মেরুনপেপার — Header

নেলসন ম্যান্ডেলাঃ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের মহানায়ক

নেলসন ম্যান্ডেলার জন্ম থেকে মৃত্যু, বর্ণবাদবিরোধী সংগ্রাম, ২৭ বছরের কারাজীবন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপতি হওয়ার রোমাঞ্চকর ইতিহাস জানুন।
আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের মহানায়ক নেলসন ম্যান্ডেলা

নেলসন ম্যান্ডেলা (Nelson Mandela) শুধুমাত্র একটি নাম নয়। তিনি মানব ইতিহাসের এমন এক মহামানব যিনি প্রমাণ করেছেন যে, ঘৃণার চেয়ে ভালোবাসা এবং প্রতিশোধের চেয়ে ক্ষমা অনেক বেশি শক্তিশালী। দক্ষিণ আফ্রিকার এই অবিসংবাদিত নেতা তাঁর জীবনের ২৭টি বছর অন্ধকার কারাগারে কাটিয়েছেন শুধুমাত্র তাঁর দেশের মানুষকে বর্ণবাদের শিকল থেকে মুক্ত করার জন্য। বিশ্বজুড়ে তিনি শান্তি, সাম্য এবং গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নেলসন ম্যান্ডেলার জন্ম, শিক্ষা, বিপ্লবী জীবন, রবেন দ্বীপের কারাবাস এবং রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর উত্থানের প্রতিটি ধাপ আলোচনা করব।

১. একনজরে নেলসন ম্যান্ডেলা (Quick Facts)

পাঠকের সুবিধার্থে নেলসন ম্যান্ডেলার জীবনের প্রধান তথ্যগুলো নিচে ছক আকারে দেওয়া হলো:

তথ্যের ধরনবিবরণ
পুরো নামনেলসন রোলিহ্লাহ্লা ম্যান্ডেলা (Nelson Rolihlahla Mandela)
ডাকনামমাদিবা (Madiba), টাটা (Tata)
জন্ম১৮ জুলাই, ১৯১৮ (এমভেজো, দক্ষিণ আফ্রিকা)
মৃত্যু৫ ডিসেম্বর, ২০১৩ (জোহানেসবার্গে, বয়স ৯৫)
রাজনৈতিক দলআফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (ANC)
রাষ্ট্রপতি কাল১০ মে ১৯৯৪ – ১৪ জুন ১৯৯৯
কারাবাস২৭ বছর (১৯৬২–১৯৯০)
বিখ্যাত গ্রন্থলং ওয়াক টু ফ্রিডম (Long Walk to Freedom)
পুরস্কারনোবেল শান্তি পুরস্কার (১৯৯৩), ভারতরত্ন (১৯৯০)

২. প্রারম্ভিক জীবন ও বংশপরিচয়: এক রাজপুত্র থেকে বিপ্লবী

নেলসন ম্যান্ডেলার জন্ম ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের এমভেজো (Mvezo) নামক একটি ছোট গ্রামে। তাঁর পিতা গাদলা হেনরি মপাকানইসা ছিলেন থেম্বু রাজবংশের প্রধান পরামর্শদাতা এবং মাতা নোসেকেনি ফ্যানি ছিলেন গাদলার তৃতীয় স্ত্রী।

ম্যান্ডেলার জন্মের সময় তাঁর নাম রাখা হয়েছিল ‘রোলিহ্লাহ্লা’ (Rolihlahla)। জোসা (Xhosa) ভাষায় এর আক্ষরিক অর্থ হলো “গাছের ডাল ভাঙে যে”, তবে রূপক অর্থে এর মানে হলো “দুষ্টু ছেলে” বা “যে ঝামেলা পাকায়”। কে জানত, এই দুষ্টু ছেলেটিই একদিন বর্ণবাদী সরকারের ভীত নাড়িয়ে দেবেন!

