মেরুনপেপার — Header

ঠগীঃ ব্রিটিশ ভারতের নীতিবান খুনী

অন্ধকারের ত্রাস ঠগীরা দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়াতো ভারত জুড়ে। প্রধানত বড় বড় সড়কগুলোতে ডাকাতদের মত সংঘবদ্ধভাবে তারা কাজ করত। তাদের শিকার ছিল একা পথচারী, ব্যবসায়ী বা তীর্থযাত্রী। কিছু হিসেব অনুযায়ী ১৭৪০ সাল থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত ভারতজুড়ে ঠগীরা ১০ লক্ষের বেশি মানুষ হত্যা করেছিল যদি ঠগীদের ইতিহাসের শুরু আঠারো শতক ধরা হয়।
অন্ধকারের ত্রাস ঠগীরা দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়াতো ভারত জুড়ে। কিছু হিসেব অনুযায়ী

প্রাচীন কাল থেকেই ভারত নানা কারণে সারাবিশ্বে সুপরিচিত ছিল। এ অঞ্চলের টানে ভাস্কো দ্য গামা কিংবা কলম্বাস ছুটে বেরিয়েছেন। কেউ এসে পৌছেছেন কিংবা কেউ বা ভারতকে খুঁজতে পথ ভুলে অন্যদেশে পৌছেছেন। ভারতে পশ্চিমাদের আগমনের আগেই মুসলিম শাষকদের আগমন ঘটেছিল। তারা ভারতবর্ষ শাসন করেছেন শত শত বছর ধরে। বৈচিত্রময় ভারতের ইতিহাস পরতে পরতে অসংখ্য ঘটনায় ঠাসা। এমন গৌরবজ্জল বৈচিত্রের ফাক-ফোকরে বিভিষিকাময় কালিমারও অভাব ছিল না। এমনই এক অন্ধকারের প্রতীক হলো ঠগ বা ঠগী ।

অন্ধকারের ত্রাস ঠগীরা দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়াতো ভারত জুড়ে। প্রধানত বড় বড় সড়কগুলোতে ডাকাতদের মত সংঘবদ্ধভাবে তারা কাজ করত। তাদের শিকার ছিল একা পথচারী, ব্যবসায়ী বা তীর্থযাত্রী। কিছু হিসেব অনুযায়ী ১৭৪০ সাল থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত ভারতজুড়ে ঠগীরা ১০ লক্ষের বেশি মানুষ হত্যা করেছিল যদি ঠগীদের ইতিহাসের শুরু আঠারো শতক ধরা হয়। যদি তাদের প্রতিষ্ঠা আরো আগে অর্থ্যাৎ তেরো শতক ধরা হয় তাহলে ঠগী দের হাতে নিহতের সংখ্যা আন্দাজ করা প্রায় অসম্ভব।

কারা ঠগী?

ঠগ অর্থ- ঠক বা প্রতারক বা ধূর্ত বা প্রবঞ্চক। ঠগী শব্দটি সংস্কৃত ঠগ বা স্থাগ  (Sthaags) শব্দ থেকে এসেছে। ইংরেজি থাগ Thug শব্দটি সংস্কৃত ঠগী থেকে এসেছে। হিন্দু দেবী কালীর নামে হত্যাকাণ্ডের জন্য কুখ্যাত ধর্মান্ধ ধর্মীয় গোষ্ঠীর সদস্যরাই ঠগ বা ঠগী নামে পরিচিত। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য রামাসি নামে তাদের এক বিশেষ সাংকেতিক ভাষাও ছিল। ঠগীরা খুন ও লুটতরাজকে ধর্মীয় আচার বলে বিশ্বাস করত। মধ্য , উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ভারত ও বাংলায় ঠগীরা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। ঠগীদের প্রধান তীর্থক্ষেত্র ছিল বর্তমান পশ্চিমবাংলার ’কালীঘাট’ ও বিন্ধ্যাচলের ’ভবানী মন্দির’।

ঠগী মাথায় পাগড়ী, পরনে ধুতি আর একটা হলুদ রুমাল, এই ছিল ভারতের ত্রাস ঠগীদের পোষাক পরিচ্ছদ।

