Switch language / ভাষা পরিবর্তন করুন

অপারেশন বুনিয়ান-উন-মারসুসঃ ভারতে পাকিস্তানের পাল্টা হামলা

সারকথা

পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে "অপারেশন বুনিয়ান-উন-মারসুস" নামে ব্যাপক পাল্টা হামলা শুরু করে। এই অভিযানের নামটির অর্থ "গলিত সীসায় নির্মিত অভেদ্য প্রাচীর"।

রাকিবুল ইসলাম
লিখেছেন:রাকিবুল ইসলাম
প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৫•পড়তে ৪ মিনিট লাগবে
অপারেশন বুনিয়ান-উন-মারসুসঃ ভারতে পাকিস্তানের পাল্টা হামলা
আজ ১০ মে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী ভারতের বিরুদ্ধে "অপারেশন বুনিয়ান-উন-মারসুস" নামে ব্যাপক পাল্টা হামলা শুরু করে। এই অভিযানের নামটি কোরআনের সূরা আস-সাফের ৪ নম্বর আয়াত থেকে নেওয়া হয়েছে, যার অর্থ "গলিত সীসায় নির্মিত অভেদ্য প্রাচীর"। গত ৬ মে’র ভারতের "অপারেশন সিঁদুর"-এর জবাবে পাকিস্তান এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ভারত প্রকাশ করেনি, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দাবি, এই অভিযানে জম্মু-কাশ্মীর, পাঞ্জাব, ও রাজস্থানের একাধিক সামরিক টার্গেটে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে ব্রাহ্মোস মিসাইল ডিপো এবং এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত।

কোথা থেকে এলো অপারেশন বুনিয়ান-উন-মারসুস?

বুনিয়ান-উন-মারসুস (بنيان مرصوص) শব্দগুচ্ছের উৎপত্তি কোরআনের সূরা ৬১ (আস-সাফ), আয়াত ৪-এ থেকে নেওয়া হয়েছে।। এই আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ্ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন যারা তাঁর পথে "একটি সুসংহত প্রাচীরের মতো" লড়াই করে। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ শাখা (আইএসপিআর) জানিয়েছে, এই নামকরণের মাধ্যমে তারা তাদের সৈন্যদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি ও অটল মনোবল-এর প্রতীক তুলে ধরতে চেয়েছে। গত ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত গত ৬ মে "অপারেশন সিঁদুর" চালায়, যেখানে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ৯টি স্থাপনায় হামলা করে ভারত। যদিও সেই হামলার জবাবে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ভারতের ৫ টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করে এবং কয়েকজন সৈন্যকে গ্রেফতার করে ভারত। পাকিস্তান এটিকে "সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ" বলে অভিহিত করে ভারতের "অপারেশন সিঁদুর"-এর জবাবেই ইসলামাবাদ অপারেশন বুনিয়ান-উন-মারসুস শুরু করেছে।

শেষপর্যন্ত কাশ্মীরের পেহেলগাম সন্ত্রাসী হামলাই কি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বাঁধাবে?

অপারেশন বুনিয়ান-উন-মারসুসের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুসমূহ এবং ক্ষয়ক্ষতি

পাকিস্তানের সরকারি সংবাদমাধ্যম পিটিভিকে উল্লেখ করে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন এই হামলার একটি তালিকা তৈরি করেছে। সূত্র অনুযায়ী, পাকিস্তান এই অভিযানে সাইবার যুদ্ধ, বায়ুহামলা ও ভূমি আক্রমণ-এর সমন্বয় ঘটিয়েছে। উল্লেখযোগ্য টার্গেটগুলোর মধ্যে রয়েছে:
  • ভারতের বিদ্যুৎ গ্রিডের ৭০% ধ্বংস: ১০ মে ভোররাতে পাকিস্তান সাইবার কমান্ডোরা উত্তরভারতের পাওয়ার সিস্টেমে হামলা চালায়, যার ফলে দিল্লি-সহ ৮টি রাজ্যে বিদ্যুৎ বিপর্যয় নেমে আসে।
  • এস-৪০০ মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস: আদমপুর এয়ার বেসে রাশিয়ায় নির্মিত এই অত্যাধুনিক ব্যবস্থা পাকিস্তানের জেএফ-১৭ থান্ডার থেকে নিক্ষিপ্ত স্থানীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ১২০ কিমি পাল্লার ফাতাহ-১ ক্ষেপণাস্ত্রে ধ্বংস হয়।
  • রাজৌরি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র: ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র এর একটি সেন্টারে ড্রোন হামলা চালানো হয়, যেখানে ১৫ জন কর্মকর্তা নিহত হন।
জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরি, উধমপুর ও পাঠানকোট-এ সর্বাধিক গোলাবর্ষণ হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, ভারতের ব্রিগেড সদর দপ্তর, আর্টিলারি ব্যাটারি, এবং সেনা রসদ ডিপো ধ্বংস হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ১৪ জন বেসামরিক নাগরিকসহ ৩২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। শুধু রাজৌরিতেই একটি সরকারি অফিসে সরাসরি আঘাত হানায় ৩ কর্মকর্তা নিহত হন। ধর্মীয় স্থাপনার মধ্যে জম্মুর শম্ভু মন্দিরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। তবে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা পাকিস্তানের হামলার এসব তথ্যকে 'ভুয়ো' বলে দাবি করেছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও পারমানবিক যুদ্ধের আশংকা

