মুসকান খানের হিজাব ও ভারতের অসাম্প্রদায়িকতা
নিজ দেশে ভারত বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে চরমপন্থী হিন্দু এজেন্ডার সঙ্গে লড়াই করছে। মুঘল যুগের মসজিদগুলোর নিচে মন্দির থাকার দাবির মতো অযৌক্তিক দাবিগুলোকেও বিচার বিভাগ সমর্থন করছে। উদাহরণস্বরূপ, ঐতিহাসিক আজমির শরিফ দরগাহকে প্রাক-ইসলামী যুগের মন্দির হিসেবে দেখার চেষ্টা চলছে। এই মন্দির পুনরুদ্ধারের মোহ সহিংসতা ও ইসলামোফোবিয়াকে তীব্র করেছে। যখন ভারতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন ব্যাপারে নাক গলাতে ব্যস্ত, ভারতে তখন চারজন মুসলিম যুবককে হিন্দু চরমপন্থীরা পিটিয়ে হত্যা করেছে। ধর্মীয় কারণে গরুর মাংস নিষিদ্ধ করার পরেও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গরুর মাংস রপ্তানিকারক হওয়ার এই দ্বিচারিতা ভারতের চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে মৌলবাদ নিয়ে ভারতের অভিযোগগুলো ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছুই নয়। হাসিনা শাসনে বিভক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে উসকে দেওয়া হয়েছিল ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য, যেখানে মুসলিম ও হিন্দু উভয় উগ্রপন্থী গোষ্ঠীকে ভারতীয় প্রোপাগান্ডা প্রমাণে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তার বিদায় আরো ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের রূপ দেখিয়েছে, যেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায় উগ্রপন্থাকে প্রত্যাখ্যান করছে।Secular India and the Nature of its so-called Secularism
মৌলবাদ বিরোধী শক্তি হিসেবে হাসিনার মিথ ভেঙে পড়েছে। এখন হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায় ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার দাবিতে একতাবদ্ধ। ফলে, বাংলাদেশকে একটি অনানুষ্ঠানিক উপনিবেশ হিসেবে ধরে রাখার ভারতের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। আপাতত, ভারতের হতাশা তাদের গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বক্তৃতায় প্রকাশ পাচ্ছে। ঔপনিবেশিক আচরণে নয়, বরং, ভবিষ্যতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তোলা আবশ্যক। কেবল তখনই এই দুই প্রতিবেশী প্রকৃত সমতার ভিত্তিতে উন্নতি করতে পারবে। মূল লেখাঃ মাসকওয়াইথ আহসান