মাথায় পাগড়ী, পরনে ধুতি আর একটা হলুদ রুমাল, এই ছিল ভারতের ত্রাস ঠগীদের পোষাক পরিচ্ছদ।

ঠগদের অপকর্মের শুরু কিংবা তাদের ইতিহাস সম্পর্কে ইতিহাসবিদদের মধ্য বিভেদ লক্ষ্য করা যায়। অনেক ইতিহাসবিদের মতে ঠগ বলতে আসলে ব্রিটিশদের ভারত শাসন বিস্তৃত করার একটা অজুহাতমাত্র। ভারতের রাজধানী থেকে দূরবর্তী এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্য ব্রিটিশরা ঠগদের সম্পর্কে মনগড়া-আজগুবি গল্প ছড়িয়েছে। তাদের অনেকে ঠগদের ইতিহাস ১৭৪০ সাল থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখতে চান।

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ডঃ ব্রিটিশ সভ্যতার নৃশংস উপহার

তবে ঠগদের সম্পর্কে ১৮৩৯ সালে ফিলিপ মেডোউস টেলরের উপন্যাস ‘Confessions of a Thug’এর মাধ্যমে ঠগিদের কাহিনী জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ফিলিপ টেলরের উপন্যাসটি উইলিয়াম স্লিমানের তিনটি গ্রন্থে লিখিত পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করে লেখা হয়েছে। তবে ঠগদের উপস্থিতি সম্পর্কে সর্ব প্রথম জানা যায় ১৩৫৬ সালের জিয়াউদ্দীন বারানি লিখিত ‘ফিরোজ শাহর ইতিহাস’ গ্রন্থে। সেখানে বলা হয় “১২৯০ এর দিকে সুলতানের শাসন আমলে কিছু ঠগ ধরা পরে, কেউ কেউ বলে এ সংখ্যা এক হাজার তাদের নতুন দিল্লী নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কিন্তু সুলতান তাদের একজনকেও হত্যা করেন নি বরং তাদেরকে নৌকায় তুলে ভাটির দেশে পাঠিয়ে দিতে নির্দেশ দেন যাতে তারা আর কোনদিন দিল্লীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে”।

বারানীর লেখায় ঠগদের বর্ণনা করা হয়েছে একটি সুশৃঙ্খল সসুসংগঠিত দল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা একটি সুসংগঠিত পদ্ধতিতে কাজ করে। ষোড়শ শতকের ভক্তি কবি সুরদাসও ঠগী দের কথা উল্লেখ করেছেন। পরিব্রাজক ইবনে বতুতা কলকাতা থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে ঠগী দের হাতে পড়েছিলেন। ওয়েগনার তার বই Thuggee: Banditry and the British in early nineteenth century India-এ বলেছেন, চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং ঠগীদের হাতে পড়েছিলেন। অল্পের জন্য তিনি দেবী কালীর প্রতি উৎসর্গের হাত থেকে বেঁচে গেছেন। একই রকম ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায় শিখদের গ্রন্থ জনমসাক্ষীতে। সজ্জন নামের এক দস্যু ভ্রমণকারীদের জন্য ঘর ভাড়া দিতেন। ভ্রমনকারীদের পরে তিনি হত্যা করে তাদের স্বর্বস্ব লুট করতেন এবং মরদেহ পুতে রাখতেন। ওই গ্রন্থে সজ্জনকে ঠগ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

ঠগদের সাথে স্থানীয় জমিদারদের গোপন সম্পর্ক ছিল। তারা ঠগদের প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা দিয়ে এসব হত্যাকান্ডে লেলিয়ে দিত লুন্ঠনকৃত সম্পদের একটা হিস্যার বিনিময়ে।

ঠগদের সাথে স্থানীয় জমিদারদের গোপন সম্পর্ক ছিল। তারা ঠগদের প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা দিয়ে এসব হত্যাকান্ডে লেলিয়ে দিত লুন্ঠনকৃত সম্পদের একটা হিস্যার বিনিময়ে।

