে মুসলিম সুলতানদের নির্মিত মসজিদই এ উপজেলার প্রধান ঐতিহাসিক স্থাপনা। প্রাচীন গৌড়ে সুলতানী আমলের স্থাপত্যকর্ম সমূহের মধ্যে ছোট সোনা মসজিদ, খনিয়া দীঘি ও মসজিদ, দারাসবাড়ি মাদ্রাসা ও মসজিদ, তাহাখানা কমপ্লেক্স উল্লেখযোগ্য। এই স্থাপত্যগুলো নির্মিত হয়েছিল মূলত দেশীয় ও দিল্লির রাজকীয় স্থাপত্যরীতির সংমিশ্রণে।

প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড় বর্তমান ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল মালদা-চাপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে অবস্থিত। গঙ্গার ৪০ কিলোমিটার ভাটিতে ও মালদার ১২ কিলোমিটার দক্ষিনে এর অবস্থান ছিল। তবে ধীরে ধীরে গঙ্গার প্রবাহ শহর থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। সেন আমলে এই শহর উন্নতি লাভ করে। সেন রাজা লক্ষণের নামানুসারে এই শহরের নামকরণ করা হয়।

বাংলায় সুলতানী শাসনামলের স্থায়িত্ব ছিল ১৪, ১৫ ও ১৬ শতক জুড়ে। এসময় সুলতানি শাসকেরা অনেক ইমারত নির্মাণ করেছিলনে। তারমধ্যে গৌড়ে নির্মিত উল্লেখযোগ্য স্থাপত্যসমূহ হলোঃ

সুলতানী আমলের স্থাপত্যসমূহ

খনিয়া দিঘি মসজিদ

প্রাচীন গৌড়ে সুলতানী আমলের স্থাপত্যকর্ম সমূহের মধ্যে অন্যতম একটি নিদর্শন হলো এই খনিয়া দিঘি মসজিদ। রাজবিবি মসজিদ নামেও পরিচিত খনিয়া দিঘি মসজিদটি বর্তমান নবাবগঞ্জ জেলার প্রাচীন গৌড় নগরে অবস্থিত। মসজিদটির পূর্বদিকে রয়েছে বিশালাকৃতির একটি দিঘি যা খনিয়া দিঘি নামেই খ্যাত।

রাজবিবি মসজিদ নামেও পরিচিত খনিয়া দিঘি মসজিদটি বর্তমান নবাবগঞ্জ জেলার প্রাচীন গৌড় নগরে অবস্থিত। মসজিদটির পূর্বদিকে রয়েছে বিশালাকৃতির একটি দিঘি যা খনিয়া দিঘি নামেই খ্যাত।
খনিয়া দিঘি মসজিদ

ভূমি নকশা ও গঠনশৈলী

আয়তাকৃতির এই মসজিদটি প্রধানত ইটের দ্বারা তৈরি। পূর্বদিকে রয়েছে তিনটি খিলান পথ, এ পথ দিয়ে প্রবেশ করেই উল্টানো চারির মতো তিনটি গম্বুজ দ্বারা আচ্ছাদিত একটি বারান্দা রয়েছে যার পরিমাপ ৯×৩ মিটার। বারান্দা থেকে নামাজ গৃহে প্রবেশের জন্য তিনটি খিলানপথ রয়েছে। ৯ মিটার পার্শ্ববিশিষ্ট এই নামাজ কক্ষটি বর্গাকৃতির। নামাজঘরের উপর নির্মিত বিশাল গম্বুজটি স্কুইঞ্জ, চার প্রধান পার্শের বদ্ধ খিলান ও খিলানগুলির মধ্যবর্তী পেন্ডন্টিভ এর উপর স্থাপিত।

ইমারতের চারকোণে রয়েছে চারটি অষ্টভূজাকৃতির বুরুজ, আরও দুটি বুরুজ প্রার্থনা কক্ষ ও বারান্দার মিলিত স্থানকে চিহ্নিত করেছে। ইমারতের কার্নিশ সামান্য বক্রাকারে তৈরী। খাঁজকাটা খিলান সম্বলিত তিন মিহরাব বিশিষ্ট এই মসজিদের মধ্যবর্তী মিহবারটি পার্শ্বস্থ দুই মিহরাবের চেয়ে বড় এবং বাইরের দিকে আয়তাকারে বর্ধিত।