মাত্র ১২ বছর বয়সে ম্যান্ডেলা তাঁর বাবাকে হারান। বাবার মৃত্যুর আগে ম্যান্ডেলাকে থেম্বু জাতির রাজপ্রতিনিধি জংগিনতাবার জিম্মায় দিয়ে যাওয়া হয়। ফলে তিনি রাজপ্রাসাদে জংগিনতাবার নিজের সন্তানের মতোই বিলাসী পরিবেশে বড় হতে থাকেন। তিনি সবসময় পূর্বপুরুষদের বীরত্বের গল্প শুনতেন। ধীরে ধীরে এসব গল্পই তার মনে দেশপ্রেমের বীজ বপন করেছিল।

৩. শিক্ষা ও জোহানেসবার্গে পলায়ন

ম্যান্ডেলা ছিলেন তাঁর পরিবারের প্রথম সদস্য যিনি স্কুলে পড়ার সুযোগ পান। স্কুলে ভর্তির প্রথম দিন তাঁর শিক্ষিকা মিস মদিঙ্গানে আফ্রিকান প্রথা অনুযায়ী তাঁর ইংরেজি নাম রাখেন ‘নেলসন’।

উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি সেই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য একমাত্র উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান ফোর্ট হেয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে (Fort Hare University) ভর্তি হন । সেখানে তাঁর পরিচয় হয় অলিভার টাম্বোর সাথে। পরবর্তীতে  তিনি তাঁর আজীবনের বন্ধু ও সহযোদ্ধা হন। তবে ছাত্র সংসদের বিবাদে জড়িয়ে পড়ার কারণে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বাড়ি ফিরে তিনি জানতে পারেন, অভিভাবক জংগিনতাবার তাঁর এবং তাঁর কাজিন জাস্টিসের জন্য বিয়ের ব্যবস্থা করেছেন। এই জোরপূর্বক বিয়ে এড়াতে ম্যান্ডেলা ১৯৪১ সালে জোহানেসবার্গে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি প্রথমে একটি সোনার খনিতে নৈশপ্রহরীর কাজ নেন, কিন্তু পরে এক আইনি প্রতিষ্ঠানে করণিক হিসেবে যোগ দেন এবং দূরশিক্ষণের মাধ্যমে আইনের ডিগ্রি অর্জন করেন।

৪. রাজনীতিতে প্রবেশ ও এএনসি (ANC)-তে যোগদান

১৯৪০-এর দশকে জোহানেসবার্গে থাকাকালীন ম্যান্ডেলা বর্ণবাদের ভয়াবহ রূপ প্রত্যক্ষ করেন। কৃষ্ণাঙ্গদের নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যাওয়ার অনুমতি ছিল না, বাসে বা পার্কে শ্বেতাঙ্গদের সাথে বসার অধিকার ছিল না। এই অবিচার তাঁকে রাজনীতির দিকে ঠেলে দেয়।

  • ১৯৪৩: তিনি আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (ANC)-এ যোগ দেন।
  • ১৯৪৪: তিনি, অলিভার টাম্বো এবং ওয়াল্টার সিসুলু মিলে ‘ANC ইয়ুথ লিগ’ গঠন করেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল এএনসি-কে একটি গণমুখী আন্দোলনে রূপান্তর করা।
  • ১৯৪৮: ন্যাশনাল পার্টি ক্ষমতায় আসে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অ্যাপার্টহাইড’ (Apartheid) বা বর্ণবাদ নীতি চালু করে।

ম্যান্ডেলা প্রথমে মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতির দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। ১৯৫২ সালে তিনি ‘ডিফায়েন্স ক্যাম্পেইন’ (Defiance Campaign) বা আইন অমান্য আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। এই সময়ে হাজার হাজার কৃষ্ণাঙ্গ স্বেচ্ছায় বর্ণবাদী আইন ভঙ্গ করে জেলে যান। ম্যান্ডেলার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং সরকার তাঁকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত করে।