৩ অক্টোবর, ১৮৩০ সালে কলকাতা লাইব্রেরি থেকে পরিচয় গোপন করে ঠগদের উপস্থিতি সম্পর্কে একটি চিঠি প্রকাশ করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, হিন্দু দেবী কালীর অনুসারী একটি দল দেবীর প্রতি ভক্তির উদ্দেশ্যে নিরীহ পথযাত্রীদের হত্যা ও তাদের লুট করছে। চিঠিতে বলা হয়, তারা কোন নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাস করে না বরং গোটা ভারত জুড়ে তাদের পদচারণা। প্রচলিত আছে এই চিঠিটা মূলত উইলিয়াম স্লিমানই বেনামে লিখেছিলেন ব্রিটিশ শাসকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য।

ডি.এফ. ম্যাকলিওডের মতে এক চিকিৎসককে হত্যা করার পর দিল্লি থেকে পালিয়ে আসা কিছু সাত উপজাতির মধ্যে ঠগীদের সুত্র পাওয়া যায়। এদের হাতে আকবরের একজন ভৃত্যও হত্যার শিকার হয়। উইলিয়াম স্লিমান লেখেন যে, ব্রিটিশপূর্ব ভারতে শাসক ও জনগণের মধ্য সামাজিক ও রাজনৈতিক দুরত্ব ছিল। এই দুরত্বের ফলে ঠগী দের উত্থান ঘটে। আবার অনেকে মনে করেন ঠগী দের এইসব কর্মকান্ডের জন্য দায়ী ব্রিটিশরা। ইতিহাসবিদ হিরালাল গুপ্তের মতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চক্রান্ত, বিশৃঙ্খলা ও নির্যাতন-নিপীড়নের ফলে ঠগদের উত্থান হয়। ট্যাক্স আদায়ে নির্যাতন-নিপীড়ন এইসব বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী। সাম্প্রতিক অনুসুন্ধানে দেখা যায় যে, ঠগদের সাথে স্থানীয় জমিদারদের গোপন সম্পর্ক ছিল। তারা ঠগদের প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা দিয়ে এসব হত্যাকান্ডে লেলিয়ে দিত লুন্ঠনকৃত সম্পদের একটা হিস্যার বিনিময়ে।

প্রাচীন গৌড়ে মুঘল আমলের স্থাপত্যকর্ম

ব্রিটিশদের নির্যাতনে তারা ঘরবাড়ি হারিয়ে ঠগীরা এই পথে পা বাড়ায়। ইতিহাসবিদ কিম এ ওয়েগনারের মতে ঠগীদের এই কর্মকান্ড ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর ভারত শাসন নীতির সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। ব্রিটিশরা ভারতে আসার আগে তারা নিজস্ব বাহিনী পরিচালনা করত। ব্রিটিশরা সব দখল করার পরে এইসব বাহিনী চাকুরী হারা হয়ে পড়ে। নিজেদের বাঁচানোর তাগিদে এবং অভাবের তাড়নায় তারা অপরাধ কর্মে জড়িয়ে পড়ে এবং ঠগ নামে পরিচিতি পায়। এই মতামত অনুযায়ী, ঐতিহাসিকভাবে ঠগীরা সংঘবদ্ধভাবে অপরাধ কর্ম শুরু না করলেও ব্রিটিশদের নির্যাতন, দমন পীড়ন ঠগীদের এসব অপকর্মে জড়ানোর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ঠগীদের ধর্মবিশ্বাস

ঐতিহাসিকভাবে ঠগীরা হিন্দু দেবতা কালীর নামে এসব হত্যাকান্ড করত। নিজেদেরকে দেবী কালীর শরীরের ঘাম থেকে জন্ম নেয়া সন্তান বলে বিশ্বাস করত তারা। ঠগী রা এই হত্যাকান্ডকে ইহলৌকিক ও পরলৌকিক দায়িত্ব বলে মনে করত। তাদের মতে ঠগরা এই হত্যাকান্ড না করলে কালী হয়ত পুরো মানবজাতিকে শেষ করে ফেলতে পারে। মানুষের রক্তই কালীর খাদ্য। যত বেশি রক্ত উটসর্গ করা হবে দেবী কালী তত বেশী খুশী হবেন। ঠগদের বিশ্বাস , দেবী কালীর নামে হত্যাকান্ডের মাধ্যমে তারা পূজা করছে। বিশ্বাস করা হয় দেবী কালী জন্ম মৃত্যু ও পূণর্জন্মের দেবী। তিনি অনিষ্টের ধ্বংস করে সত্যকে রক্ষা করেন। ঠগী দের বিশ্বাস ছিল যে তারা এসব হত্যার মাধ্যমে দেবী কালীকে পার্থিব ভাল-মন্দের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখছে। তবে ব্রিটিশদের হাতে আটোক হওয়া ঠগদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ ছিল মুসলিম, বাকিরা হিন্দু। মুসলিম ঠগরা দেবী কালীকে আল্লাহর অনুগত ভগবান মনে করত। উইলিয়াম স্লিমানের হাতে আটক এক ঠগ স্বীকারোক্তি দিয়েছিল যে, “ শ্বাসরোধ করার সময় মনে মনে আমি আল্লাহর নাম নেই যে, আল্লাহ তুমিই মালিক। আমি ভবানীকে(কালী) প্রার্থণা করিনা, পুজো করি।“ অনেকেই হিন্দু দেবী কালীকে মনে মনে ভগবান মেনে নিয়ে ঠগ-কার্যকলাপ শুরু করে।