যদিও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এখনও জরুরী অধিবেশন ডাকেনি, কিন্তু মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন দুই দেশকে "সর্বোচ্চ সহনশীলতা" দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের পর এই প্রথম উভয় পক্ষ পরমাণু অস্ত্র মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভারতের অগ্নি-৫ ও পাকিস্তানের শাহীন-৩ মিসাইল সিস্টেম সক্রিয় থাকায় গোটা দক্ষিণ এশিয়া অস্থিরতায় পড়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণঃ ১. উভয় দেশই জাতীয় নির্বাচনের মুখোমুখি (ভারত ২০২৯, পাকিস্তান ২০২৭), ফলে সরকারগুলোর পক্ষে নমনীয়তা দেখানো কঠিন। ২. কাশ্মীরে ভারতের ধারা ৩৭০ প্রত্যাহার ও পাকিস্তানের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বিতর্ক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ৩. চীন-মধ্যেপ্রাচ্য কূটনৈতিক মধ্যস্থতা প্রত্যাখ্যান করায় সংঘাত নিরসনের উপায় সীমিত। এই সংঘাতের গতিপথ এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ ও দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের রাজনৈতিক সদিচ্ছার উপর। তবে বর্তমান প্রবণতা বলছে, দক্ষিণ এশিয়ায় একটি দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতার যুগ শুরু হতে যাচ্ছে।

রেটিং

(নতুন)

শেয়ার

পাঠকের মন্তব্য ও পর্যালোচনা

(০)
মন্তব্য করতে Google বা Facebook দিয়ে লগইন করা আবশ্যক
রাকিবুল ইসলাম
রাকিবুল ইসলাম

লেখক (Author)

আইন, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সমাজতত্ত্বের অনুসন্ধিৎসু গবেষক ও লেখক। মেরুনপেপারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কন্ট্রিবিউটর হিসেবে নিয়মিত সমসাময়িক ভূ-রাজনীতি ও সাংবিধানিক বিষয়াবলী নিয়ে লিখছেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

আরও দেখুন →
১৯৭০ সালের নির্বাচনঃ যে নির্বাচনে পাকিস্তানের অবিচারের জবাব দিয়েছে বাংলাইতিহাস

১৯৭০ সালের নির্বাচনঃ যে নির্বাচনে পাকিস্তানের অবিচারের জবাব দিয়েছে বাংলা

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

৩ জুন ২০২৪পড়ুন →
সিকিম কীভাবে ভারতের অংশ হলো?ইতিহাস

সিকিম কীভাবে ভারতের অংশ হলো?

১৯৭৫ সালে পরিশেষে ভারত সিকিমের স্বাধীনতা হরণ করে এই ক্ষুদ্র ভূখণ্ডকে নিজ অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। এই নিবন্ধে গণভোটের মাধ্যমে সিকিমের ভারতভুক্তির সেই ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

১৩ এপ্রিল ২০২৩পড়ুন →
ঠগীঃ ব্রিটিশ ভারতের নীতিবান খুনীইতিহাস

ঠগীঃ ব্রিটিশ ভারতের নীতিবান খুনী

অন্ধকারের ত্রাস ঠগীরা দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়াতো ভারত জুড়ে। প্রধানত বড় বড় সড়কগুলোতে ডাকাতদের মত সংঘবদ্ধভাবে তারা কাজ করত। তাদের শিকার ছিল একা পথচারী, ব্যবসায়ী বা তীর্থযাত্রী। কিছু হিসেব অনুযায়ী ১৭৪০ সাল থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত ভারতজুড়ে ঠগীরা ১০ লক্ষের বেশি মানুষ হত্যা করেছিল যদি ঠগীদের ইতিহাসের শুরু আঠারো শতক ধরা হয়।

১ সেপ্টেম্বর ২০২২পড়ুন →
স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাসঃ ইউরোপে ৮০০ বছরের গৌরবময় উপাখ্যানইতিহাস

স্পেনে মুসলমানদের ইতিহাসঃ ইউরোপে ৮০০ বছরের গৌরবময় উপাখ্যান

ইউরোপের ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, মধ্যযুগে যখন পুরো মহাদেশটি কুসংস্কার, অপরিচ্ছন্নতা আর অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, ঠিক তখনই আইবেরীয় উপদ্বীপ বা স্পেনের বুকে জ্বলে উঠেছিল এক অনন্য সভ্যতার মশাল। মুসলমানরা এই ভূখণ্ডের নাম দিয়েছিল 'আল-আন্দালুস'।

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫পড়ুন →

মেরুনপেপারের সাথে যুক্ত থাকুন

আইন, রাজনীতি, ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষণধর্মী সেরা প্রবন্ধগুলো প্রতি সপ্তাহে সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।

আমরা স্প্যাম করি না। যেকোনো সময় আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।