৫. সশস্ত্র সংগ্রাম ও ‘উমখন্তো উই সিজওয়ে’ গঠন

১৯৬০ সালে শার্পভিল শহরে শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৬৯ জন কৃষ্ণাঙ্গকে হত্যা করে। এই ঘটনা শার্পভিল গণহত্যা নামে পরিচিত। এরপর সরকার এএনসি-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

ম্যান্ডেলা বুঝতে পারেন, শুধুমাত্র অহিংসা দিয়ে এই নিষ্ঠুর শাসনকে পরাস্ত করা যাবে না। তিনি বলেন:

নেলসন ম্যান্ডেলা: বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের মহানায়ক ও দক্ষিণ আফ্রিকার মুক্তিদাতা

“সরকারের আক্রমণ যখন বন্য হয়ে ওঠে, তখন আত্মরক্ষার জন্য আমাদেরও অস্ত্র তুলে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।”

১৯৬১ সালে ম্যান্ডেলা আত্মগোপনে চলে যান এবং এএনসি-র সশস্ত্র শাখা ‘উমখন্তো উই সিজওয়ে’ (Umkhonto we Sizwe) বা “জাতির বল্লম” প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন এর প্রধান কমান্ডার। তিনি ছদ্মবেশে আলজেরিয়া, ইথিওপিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন এবং গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেন। তাঁকে সেই সময় গণমাধ্যম “ব্ল্যাক পিম্পারনেল” (The Black Pimpernel) নামে ডাকত কারণ তিনি পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে চলাফেরা করতে পারদর্শী ছিলেন।

৬. রিভোনিয়া ট্রায়াল ও ঐতিহাসিক ভাষণ

১৯৬২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফেরার পর সিআইএ (CIA)-এর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ম্যান্ডেলাকে গ্রেপ্তার করে। প্রথমে তাঁকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পুলিশ এএনসি-র গোপন আস্তানা লিলিসলিফ ফার্মে অভিযান চালিয়ে অনেক নথি উদ্ধার করে এবং ম্যান্ডেলাসহ অন্যান্য নেতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহিতা ও অন্তর্ঘাতের অভিযোগ আনে। এটি ইতিহাসে ‘রিভোনিয়া ট্রায়াল’ (Rivonia Trial) নামে পরিচিত।

১৯৬৪ সালের ২০ এপ্রিল, আদালতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ম্যান্ডেলা তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণটি দেন। তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন না করে সরকারের বিচার করেন। তাঁর ভাষণের শেষ কথাগুলো ছিল:

“আমি শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, এবং আমি কৃষ্ণাঙ্গ আধিপত্যের বিরুদ্ধেও লড়াই করেছি। আমি এমন এক গণতান্ত্রিক ও মুক্ত সমাজের স্বপ্ন দেখি যেখানে সকল মানুষ শান্তিতে এবং সমান সুযোগ নিয়ে বসবাস করবে। এটি এমন এক আদর্শ যার জন্য আমি বাঁচতে চাই এবং যা আমি অর্জন করতে চাই। কিন্তু প্রয়োজন হলে, এই আদর্শের জন্য আমি মরতেও প্রস্তুত।”

৭. রবেন দ্বীপে ২৭ বছরের কারাজীবন: কয়েদি নম্বর ৪৬৬/৬৪

১৯৬৪ সালের ১২ জুন ম্যান্ডেলাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁকে পাঠানো হয় কুখ্যাত রবেন আইল্যান্ড (Robben Island) কারাগারে।

  • কয়েদি নম্বর: ৪৬৬/৬৪ (অর্থাৎ ১৯৬৪ সালের ৪৬৬ তম কয়েদি)।
  • কারাগারের অবস্থা: তাঁকে একটি মাত্র ৭ ফুট বাই ৮ ফুটের স্যাঁতসেঁতে সেলে রাখা হতো। শোয়ার জন্য দেওয়া হতো শুধু একটি মাদুর।
  • কাজ: প্রতিদিন সকালে কনকনে শীতে তাঁকে চুনাপাথরের খনিতে পাথর ভাঙার কাজ করতে হতো। দীর্ঘকাল এই কাজ করার ফলে তাঁর চোখের দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
  • যোগাযোগ: তাঁকে প্রতি ৬ মাসে মাত্র একটি চিঠি লেখা এবং একটি দর্শনার্থীর সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হতো।