তবে যেকেউ এইখানে প্রশ্ন তুলতেই পারে যখন কেউ তার নিজ ধর্মবিশ্বাস ছেড়ে অন্য ধর্মমতের চর্চা করে শুরু করে তখন তাকে কোন ধর্মমতের বলা চিহ্নিত করা যাবে? ব্রিটানিকার মতে, যদিও ঠগদের অপকর্মের কিছু সুত্র সাতটি মুসলিম উপজাতিকে নির্দেশ করে, হিন্দুদের ধ্বংসের দেবী কালীর উপাসক হিসাবে তাদের ধর্মীয় আচার এবং অনুশীলনে ইসলামের কোন প্রভাব দেখা যায়নি।

নীতিবান হন্তারক

ঠগীরা তাদের কর্মকান্ড পরিচালনার সময় খুব সতর্কতার সাথে বিভিন্ন নিয়ম নীতি, অনুশাসন মেনে চলত। কিভাবে তারা হত্যা করবে সে সংক্রান্ত নীতি অনুসরণ করত তারা নিয়মতোই। ঠগীদের মতে, দেবী কালী মানুষের রক্তপিয়াসী, তিনি তার ক্ষুধা মেটাতে অফুরন্ত উৎসর্গ কামনা করেন। একবার দেবী কালী এক ভয়ংকর  রাক্ষসের সাথে যুদ্ধ করছিলেন। রাক্ষস পৃথিবীর সর্বত্র ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষদেরকে জন্মাবার সাথে সাথে  ভক্ষণ করছিলেন। আর রক্তের ফোটা মাটিতে পড়ার সাথে সাথে নতুন নতুন রাক্ষসের আবির্ভূত হচ্ছে। দেবী কালী যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত। তিনি শেষমেষ দুইজন মানুষকে সৃষ্টি করলেন তাদের হাতে রুমাল দিয়ে রাক্ষসদেরকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলতে পাঠালেন। যখন তারা দুজন রাক্ষসদেরকে মেরে ফেলতে সক্ষম হলো দেবী কালী তাদেরকে তাদের পরিবারে রুমালগুলো বংশপরম্পরায় ব্যবহারের জন্য রেখে দিতে বলল যেন পরবর্তিতে তাদের সাথে অসহিষ্ণু প্রত্যেককেই খতম করে দিতে পারে। এই গল্প দিয়েই শুরু হয় ঠগী দের কার্যকলাপ। এখান থেকেই তারা হত্যার করার অনুপ্রেরণা ও শিক্ষা নেয়।

ব্রিটানিকার মতে, যদিও ঠগদের অপকর্মের কিছু সুত্র সাতটি মুসলিম উপজাতিকে নির্দেশ করে, হিন্দুদের ধ্বংসের দেবী কালীর উপাসক হিসাবে তাদের ধর্মীয় আচার এবং অনুশীলনে ইসলামের কোন প্রভাব দেখা যায়নি।

ঠগী, brandishing kali thagee
ঠগী, brandishing kali

ঠগীদের মতে, দেবী কালী মানুষের রক্তপিয়াসী, তিনি তার ক্ষুধা মেটাতে অফুরন্ত উৎসর্গ কামনা করেন।

