Switch language / ভাষা পরিবর্তন করুন

আরএসএস কি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য হুমকি?

সারকথা

বহুমাত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সুদীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে, যেখানে নানা ধর্ম ও মতের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ বিষয়ে উদ্বেগের পারদ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী...

রাকিবুল ইসলাম
লিখেছেন:রাকিবুল ইসলাম
প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০২৩•পড়তে ১৩ মিনিট লাগবে
আরএসএস কি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য হুমকি?
দীর্ঘকাল ধরেই ভারত একটি বৈচিত্র্যময় ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে পরিচিত, যেখানে বিভিন্ন ধর্ম ও প্রেক্ষাপটের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস)—একটি উগ্র ডানপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠনের—প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ ক্রমাগত বাড়ছে। ‘হিন্দুত্ব’ মতাদর্শ এবং ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাথে গভীর সম্পর্কের কারণে আরএসএসের বিরুদ্ধে এমন এক বিভাজনমূলক ও বৈষম্যমূলক এজেন্ডা প্রচারের অভিযোগ রয়েছে, যা ভারতের বহুত্ববাদী সমাজকে দুর্বল করার হুমকি দেয়। এই নিবন্ধে আরএসএসের মতাদর্শ, নীতিমালা, নাৎসি জার্মানির সাথে ঐতিহাসিক সংযোগ এবং ভারতের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও মেরুকরণে এসবের প্রভাব বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, আরএসএস কি আদৌ ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য হুমকি?

ভারতীয় সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণা

‘দেশি নাৎসি’ বা আরএসএস প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে, আসুন ভারতের সাংবিধানিক দর্শন বোঝার চেষ্টা করি। অন্তত সাংবিধানিকভাবে ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। ধর্মনিরপেক্ষতা ভারতীয় সংবিধানের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ। ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হলো, রাষ্ট্রের কোনো সরকারি ধর্ম থাকবে না এবং আইনের চোখে সকল ধর্ম সমান। এটি নিশ্চিত করে যে, রাষ্ট্র ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করবে না এবং ব্যক্তি নিজ পছন্দের ধর্ম পালন ও প্রচারের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী ধর্মনিরপেক্ষতা মানেই হলো রাষ্ট্র ও ধর্মের পৃথকীকরণ। সংবিধানের প্রস্তাবনায় ভারতকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যার অর্থ সরকার সব ধর্মের সাথে সমান আচরণ করবে এবং কোনো বিশেষ ধর্মের পক্ষ নেবে না। সংবিধানের ২৫-২৮ অনুচ্ছেদসহ বিভিন্ন ধারায় এই ধারণা বিধৃত রয়েছে, যা ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করে এবং ধর্মীয় বিষয়ে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ রোধ করে। ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে সকল নাগরিকের জন্য আইনের সমান আশ্রয় নিশ্চিত করে এবং ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করে। উপরন্তু, সংবিধান কোনো বিশেষ ধর্মকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা বা প্রচার করতে রাষ্ট্রকে নিষেধ করে, যা সরকারকে বিশ্বাসের প্রশ্নে নিরপেক্ষ রাখে। ভারতের প্রতিষ্ঠাতা পিতারা সাম্য, স্বাধীনতা ও ন্যায়ের নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন, যা থেকেই সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণাটি অন্তর্ভুক্ত হয়। ভারতীয় সংবিধান প্রতিটি ব্যক্তিকে নিজ ধর্মের স্বাধীনতা এবং তা অনুশীলনের অধিকার প্রদান করে। এটি যেকোনো ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করা থেকেও রাষ্ট্রকে বিরত রাখে।

ধর্মনিরপেক্ষ ভারত এবং এর তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতার প্রকৃতি

ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণা কেবল ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সামাজিক সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকেও উৎসাহিত করে। এটি ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার গুরুত্বকে স্বীকার করে এবং পারস্পরিক সহনশীলতার বার্তা দেয়। সামগ্রিকভাবে, ভারতের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর মূল ভিত্তিই হলো ধর্মনিরপেক্ষতা। এটি বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য ও সহনশীলতার মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুসংহত সমাজ হিসেবে ভারতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে, আরএসএসের মতাদর্শ ও নীতিমালা, যার মধ্যে হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রচার এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ অন্তর্ভুক্ত, ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করেছে। তাই, ভারতের বৈচিত্র্যময় সমাজের জন্য এই হুমকি এবং এর সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা আবশ্যক।

আরএসএস কী?