রবেন দ্বীপে ১৮ বছর কাটানোর পর, ১৯৮২ সালে তাঁকে পোলসমুর কারাগারে এবং পরে ১৯৮৮ সালে ভিক্টর ভার্স্টার কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। কারাগারে থাকাকালীন তিনি যক্ষ্মায় আক্রান্ত হন। তবুও তিনি মনোবল হারাননি। জেল থেকেই তিনি গোপনে আন্দোলনের নির্দেশনা দিতেন। বিশ্বজুড়ে “ফ্রি ম্যান্ডেলা” (Free Mandela) আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।

৮. মুক্তি এবং বর্ণবাদের অবসান

আন্তর্জাতিক চাপ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনীতির ধসের মুখে তৎকালীন শ্বেতাঙ্গ রাষ্ট্রপতি এফ. ডব্লিউ. ডি ক্লার্ক (F. W. de Klerk) এএনসি-র ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন।

অবশেষে, ১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি, দীর্ঘ ২৭ বছর পর নেলসন ম্যান্ডেলা ভিক্টর ভার্স্টার কারাগারের গেট দিয়ে মুক্ত মানুষ হিসেবে বেরিয়ে আসেন। তাঁর মুক্তির দৃশ্যটি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ টেলিভিশনে সরাসরি দেখেছিল।

মুক্তির পর অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন যে দক্ষিণ আফ্রিকায় রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ শুরু হবে। কিন্তু ম্যান্ডেলা প্রতিশোধের পরিবর্তে ‘ক্ষমা ও পুনর্গঠন’-এর ডাক দেন। ১৯৯৩ সালে বর্ণবাদের শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি ঘটানোর জন্য নেলসন ম্যান্ডেলা এবং ডি ক্লার্ক যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

৯. রাষ্ট্রপতি হিসেবে ম্যান্ডেলার যুগান্তকারী পদক্ষেপ (১৯৯৪-১৯৯৯)

১৯৯৪ সালের ২৭ এপ্রিল দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমবারের মতো সকল বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এএনসি ৬২% ভোট পেয়ে জয়লাভ করে।

  • ১০ মে ১৯৯৪: নেলসন ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।
  • নতুন সংবিধান: ১৯৯৬ সালে তিনি একটি নতুন সংবিধান প্রবর্তন করেন, যা মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম সেরা সংবিধান হিসেবে বিবেচিত।
  • ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন (TRC): আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটুর নেতৃত্বে তিনি এই কমিশন গঠন করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল অতীতে ঘটে যাওয়া অপরাধগুলোর সত্য উদ্ঘাটন করা, কিন্তু শাস্তির বদলে অপরাধীদের ক্ষমা করে সমাজকে এক করা।
  • উন্নয়ন: তাঁর শাসনামলে বিদ্যুৎ, জল এবং আবাসন সুবিধা দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ‘রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ (RDP) গ্রহণ করা হয়।
  • রাগবি বিশ্বকাপ ১৯৯৫: শ্বেতাঙ্গদের প্রিয় খেলা রাগবিকে তিনি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেন, যা জাতিগত বিভেদ কমাতে বিশাল ভূমিকা রাখে।

মাত্র এক মেয়াদ (৫ বছর) শেষে, ১৯৯৯ সালে ৮১ বছর বয়সে তিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করেন, যা আফ্রিকার রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