হত্যাকান্ডের সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা নীতি হলো হত্যাকান্ডটি অবশ্যই রক্তপাতহীন হতে হবে। ঠগী রা নারী, ফকির, কবি, গায়ক ও নর্তক শ্রেণির মানুষকে তারা হত্যা করত না। তারা এদেরকে হত্যা পাপ মনে করত। প্রাচীন হিন্দু ধর্মগ্রন্থ অনুসারে ব্রাহ্মন, নারী ও শিশুদেরকে হত্যা করার চেয়ে তাদের থেকে লুট করা বড় অপরাধ মনে করা হয়। ঠগী রা এদেরকে হত্যা করা নিষিদ্ধ মনে করত। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী যারা নিম্ন পেশায় কাজ করত, অসুস্থ বা প্রতিবন্ধি  তাদের হত্যা করাও নিষিদ্ধ ছিল। যারা এইসব নিয়ম ভঙ্গ করত মনে করা হতো তারা ঐশ্বরিক শাস্তিপ্রাপ্ত এবং তাদের মৃত্যু নির্ধারণ হত তাদের ভঙ্গ করা নীতির ধরণ অনুযায়ী।

হত্যার পদ্ধতি

তারা সাধারণ পথচারী, ভ্রমনকারী বা ব্যবসায়ীর রূপ ধারণ করত। সাধারণত মাথায় পাগড়ি কিংবা সাথে কিছু পোটলা পরিধান করত। তাদের পোষাক-পরিচ্ছদ দেখে আলাদা করে চেনার কোন সুযোগ ছিল না। তারা তাদের শিকার চিহ্নিত করে হিন্দু অথবা মুসলিম সাজতো। তাদের প্রত্যেকের কাছে রুমাল থাকে দেবী কালীর অনুশাসন অনুযায়ী।

How Sikkim became a part of India?

ঠগীরা সাধারণত ১০ থেকে ২০০ জনের দল বেধে ভারত চষে বেড়াতো। এদের মধ্যে ‘জমাদার’ নামে একজন নেতা নেতৃত্ব দিতেন। দলের সদস্যদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর মত শ্রেণী ছিল যাদের কাজ শ্রেণী অনুযায়ী ভা করা। হত্যাকান্ডে প্রত্যেকেরই আলাদা আলাদা দায়িত্ব ছিল। এমনকি যারা অতিশয় বৃদ্ধ কিংবা শিশু ছিল তাদেরও দায়িত্ব ছিল। তাদের মধ্যে কেউ রাস্তায় পথচারীদের গাইড সাজতো কেউ ধর্মগুরু সাজতো কিংবা কেউ গুপ্তচরের দায়িত্বে ছিল। শিকারকে চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে আক্রমন করা ও নিশানা নিশ্চিহ্ন না করা পর্যন্ত তারা অসম্ভব রকমের দক্ষতার সাথে সুসংগঠিতভাবে কাজ করত। ঠগী দের মধ্যে সবচেয়ে পারদর্শি ও নেতাগোছের ব্যক্তিই হত্যার কাজটি করেন। একবার যে ব্যক্তি তাদের নিশানায় পড়বে তার সে আর বেঁচে ফিরতে পারতোনা।

Colored 2

গান-বাজনা, নাচে, গল্পগুজবে শিকারকে মশগুল রাখতো ঠগীরা। কেউবা সাজতো ধর্মগুরু। ধীরে ধীরে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরত শিকারকে। নেতৃত্ব দিতো জমাদার।

ছবিঃ উইকিমিডিয়া কমন্স

ঠগীদের নিশানা ছিল ধণী পর্যটক, ব্যবসায়ী কিংবা পথচারীরা। শিকারের সংখ্যা যদি ঠগীদের তুলনায় তুলনামূলক যথেষ্ট কম হয় তবেই সেই শিকারকে চিহ্নিত করে থাকে। শিকারের সাথে গল্প-গুজব করে, হাসি ঠাট্টায় শিকারের কাছে নিজেদেরকে আস্থাভাজন করত। গল্পে গল্পে তার সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতো যে কোঠায় থাকে কিংবা কেমন সম্পদ সাথে আছে বা কি করে। যদি ওই শিকার আশেপাশের স্থানীয় বাসিন্দা হয় তাহলে ঠগীরা ধরা পড়ার ভয়ে শিকারকে ছেড়ে দিতো।