আরো পড়ুনঃ প্রাচীন গৌড়ে মুঘল আমলের স্থাপত্যকর্ম

অলঙ্করণ

টেরাকোটা অলঙ্করণে শোভিত এই মসজিদটির চতুর্দিকে দুটি কার্নিশপট্টির মধ্যবর্তী স্থানসমূহে রয়েছে লতাপাতার নকশাসমৃদ্ধ ক্ষুদ্রাকৃতির খিলানসারি। এর নিচে একজোড়া সমতল পট্টিবলয় লক্ষণীয় যা হীরকখন্ডাকৃতি ও বুটিদার নকশায় সজ্জিত। চার দেওয়ালের সম্মুখভাগে আছে স্পষ্টভাবে অভিক্ষিপ্ত আয়তাকার প্যানেলের দুটি সারি যা জানালার ধারণা দেয়। এর প্রত্যেকটি প্যানেল আবার স্তম্ভের উপর খাছকৃত খিলান দ্বারা অলঙ্কৃত করা হয়েছে যা ভেতরে ঝুলন্ত মোটিফ এবং স্প্যানড্রিল গোলাপ নকশা প্রদর্শন করে।

কিবলা দেওয়ালের অভ্যন্তরভাগে মূল অলঙ্করণের বেশিরভাগ এখনও অক্ষতভাবে সংরক্ষিত আছে। খোদাই করা অলঙ্কৃত স্তম্ভগুলি যার উপর মিহরাব খিলানগুলি স্থাপিত, চিরাচরিত ঝুলন্ত মোটিফ ও অন্যান্য নচশাসমূহ প্রদর্শন করে। মিহরাব খিলানগুলির স্প্যান্ড্রিল পূর্ণপ্রস্ফুটিত গোলাপ নকশায় অলঙ্কৃত। দ্রাক্ষালতার প্যাঁচানো নকশা দ্বারা চমৎকারভাবে শোভিত খিলানের আয়তাকার ফ্রেমগুলি।

দরস বাড়ি মসজিদ ও মাদ্রাসা

 দরসবাড়ি মসজিদ গৌড় লখনৌতির বাংলাদেশ অংশের মধ্যে সর্ববৃহৎ মসজিদ। এটি ছোট সোনা কোতোয়ালী দরওয়াজা রোডের পশ্চিমে মধ্যযুগীয় শহরের দরসবাড়ি এলাকায় নির্মিত। দরসবাড়ি নামটি দরসবাড়ি বা বিদ্যাপীঠ শব্দ থেকে উদ্ভুত যা একটি মাদ্রাসাকে নির্দেশ করে। মসজিদের পূর্বদিকে একটি মাদ্রাসা আছে যা একটি বড় জলাধার দ্বারা মসজিদ থেকে বিচ্ছিন্ন। মসজিদ, মাদ্রাসা ও জলাধার মিলিয়ে একটি মুসলিম শিক্ষা কমপ্লেক্সের রুপ দেওয়া হয়েছে।

দরসবাড়ি মসজিদ গৌড় লখনৌতির বাংলাদেশ অংশের মধ্যে সর্ববৃহৎ মসজিদ।
দরস বাড়ি মসজিদ ©maroonpaper

ভূমি নকশা ও গঠনশৈলী

মধ্যযুগীয় বাংলার বৈশিষ্ট্য ধারণকারী একটি জামে মসজিদ এটি, এর বাইরের ও ভেতরের দিকের পরিমাপ যথাক্রমে ৩৪মি. × ২০.৬ মি. এবং ৩০.৩ মি. ×১১.৭ মি.। মসজিদটি দুটি অংশে বিভক্ত। সম্মুখে ভেঙ্গে পড়া বারান্দা এবং পশ্চিমে মূল প্রার্থনা কক্ষ।

সম্পূর্ণ ইমারতটি পূর্ব-পশ্চিমে টানা একটি চওড়া নেভ দ্বারা বিভক্ত। মূল প্রার্থনা কক্ষের নেভের উপরের আচ্ছাদন তিনটি চৌচালা ভল্টের সাহায্যে তেরী। মসজিদের উপরে সর্বমোট চারটি চৌচালা আচ্ছাদন ও ২৪ টি গম্বুজ নির্মিত হয়েছে যার সবকটি এখন নিশ্চিহ্ন।

মসজিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বেশিষ্ট্য হলো মূল কক্ষের উত্তর-পশ্চিম কোণে অবস্থিত রাজকীয় গ্যালারি। বাইরে থেকে প্রবেশের জন্য ছিল সিঁড়িযুক্ত মঞ্চ। মসজিদের প্রতি কোণে অষ্টভূজাকৃতির বুরুজ নির্মাণ করে একে মজবুত করা হয়েছিল।

দরস বাড়ি মাদ্রাসা প্রাচীন গৌড়ে সুলতানী আমলের স্থাপত্যকর্ম maroonpaper, maroonpaper.com blog, Islamic History and Culture ইসলামের ইতিহাস,মেরুনপেপার, মেরুনপেপার ব্লগ, মেরুন পেপার
দরস বাড়ি মাদ্রাসা

অলঙ্করণ

অত্যন্ত জমকালোভাবে এই মসজিদ অলঙ্করণ করা হয়েছে। বাইরের দেয়াল বিন্যস্ত অফসেট ও ইনসেট নকশায়। এছাড়াও দেখা যায় পোড়ামাটির ফলকের প্যানেল যার মধ্যে রয়েছে ঝুলন্ত মোটিফের প্রাধান্য। ভেতরের দিকে খিলান ও পেন্ডেন্টিভগুলো ইটের গাঁথনির মাধ্যমে সজ্জিত করা হয়েছে। মিহরাবগুলির খিলান লতাগুল্ম, পত্রসম্ভার, গোলাপ, চারাগাছ ও ঝুলন্ত নকশায় সজ্জিত পোড়ামাটির ফলকের ফ্রেমের মধ্যে স্থাপিত। মসজিদের বক্র কার্নিশে ধাবমান সাড়িতে পতাকার আকারে পোড়ামাটির ফলক স্থাপনের মধ্যে রয়েছে একটি আকর্ষণীয় উদ্দেশ্য যা ঘোষণা করে মসজিদের নির্মাতা ছিলেন সেনাবাহিনীর প্রধান ও বিশ্বাসীদের নেতা আমীর-উল-মুমিনীন।

ছোট সোনা মসজিদ

ছোট সোনা মসজিদ ‘সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন’ বলে আখ্যাত। এটি বাংলার রাজধানী গৌড়-লখনৌতির ফিরোজপুর কোয়াটার্স এর তাহখানা কমপ্লেক্স থেকে অর্ধ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং কোতোয়ালী দরওয়াজা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।

ছোট সোনা মসজিদ
ছোট সোনা মসজিদ

বিশাল এক দিঘির দক্ষিণপাড়ের পশ্চিম অংশ জুড়ে এর অবস্থান। মসজিদের কিছু দূর পশ্চিমে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিপ্তর কর্তৃক কয়েক বছর পূর্বে নির্মিত একটি আধুনিক দ্বিতল গেষ্ট হাউস রয়েছে। গেষ্ট হাউস ও মসজিদের মধ্য দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে একটি আধুনিক রাস্তা চলে গেছে। মনে হয় রাস্তাটি পুরনো আমলের এবং একসময় এটি কোতোয়ালী দরওয়াজা হয়ে দক্ষিণের শহরতলীর সঙ্গে গৌড়-লখনৌতির মূল শহরের সংযোগ স্থাপন করেছিল।

ভূমি নকশা ও গঠনশৈলী

এ মসজিদের মূল ইমারত আয়তাকার এবং বাইরের দিকে উত্তর-দক্ষিণে ২৫.১ মিটার এবং পূর্ব পশ্চিমে ১৫.৯ মিটার। চারটি দেওয়ালই বাইরের দিকে এবং কিছুটা অভ্যন্তরভাগেও গ্রানাইট পাথরখন্ডের আস্তরণ শেভিত। দেশজ বৈশিষ্ট্য বহনকারী বাইরের দিকে চার কোণে চারটি বহুভুজাকৃতির বুরুজের সাহায্যে মসজিদটির কোণগুলিকে মজবুজ করা হয়েছে।মসজিদটির মধ্যবর্তীস্থলের কেন্দ্রীয় যে মিহরাবটি রয়েছে তা বাইরের দিকে উদগত।