১৯৭০ সালের নির্বাচনঃ যে নির্বাচনে পাকিস্তানের অবিচারের জবাব দিয়েছে বাংলা

১০. ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার

নেলসন ম্যান্ডেলার ব্যক্তিগত জীবন ছিল ট্র্যাজেডি এবং ত্যাগে ভরা। তিনি তিনবার বিয়ে করেন এবং তাঁর ছয়টি সন্তান ছিল।

১. ইভলিন মেস (বিয়ে ১৯৪৪–১৯৫৮): ম্যান্ডেলার প্রথম স্ত্রী। তাঁদের দুই ছেলে (থেম্বি ও মাকগাথো) এবং দুই মেয়ে (উভয়ের নাম মাকাজিওয়ে, প্রথমজন শৈশবে মারা যায়) ছিল। বড় ছেলে থেম্বি ১৯৬৯ সালে গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান, তখন ম্যান্ডেলা জেলে ছিলেন এবং তাঁকে ছেলের শেষকৃত্যে যেতে দেওয়া হয়নি।

২. উইনি মাদিকিজেলা (বিয়ে ১৯৫৮–১৯৯৬): উইনি ছিলেন বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের এক অগ্নিকন্যা। ম্যান্ডেলার কারাবাসের কঠিন দিনগুলোতে উইনিই ছিলেন তাঁর বাইরের কণ্ঠস্বর। তবে পরবর্তীতে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত মতপার্থক্যের কারণে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। তাঁদের দুই মেয়ে—জেনানি এবং জিন্দজি।

৩. গ্রাসা মাচেল (বিয়ে ১৯৯৮–২০১৩): ৮০তম জন্মদিনে ম্যান্ডেলা মোজাম্বিকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সামারা মাচেলের বিধবা স্ত্রী গ্রাসা মাচেলকে বিয়ে করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গ্রাসাই ছিলেন তাঁর সঙ্গী।

ম্যান্ডেলার ছেলে মাকগাথো ২০০৫ সালে এইডস-এ আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ম্যান্ডেলা তখন জনসমক্ষে এইডস নিয়ে কথা বলেন এবং কুসংস্কার ভাঙতে কাজ করেন।

১১. মৃত্যু ও বিশ্বজুড়ে শোক

দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের সংক্রমণে ভোগার পর, ৫ ডিসেম্বর ২০১৩ সালে জোহানেসবার্গের হটন (Houghton) এস্টেটে নিজ বাড়িতে ৯৫ বছর বয়সে নেলসন ম্যান্ডেলা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর মৃত্যুতে সারা বিশ্ব থমকে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা থেকে শুরু করে বিশ্বের তাবড় নেতারা তাঁর শেষকৃত্যে যোগ দেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় ১০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়। তাঁকে তাঁর পৈতৃক গ্রাম কুনু (Qunu)-তে সমাহিত করা হয়।

১২. নেলসন ম্যান্ডেলার সেরা ৫টি অমর বাণী

ম্যান্ডেলার দর্শন আমাদের জীবনে প্রতিনিয়ত অনুপ্রেরণা জোগায়। তাঁর কিছু বিখ্যাত উক্তি:

১. “শিক্ষা হলো সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র যা তুমি বিশ্বকে বদলাতে ব্যবহার করতে পারো।”

২. “ঘৃণা মনকে অন্ধকার করে দেয়। কাউকে ঘৃণা করা মানে হলো নিজে বিষ পান করে আশা করা যে আপনার শত্রু মারা যাবে।”

৩. “আমি শিখেছি যে সাহস মানে ভয়ের অনুপস্থিতি নয়, বরং ভয়ের বিরুদ্ধে বিজয়।”

৪. “যতক্ষণ না কাজটি শেষ হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেটাকে অসম্ভব মনে হয়।”

৫. “পিছন থেকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং অন্যদের বিশ্বাস করতে দেওয়া যে তারা সামনে আছে—এটিই ভালো নেতার গুণ।”

১৩. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্র: নেলসন ম্যান্ডেলা কেন জেলে গিয়েছিলেন?