অপেক্ষা শুধু উপযুক্ত সময়ের। অন্ধকার নেমে আসলেই শিকারকে ঘিরে ধরে রুমাল দিয়ে গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে ধরত।

অপেক্ষা শুধু উপযুক্ত সময়ের। অন্ধকার নেমে আসলেই শিকারকে ঘিরে ধরে রুমাল দিয়ে গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে ধরত।

ছবিঃ উইকিমিডিয়া কমন্স

সন্ধ্যায় ঠগীদের কাজ শুরু হতো। তাদের প্রত্যেকের কাছে রুমাল থাকতো। যদিও শ্বাসরোধ করে হত্যা করাই প্রধান ছিল তবে সাথে তারা তরবারি কিংবা বিষও রাখতো। তবে তাদের কাছে খুব সামান্যই অস্ত্র থাকতো। আক্রমণের আগে তারা কথাবার্তায় গল্পগুজবে শিকারকে অন্যমনস্ক রাখত। এই সুযোগে শিকারের চারপাশে বাকিরা সুচতুর ভাবে ঘিরে ধরত যাতে কেউ পেছন থেকে আক্রমণ করতে পারে। মোক্ষম সুযোগ চলে আসার সাথে সাথেই পেছন থেকে একজন শিকারের গলায় রুমাল পেছিয়ে ধরতো আর বাকিদের মধ্যে কেউ হাতগুলো পিঠমোড়া করে চেপে ধরত আর অন্য কেউ পা চেপে ধরত। শিকারের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবলমাত্র ভুক্তভোগীর টাকা পয়সা, অন্যান্য সম্পদ লুট করা হতো।

কেউ চেপে ধরত পা, কেউ চেপে ধরত হাত। আর নেতা করত মূল কাজটা। রুমাল দিয়ে শিকারের গলা পেঁচিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করত। তবে, ঠগীরা নীতিবান বলে তারা শিকারের মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে লুট করতো না।

ছবিঃ ফিলিপ মিডোস টেলরের উপন্যাস ‘ কনফেশন অফ আ থাগ 1
ছবিঃ ফিলিপ মিডোস টেলরের উপন্যাস ‘ কনফেশন অফ আ থাগ’

খুব দ্রুততা ও চতুরতার সাথে হত্যা ও লুট শেষে শিকারকে মাটিতে পুতে রাখা হতো। শিকারকে যেন কেউ চিহ্নিত করতে না পারে সেজন্য শরীরের বিভিন্ন অংশ ছিন্নভিন্ন করে একেক অংশ একেক জায়গায় মাটিতে পুতে রাখা হয়। শিকারের মৃতদেহের পশ্চাতদেহের একটা অংশ ঠগীদের কালি মন্দিরে উৎসর্গ করা হতো।

শুধুমাত্র ব্রিটিশ ভারতেই কিছু হিসেব অনুযায়ী প্রায় দশ লাখ লোককে ঠগীরা হত্যা করেছে। এই হিসেব যদি তেরো শতক থেকে করা হয় তাহলে ঠগীদের হাতে হত্যাকান্ডের সংখ্যা কত হতে পারে!

ঠগীদের দমন

ঠগীরা তাদের কার্যকলাপে দক্ষতা, সুসংগঠিত ও গোপনীয়তা বজায় রাখতো। এমনকি তারা প্রায় সবাই দিনের বেলা সবচেয়ে আইন মেনে চলা লোক সেজে চলাফেরা করত। যার কারণে তাদেরকে চিহ্নিত করা ও শাস্তির আওতায় আনা অত্যন্ত দুরূহ কাজ ছিল।

মাঝেমধ্যেই এখানে ওখানে লোকজন নিখোঁজ হতে থাকে। ব্রিটিশরা শুরুতে গুরুত্ব না দিলেও পরে ব্রিটিশরাও নিখোঁজ হতে থাকলে ব্রিটিশদের টনক নড়ে। যাইহোক, ১৮৩০ সাল থেকে ব্রিটিশরা ঠগদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো শুরু করে। ঠগদের দমনে বড় অবদান রাখেন উইলিয়াম হেনরি স্লিমান। ১৮৩৫ সালে তিনি ফিরিঙ্গি ছদ্মনামে সৈয়দ আমির আলি নামে একজন ঠগকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন এবং তাকে রাজসাক্ষী করেন। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী স্লিমান অভিযান শুরু করেন। আমির আলির অন্যতম সহযোগি বাহরামকেও গ্রেফতার করেন। বাহরাম সম্পর্কে প্রচলিত যে বাহরাম একাই ৯৩১ জন ব্যাক্তিকে হত্যা করেন। তিনি ঠগদের একদলকে দমনের অভিজ্ঞতা থেকে আরেক দলকে দমন করার ক্ষেত্রে কাজে লাগান।