মসজিদের পূর্বদিকের সম্মুখভাগে পাঁচটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেওয়ালে রয়েছে তিনটি করে প্রবেশদ্বার। প্রবেশদ্বার বরাবর পশ্চিম দেওয়ালের অভ্যন্তরে রয়েছে পাঁচটি অর্ধবৃত্তাকার মিহরাব। মসজিদের অভ্যন্তরে রয়েছে মোট পনেরটি ইউনিট যার মধ্যে তিনটি আয়তাকার ইউনিট চৌচালা খিলান ছাদ দ্বারা আচ্ছাদিত। বাকি বারোটি বর্গাকৃতি ইউনিটের প্রত্যেকটি উল্টানো চারির মতো গম্বুজ দ্বারা আচ্ছাদিত। ইউনিটগুলির খিলানের মধ্যবর্তী উপরের কোণগুলি গম্বুজ বসানোর উপযোগী করার জন্য করবেল পদ্ধতিতে ইটের পেন্ডন্টিভ দ্বারা বন্ধ করা হয়েছে।

একটি রাজকীয় গ্যালারিও রয়েছে যা মসজিদটির উত্তর-পশ্চিম কোণের উপরিভাগে দৃশ্যমান এবং উক্ত গ্যালারিতে প্রবেশের জন্য ঐ কোণেই রয়েছে একটি সোপানযুক্ত প্লাটফর্ম। গ্যালারির সম্মুখভাগে একটি মিহরাব রয়েছে।

অলংকরণ

মসজিদের অলংকরণের ক্ষেত্রে খোদাইকৃত পাথর, ইটের বিন্যাস, পোড়ামাটির ফলকের গিল্টি ও চকচকে টালির ব্যবহার লক্ষণীয়। তবে এগুলির মধ্যে প্রাধান্য পেয়েছে খোদায়কৃত পাথর। লতাপাতার নকশা সম্বলিত প্যানেল এবং হিন্দু আমলের শিকল ও ঘন্টার মোটিফ অনুসারে বিভিন্ন ধরনের ঝুলন্তরীতি অনুসরণ করা হয়েছে। এছাড়াও অলঙ্করণের ক্ষেত্রে আমরা গোলাপ নকশার ব্যবহারও দেখতে পাই।

গম্বুজ ও খিলান ছাদের অভ্যন্তরভাগ পোড়ামাটির ফলক দিয়ে অলঙ্কৃত তবে খিলান ছাদের অলঙ্করণ করা হয়েছে স্থানীয় কুঁড়েঘরের বাঁশের ফ্রেমের অনুকরণে। সবচেয়ে লক্ষণীয় অলঙ্করণ হলো কোণের বুরুজের খোদাইকৃত পাথরের বেষ্টনী এবং দ্বারপথ ও ফ্রেমের উপরে বসানো পাথরের কার্নিশ ও অলঙ্করণ রেখা। মসজিদের সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে তুলেছে সম্মুখের খিলানপথ ও মিহরাবের খিলানগুলি যার উভয়ই খাঁজবিশিষ্ট।

    Leave a Comment

    আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

    শেয়ার করুনঃ
    আরো আর্টিকেল পড়ুন
    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয়ের মাত্র দুই বছর পর, বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আরেকটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ২০১৪ সালের ৭ জুলাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিটেশন (PCA) এই রায় ঘোষণা করে।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট
    মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?

    পশ্চিমা মিডিয়ার শেখানো বুলি ভুলে গিয়ে একবার মানচিত্রের দিকে তাকান। মধ্যপ্রাচ্যের এই অন্তহীন রক্তপাতের আড়ালে আসলে চলছে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের লাইফলাইন—’হরমুজ প্রণালী’ নিয়ন্ত্রণের এক নোংরা স্নায়ুযুদ্ধ।

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯): আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ
    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)-এর ঘটনা, আইনি ইস্যু এবং ICJ-এর ঐতিহাসিক রায় সম্পর্কে জানুন। ইনোসেন্ট প্যাসেজ ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব অপরিসীম।

    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১২)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও আইনি বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১২)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও আইনি বিশ্লেষণ

    দীর্ঘ চার দশকের জট এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর, জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ল অফ দ্য সি (ITLOS)-এর ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ-এর শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি ঘটে।

    সমুদ্র আইনঃ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সংজ্ঞা ও ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব, law of the sea
    সমুদ্র আইনঃ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সংজ্ঞা ও ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব

    সমুদ্র আইন হলো আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন, চুক্তি এবং প্রথার সমষ্টি, যা বিশ্বের সাগর ও মহাসাগরগুলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোনো একক দেশের আইন নয়, বরং জাতিসংঘের মাধ্যমে স্বীকৃত একটি আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো।

    ৭১১ খ্রিস্টাব্দের বসন্তকালে (রজব মাস, ৯২ হিজরি) তারিক বিন জিয়াদ প্রায় ৭,০০০ বারবার সৈন্যের একটি বাহিনী নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেন।
    তারিক বিন জিয়াদঃ স্পেন বিজয়ী মুসলিম সেনাপতির জীবনী

    তারিক বিন জিয়াদ ছিলেন আন্দালুসিয়া বিজয়ের মহানায়ক। জানুন ৭১১ সালে তার স্পেন অভিযান, জাহাজ পোড়ানোর ঘটনা এবং গুয়াদালেতের যুদ্ধের রোমাঞ্চকর ইতিহাস।

    স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাসঃ ইউরোপে ৮০০ বছরের গৌরবময় উপাখ্যান
    স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাসঃ ইউরোপে ৮০০ বছরের গৌরবময় উপাখ্যান

    ইউরোপের ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, মধ্যযুগে যখন পুরো মহাদেশটি কুসংস্কার, অপরিচ্ছন্নতা আর অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, ঠিক তখনই আইবেরীয় উপদ্বীপ বা স্পেনের বুকে জ্বলে উঠেছিল এক অনন্য সভ্যতার মশাল। মুসলমানরা এই ভূখণ্ডের নাম দিয়েছিল ‘আল-আন্দালুস’।

    মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজ যে উত্তেজনায় ভরা, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিলিস্তিনি সংকট এবং আব্রাহাম চুক্তি নামের এক পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক প্যাকেজ।
    ফিলিস্তিনি সংকট ও আব্রাহাম চুক্তিঃ সমালোচনা, সুফল ও বাস্তবতা

    মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজ যে উত্তেজনায় ভরা, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিলিস্তিনি সংকট এবং আব্রাহাম চুক্তি নামের এক পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক প্যাকেজ।

    পি আর পদ্ধতি কী — ধরন, সুবিধা-অসুবিধা ও বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রাসঙ্গিকতা (1)
    পি আর পদ্ধতি কী — ধরন, সুবিধা-অসুবিধা ও বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রাসঙ্গিকতা

    পি আর পদ্ধতি হলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন ব্যবস্থা। পি আর পদ্ধতির ধরন, সুবিধা, অসুবিধা বিবেচনায় বাংলাদেশে পি আর পদ্ধতি প্রাসঙ্গিক কি না প্রশ্ন উঠেছে।

    বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধানগুলোর অন্যতম মদিনা সনদ ইসলামি রাষ্ট্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক সম্প্রীতির অনন্য ঐতিহাসিক দলিল। 
    মদিনা সনদ কীঃ মদিনা সনদের প্রধান ধারা ও বিশ্ব ইতিহাসে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ

    বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধানগুলোর অন্যতম মদিনা সনদ ইসলামি রাষ্ট্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক সম্প্রীতির অনন্য ঐতিহাসিক দলিল। 

    এই আর্টিকেলগুলিও আপনি পড়তে পারেন

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয়ের মাত্র দুই বছর পর, বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আরেকটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ২০১৪ সালের ৭ জুলাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিটেশন (PCA) এই রায় ঘোষণা করে।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?

    পশ্চিমা মিডিয়ার শেখানো বুলি ভুলে গিয়ে একবার মানচিত্রের দিকে তাকান। মধ্যপ্রাচ্যের এই অন্তহীন রক্তপাতের আড়ালে আসলে চলছে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের লাইফলাইন—’হরমুজ প্রণালী’ নিয়ন্ত্রণের এক নোংরা স্নায়ুযুদ্ধ।

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯): আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)-এর ঘটনা, আইনি ইস্যু এবং ICJ-এর ঐতিহাসিক রায় সম্পর্কে জানুন। ইনোসেন্ট প্যাসেজ ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব অপরিসীম।

    নিয়মিত আর্টিকেল পেতে

    সাবস্ক্রাইব করুন

    Scroll to Top