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ভারতের একটি ডানপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন। ১৯২৫ সালে কেশব বলিরাম হেগড়েওয়ার এটি প্রতিষ্ঠা করেন। মূলত হিন্দু জাতীয়তাবাদী মতাদর্শ ‘হিন্দুত্ব’ প্রচারের লক্ষ্যে একটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। পেশায় চিকিৎসক হেগড়েওয়ার ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলন গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। আরএসএস তাদের হিন্দুত্ব মতাদর্শের জন্য পরিচিত, যার লক্ষ্য ভারতে হিন্দুদের স্বার্থরক্ষা এবং একটি ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠা করা। আরএসএস ভারতের সমাজ ও রাজনীতিতে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, যার সদস্যসংখ্যা কয়েক মিলিয়ন। সংগঠনটিকে প্রায়ই ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ‘মতাদর্শিক অভিভাবক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যে দলটি ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসে। আরএসএস ভারতের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত; এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রাম জন্মভূমি আন্দোলন, যার উদ্দেশ্য ছিল অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণ। ১৯৯২ সালে হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের হাতে মসজিদটি ধ্বংস হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও, আরএসএসের নাম ভারতের বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও মেরুকরণের সাথে জড়িয়ে আছে, বিশেষ করে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মতো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে। সংগঠনটির বিরুদ্ধে বিভাজনমূলক এজেন্ডা প্রচার এবং সংখ্যালঘুদের প্রান্তিক ও বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার করার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ডের জন্য তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও, আরএসএস ভারতীয় রাজনীতি ও সমাজে এক শক্তিশালী শক্তি হিসেবে টিকে আছে। তাদের প্রভাব আগামী দিনগুলোতে ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক মানচিত্র গঠনে ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হয়।

আরএসএসের মতাদর্শ

ভারত বৈচিত্র্যময় দেশ এবং এখানে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে ধর্মনিরপেক্ষতার কাঠামোই ভারতের গণতন্ত্র ও সামাজিক সম্প্রীতির মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে। তবে, আরএসএস এবং তাদের সাথে আদর্শগতভাবে যুক্ত ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নীতিমালা ভারতের এই ভিত্তিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

হিন্দুত্ব মতাদর্শ

আরএসএস মূলত ‘হিন্দুত্ব’ ধারণার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত, যার লক্ষ্য ভারতকে একটি ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ হিসেবে গড়ে তোলা। এটি ভারতীয় সংবিধানে বর্ণিত ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির পরিপন্থী, যা ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে বৈষম্যহীন স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এমন অনেক নীতি ও আইন প্রণয়ন করেছে, যা সংখ্যালঘু-বিরোধী ও বিভাজনমূলক হিসেবে বিবেচিত এবং সমালোচকদের মতে, তা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোকে ক্ষুণ্ণ করছে। হিন্দুত্ব মতাদর্শ অনুযায়ী, ভারত কেবল হিন্দুদেরই দেশ এবং তারা ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রকৃত উত্তরাধিকারী। এই মতাদর্শ অনুযায়ী, ভারতের একটি ‘হিন্দু সাংস্কৃতিক পরিচয়’ থাকা উচিত। হিন্দুত্বের ধারণা প্রচার করে যে, ভারতে বসবাসকারী অ-হিন্দুরা হয় বহিরাগত, নয়তো দখলদার। এই বিভাজনমূলক মতাদর্শ সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ভয় ও শত্রুতার পরিবেশ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে। হিন্দুত্বের মূল ভিত্তি হলো ‘হিন্দু ঐক্য’। আরএসএস মনে করে, সকল হিন্দুকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই মতাদর্শই ভারতে সংখ্যালঘুদের দমন ও সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদের উত্থানকে বৈধতা দিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া হিন্দুত্ব বলপ্রয়োগ ও সহিংসতার মাধ্যমে হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে। আরএসএসের নাম প্রায়ই সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সাথে জড়ায়, যা সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি করেছে। আরএসএসের ধর্মীয় সহনশীলতা ও সংখ্যালঘু সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। তারা এমন এক ধারণা প্রচার করে যেখানে সংখ্যালঘুদের হয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সংস্কৃতির সাথে মিশে যেতে হবে, অথবা দেশ ছাড়তে হবে। এর ফলে ভারতে মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুরা প্রান্তিক হয়ে পড়ছে। ধর্মীয় সহনশীলতার ক্ষেত্রেও আরএসএসের অবস্থান বিতর্কিত। গুজরাট দাঙ্গার (২০০২) মতো ঘটনায় যেখানে সহস্রাধিক মুসলিম নিহত হয়েছিল, সেগুলোর পেছনে আরএসএসের সংশ্লিষ্ট সংগঠনের ইন্ধনের অভিযোগ রয়েছে। এই দলগুলোর সাথে বিজেপির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সর্বজনবিদিত।