আওরংবাদ জেলখানায় আটক করে রাখা হয়েছে ঠগীদের। ছবিঃ পিন্টারেস্ট

এছাড়া ১৮৩৬ সালে ঠগ আইন পাশ করা হয় ঠগদের দমন করার জন্য। ওই আইন অনুযায়ী ঠগ কার্যক্রমে জড়িত যে কেউকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডের বিধান করা হয়। তবে আইনের কোথাও ‘ঠগ’কে সংজ্ঞায়িত করা হয়নাই। এমনকি ১৮৩৫ সালে স্লিমানের নেতৃত্বে ঠগ ও ডাকাতি ডিপার্টমেন্ট চালু করা হয়। উইলিয়াম স্লিমান ১৮৩১ থেকে ১৮৩৭ সাল পর্যন্ত ৩২৬৬ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে আটক করেন, যারমধ্যে ৪১২ জনকে ফাঁসি, ৪৮৩ জন রাজসাক্ষী এবং বাকিদের কারাদন্ড প্রদান করেন। তবে ইতিহাসবিদ মাইক ড্যাশের মতে ঠগদের হত্যাকান্ডের সংখ্যা অনেক সময় বাড়িয়ে বলা হত যার পক্ষে কোন সাক্ষ্য পাওয়া যায়না। তিনি আরোও বলেন যে, আদালতে ঠগদের পক্ষে কাউকে ওকালতি করার সুযোগ দেয়া হয়নি তবে আদালত যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন বিচার পরিচালনায়।

Secular India and the Nature of its so-called Secularism

শেষ পর্যন্ত ১৮৭০ সালের দিকে ঠগবৃত্তি দমন করা সম্ভব হয়। তাদের দমনে অভিজ্ঞতার আলোকেই ভারত ১৮৭১ সালে ফৌজদারি উপজাতি আইন পায়। এখনো ভারতের রাজস্থানে ঠগীদের বংশধরদের দেখা যায় তবে তারা স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে।

    Leave a Comment

    আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

    শেয়ার করুনঃ
    আরো আর্টিকেল পড়ুন
    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয়ের মাত্র দুই বছর পর, বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আরেকটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ২০১৪ সালের ৭ জুলাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিটেশন (PCA) এই রায় ঘোষণা করে।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট
    মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?

    পশ্চিমা মিডিয়ার শেখানো বুলি ভুলে গিয়ে একবার মানচিত্রের দিকে তাকান। মধ্যপ্রাচ্যের এই অন্তহীন রক্তপাতের আড়ালে আসলে চলছে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের লাইফলাইন—’হরমুজ প্রণালী’ নিয়ন্ত্রণের এক নোংরা স্নায়ুযুদ্ধ।

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯): আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ
    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)-এর ঘটনা, আইনি ইস্যু এবং ICJ-এর ঐতিহাসিক রায় সম্পর্কে জানুন। ইনোসেন্ট প্যাসেজ ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব অপরিসীম।

    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১২)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও আইনি বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১২)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায় ও আইনি বিশ্লেষণ

    দীর্ঘ চার দশকের জট এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর, জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ল অফ দ্য সি (ITLOS)-এর ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা বিরোধ-এর শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি ঘটে।

    সমুদ্র আইনঃ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সংজ্ঞা ও ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব, law of the sea
    সমুদ্র আইনঃ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সংজ্ঞা ও ভূ-রাজনীতিতে এর গুরুত্ব

    সমুদ্র আইন হলো আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন, চুক্তি এবং প্রথার সমষ্টি, যা বিশ্বের সাগর ও মহাসাগরগুলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কোনো একক দেশের আইন নয়, বরং জাতিসংঘের মাধ্যমে স্বীকৃত একটি আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো।