উ: দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সরকারের বর্ণবাদী নীতি বা অ্যাপার্টহাইডের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁকে জেলে পাঠানো হয়েছিল।

প্র: নেলসন ম্যান্ডেলা কত বছর বয়সে মারা যান?

উ: তিনি ৯৫ বছর বয়সে মারা যান।

প্র: ম্যান্ডেলা দিবস কবে এবং কেন পালন করা হয়?

উ: প্রতি বছর ১৮ জুলাই ম্যান্ডেলা দিবস পালন করা হয়। তিনি তাঁর জীবনের ৬৭ বছর মানুষের সেবায় ব্যয় করেছেন, তাই এই দিনে মানুষকে অন্তত ৬৭ মিনিট অন্যের সেবায় ব্যয় করতে উৎসাহিত করা হয়।

প্র: ম্যান্ডেলার আত্মজীবনীর নাম কী?

উ: ‘লং ওয়াক টু ফ্রিডম’ (Long Walk to Freedom), যা ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।

প্র: ম্যান্ডেলা কি ভারতের সর্বোচ্চ সম্মান পেয়েছেন?

উ: হ্যাঁ, তিনিই প্রথম অ-ভারতীয় হিসেবে ১৯৯০ সালে ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘ভারতরত্ন’ লাভ করেন।

উপসংহার

নেলসন ম্যান্ডেলা আমাদের শিখিয়েছেন যে মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে কোনো কারাগারের দেয়ালই টিকতে পারে না। তিনি শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিশ্ববিবেকের কণ্ঠস্বর। আজকের এই সংঘাতপূর্ণ পৃথিবীতে ম্যান্ডেলার ‘রেইনবো নেশন (Rainbow Nation) বা রংধনু জাতির স্বপ্ন—যেখানে সব ধর্মের ও বর্ণের মানুষ মিলেমিশে থাকবে—তা আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক।

এই মহান নেতার জীবনী যদি আপনাকে অনুপ্রাণিত করে থাকে, তবে আর্টিকেলটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এবং কমেন্টে জানান ম্যান্ডেলার কোন গুণটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে।

তথ্যসূত্র ও কৃতজ্ঞতা:

    Leave a Comment

    আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

    শেয়ার করুনঃ
    আরো আর্টিকেল পড়ুন
    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয়ের মাত্র দুই বছর পর, বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আরেকটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ২০১৪ সালের ৭ জুলাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিটেশন (PCA) এই রায় ঘোষণা করে।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট
    মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?

    পশ্চিমা মিডিয়ার শেখানো বুলি ভুলে গিয়ে একবার মানচিত্রের দিকে তাকান। মধ্যপ্রাচ্যের এই অন্তহীন রক্তপাতের আড়ালে আসলে চলছে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের লাইফলাইন—’হরমুজ প্রণালী’ নিয়ন্ত্রণের এক নোংরা স্নায়ুযুদ্ধ।

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯): আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ
    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)-এর ঘটনা, আইনি ইস্যু এবং ICJ-এর ঐতিহাসিক রায় সম্পর্কে জানুন। ইনোসেন্ট প্যাসেজ ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব অপরিসীম।

    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১২)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও আইনি বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১২)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও আইনি বিশ্লেষণ

    দীর্ঘ চার দশকের জট এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর, জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ল অফ দ্য সি (ITLOS)-এর ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ-এর শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি ঘটে।

    সমুদ্র আইনঃ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সংজ্ঞা ও ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব, law of the sea
    সমুদ্র আইনঃ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সংজ্ঞা ও ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব

    সমুদ্র আইন হলো আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন, চুক্তি এবং প্রথার সমষ্টি, যা বিশ্বের সাগর ও মহাসাগরগুলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোনো একক দেশের আইন নয়, বরং জাতিসংঘের মাধ্যমে স্বীকৃত একটি আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো।

