যুক্তরাষ্ট্র কি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সন্ত্রাসী রাষ্ট্র?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায়শই বিশ্বের প্রধান সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই দাবির ভিত্তি হলো গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA)-এর সাম্প্রতিক কিছু গুপ্ত অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে করা একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদন। প্রতিবেদনের ফলাফল থেকে দেখা যায়, এই অভিযানগুলোর সাফল্যের হার ছিল নগণ্য, যে কারণে তাদের নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন দেখা দেয়। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সিআইএ-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন এমন সব ঘটনার নথিপত্র খুঁজে বের করতে, যেখানে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহ করে যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃত অর্থে সফল হয়েছে; কিন্তু পর্যালোচনায় তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।নোয়াম চমস্কির ‘হু রুলস দ্য ওয়ার্ল্ড?’ পড়ুন
নিউ ইয়র্ক টাইমসের ‘সিআইএ স্টাডি অব কাভার্ট এইড ফুয়েলড স্কেপটিসিজম এবাউট হেল্পিং সিরিয়ান রেবেল্স’ শিরোনামের নিবন্ধে প্রেসিডেন্ট ওবামার সিআইএ পর্যালোচনা বিষয়ক মন্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। নিবন্ধটির শুরুতে অ্যাঙ্গোলা, নিকারাগুয়া ও কিউবার উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এগুলোর প্রতিটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা পরিচালিত বড় আকারের সন্ত্রাসী অভিযান।
সন্ত্রাসবাদের উৎস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদ উৎপাদনের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সিআইএ-এর প্রাক্তন বিশ্লেষক পল পিলার সিরিয়ায় ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার ফলে সৃষ্ট তীব্র ক্ষোভের’ বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, এটি জাবহাত আল-নুসরা ও ইসলামিক স্টেটের মতো জিহাদি সংগঠনগুলোকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ‘ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ হিসেবে প্রচার চালিয়ে জনমত গঠনের সুযোগ করে দিচ্ছে। হস্তক্ষেপ ও গুপ্ত অভিযানের মাধ্যমে ক্ষোভ সৃষ্টির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের, যা পরবর্তীতে ‘ব্লোব্যাক’ বা প্রতিক্রিয়াস্বরূপ ভয়াবহ সহিংসতা ডেকে আনে।যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য যেভাবে ইরাক আক্রমণের বৈধতা প্রমাণের চেষ্টা করেছিল
যুক্তরাষ্ট্র বহু সন্ত্রাসী অভিযানে জড়িত ছিল এবং মনে হচ্ছে আজও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ড ও নীতি বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতা বিস্তারে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করছে। এই ধরণের কর্মকাণ্ড বন্ধ করা জরুরি; কারণ এটি যুক্তরাষ্ট্র ও এর নাগরিকদের প্রতি শুধু ঘৃণা ও বিদ্বেষই তৈরি করে না, বরং অগণিত নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটায় এবং অন্যান্য দেশে বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসযজ্ঞ বয়ে আনে। একটি বিশ্বশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নিজ কর্মকাণ্ডের দায়ভার গ্রহণ করা এবং এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা, যেখানে কূটনীতি ও শান্তিপূর্ণ সমাধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।