    ৭১১ খ্রিস্টাব্দের বসন্তকালে (রজব মাস, ৯২ হিজরি) তারিক বিন জিয়াদ প্রায় ৭,০০০ বারবার সৈন্যের একটি বাহিনী নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেন।
    তারিক বিন জিয়াদঃ স্পেন বিজয়ী মুসলিম সেনাপতির জীবনী

    তারিক বিন জিয়াদ ছিলেন আন্দালুসিয়া বিজয়ের মহানায়ক। জানুন ৭১১ সালে তার স্পেন অভিযান, জাহাজ পোড়ানোর ঘটনা এবং গুয়াদালেতের যুদ্ধের রোমাঞ্চকর ইতিহাস।

    স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাসঃ ইউরোপে ৮০০ বছরের গৌরবময় উপাখ্যান
    স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাসঃ ইউরোপে ৮০০ বছরের গৌরবময় উপাখ্যান

    ইউরোপের ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, মধ্যযুগে যখন পুরো মহাদেশটি কুসংস্কার, অপরিচ্ছন্নতা আর অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, ঠিক তখনই আইবেরীয় উপদ্বীপ বা স্পেনের বুকে জ্বলে উঠেছিল এক অনন্য সভ্যতার মশাল। মুসলমানরা এই ভূখণ্ডের নাম দিয়েছিল ‘আল-আন্দালুস’।

    মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজ যে উত্তেজনায় ভরা, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিলিস্তিনি সংকট এবং আব্রাহাম চুক্তি নামের এক পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক প্যাকেজ।
    ফিলিস্তিনি সংকট ও আব্রাহাম চুক্তিঃ সমালোচনা, সুফল ও বাস্তবতা

    মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আজ যে উত্তেজনায় ভরা, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিলিস্তিনি সংকট এবং আব্রাহাম চুক্তি নামের এক পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক প্যাকেজ।

    পি আর পদ্ধতি কী — ধরন, সুবিধা-অসুবিধা ও বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রাসঙ্গিকতা (1)
    পি আর পদ্ধতি কী — ধরন, সুবিধা-অসুবিধা ও বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রাসঙ্গিকতা

    পি আর পদ্ধতি হলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন ব্যবস্থা। পি আর পদ্ধতির ধরন, সুবিধা, অসুবিধা বিবেচনায় বাংলাদেশে পি আর পদ্ধতি প্রাসঙ্গিক কি না প্রশ্ন উঠেছে।

    বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধানগুলোর অন্যতম মদিনা সনদ ইসলামি রাষ্ট্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক সম্প্রীতির অনন্য ঐতিহাসিক দলিল। 
    মদিনা সনদ কীঃ মদিনা সনদের প্রধান ধারা ও বিশ্ব ইতিহাসে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ

    বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধানগুলোর অন্যতম মদিনা সনদ ইসলামি রাষ্ট্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক সম্প্রীতির অনন্য ঐতিহাসিক দলিল। 

    এই আর্টিকেলগুলিও আপনি পড়তে পারেন

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ (২০১৪): হেগের আদালতের রায় ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা জয়ের মাত্র দুই বছর পর, বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে আরেকটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ২০১৪ সালের ৭ জুলাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিটেশন (PCA) এই রায় ঘোষণা করে।

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট

    মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা?

    পশ্চিমা মিডিয়ার শেখানো বুলি ভুলে গিয়ে একবার মানচিত্রের দিকে তাকান। মধ্যপ্রাচ্যের এই অন্তহীন রক্তপাতের আড়ালে আসলে চলছে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের লাইফলাইন—’হরমুজ প্রণালী’ নিয়ন্ত্রণের এক নোংরা স্নায়ুযুদ্ধ।

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯): আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)ঃ আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম রায় ও ঐতিহাসিক আইনি বিশ্লেষণ

    করফু চ্যানেল মামলা (১৯৪৯)-এর ঘটনা, আইনি ইস্যু এবং ICJ-এর ঐতিহাসিক রায় সম্পর্কে জানুন। ইনোসেন্ট প্যাসেজ ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব অপরিসীম।

    নিয়মিত আর্টিকেল পেতে

    সাবস্ক্রাইব করুন

    Scroll to Top