    ৭১১ খ্রিস্টাব্দের বসন্তকালে (রজব মাস, ৯২ হিজরি) তারিক বিন জিয়াদ প্রায় ৭,০০০ বারবার সৈন্যের একটি বাহিনী নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেন।
    তারিক বিন জিয়াদঃ স্পেন বিজয়ী মুসলিম সেনাপতির জীবনী

    তারিক বিন জিয়াদ ছিলেন আন্দালুসিয়া বিজয়ের মহানায়ক। জানুন ৭১১ সালে তার স্পেন অভিযান, জাহাজ পোড়ানোর ঘটনা এবং গুয়াদালেতের যুদ্ধের রোমাঞ্চকর ইতিহাস।

    স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাসঃ ইউরোপে ৮০০ বছরের গৌরবময় উপাখ্যান
    স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাসঃ ইউরোপে ৮০০ বছরের গৌরবময় উপাখ্যান

    ইউরোপের ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, মধ্যযুগে যখন পুরো মহাদেশটি কুসংস্কার, অপরিচ্ছন্নতা আর অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, ঠিক তখনই আইবেরীয় উপদ্বীপ বা স্পেনের বুকে জ্বলে উঠেছিল এক অনন্য সভ্যতার মশাল। মুসলমানরা এই ভূখণ্ডের নাম দিয়েছিল ‘আল-আন্দালুস’।

    মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজ যে উত্তেজনায় ভরা, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিলিস্তিনি সংকট এবং আব্রাহাম চুক্তি নামের এক পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক প্যাকেজ।
    ফিলিস্তিনি সংকট ও আব্রাহাম চুক্তিঃ সমালোচনা, সুফল ও বাস্তবতা

    মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজ যে উত্তেজনায় ভরা, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিলিস্তিনি সংকট এবং আব্রাহাম চুক্তি নামের এক পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক প্যাকেজ।

    পি আর পদ্ধতি কী — ধরন, সুবিধা-অসুবিধা ও বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রাসঙ্গিকতা (1)
    পি আর পদ্ধতি কী — ধরন, সুবিধা-অসুবিধা ও বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রাসঙ্গিকতা

    পি আর পদ্ধতি হলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন ব্যবস্থা। পি আর পদ্ধতির ধরন, সুবিধা, অসুবিধা বিবেচনায় বাংলাদেশে পি আর পদ্ধতি প্রাসঙ্গিক কি না প্রশ্ন উঠেছে।

    বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধানগুলোর অন্যতম মদিনা সনদ ইসলামি রাষ্ট্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক সম্প্রীতির অনন্য ঐতিহাসিক দলিল। 
    মদিনা সনদ কীঃ মদিনা সনদের প্রধান ধারা ও বিশ্ব ইতিহাসে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ

    বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধানগুলোর অন্যতম মদিনা সনদ ইসলামি রাষ্ট্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক সম্প্রীতির অনন্য ঐতিহাসিক দলিল। 

    এই আর্টিকেলগুলিও আপনি পড়তে পারেন

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয়ের মাত্র দুই বছর পর, বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আরেকটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ২০১৪ সালের ৭ জুলাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিটেশন (PCA) এই রায় ঘোষণা করে।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?

    পশ্চিমা মিডিয়ার শেখানো বুলি ভুলে গিয়ে একবার মানচিত্রের দিকে তাকান। মধ্যপ্রাচ্যের এই অন্তহীন রক্তপাতের আড়ালে আসলে চলছে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের লাইফলাইন—’হরমুজ প্রণালী’ নিয়ন্ত্রণের এক নোংরা স্নায়ুযুদ্ধ।

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯): আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)-এর ঘটনা, আইনি ইস্যু এবং ICJ-এর ঐতিহাসিক রায় সম্পর্কে জানুন। ইনোসেন্ট প্যাসেজ ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব অপরিসীম।

    নিয়মিত আর্টিকেল পেতে

    সাবস্ক্রাইব করুন

    Scroll to Top