বিজেপি কি আরএসএসের ফসল?

হ্যাঁ, বিজেপি (ভারতীয় জনতা পার্টি)-কে মূলত আরএসএস (রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ)-এর রাজনৈতিক শাখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৮০ সালে রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত বিজেপির অনেক প্রতিষ্ঠাতা সদস্যই আরএসএসের সাথে যুক্ত ছিলেন। আরএসএস বিজেপির মতাদর্শিক অভিভাবক হিসেবে কাজ করে এবং দলের অনেক নীতিই আরএসএসের দর্শনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। আরএসএস ও বিজেপির লক্ষ্য ও আদর্শ অভিন্ন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ অনেক বিজেপি নেতারই আরএসএসে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে আরএসএস নেতাদের পরামর্শ গ্রহণের বিষয়টি এখন অনেকটা নিয়মিত প্রক্রিয়া। সমালোচকদের মতে, আরএসএস ও বিজেপির এই গভীর সম্পর্ক ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধকে দুর্বল করছে এবং সরকারের ওপর আরএসএসের অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করছে। অন্যদিকে, সমর্থকদের দাবি, হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে হিন্দু স্বার্থ রক্ষার জন্য এই জোট জরুরি। এই মতাদর্শের অন্যতম দিক হলো ‘হিন্দুত্ব’। বিজেপি ও আরএসএস এই ধারণা প্রচার করে যে, ভারত একটি হিন্দু রাষ্ট্র এবং হিন্দুদেরই এখানে আধিপত্য থাকা উচিত। এর ফলে এমন অনেক নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, যা ধর্মীয় সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক। উদাহরণস্বরূপ, বিজেপি সারা দেশে ‘গো-হত্যা’ নিষিদ্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যার ফলে মাংস ও চামড়া শিল্পের সাথে জড়িত মুসলিম ও দলিতদের ওপর সহিংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া মুসলিমদের বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত আইন ও দাম্পত্য ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার আইনের বিরোধিতার কারণেও দলটি সমালোচিত হয়েছে। বিজেপির ২০১৯ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, যা ছিল আরএসএসের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার ক্ষেত্রেও আরএসএসের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার পেছনে আরএসএস ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর ইন্ধন ছিল বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হয়। সমালোচকদের দাবি, সংগঠনটির নীতি ও কর্মকাণ্ড ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক সম্প্রীতিকে বিপন্ন করে তুলছে।

নাৎসি ফিলোসফির সাথে আরএসএসের সংযোগ কী?

আরএসএস হিটলারের মতাদর্শের প্রশংসা এবং নাৎসি জার্মানির সাথে তাদের ঐতিহাসিক সংযোগের অভিযোগের কারণে সমালোচিত হয়েছে। ১৯৩০-এর দশকে আরএসএসের কিছু সদস্য নাৎসিদের জাতিগত মতাদর্শ ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন বলে জানা যায়। আরএসএস ও নাৎসি জার্মানির ঐতিহাসিক সংযোগ ১৯৩০-এর দশকে দেখা যায়। ১৯৩১ সালে আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা কে.বি. হেগড়েওয়ারের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল ইতালি ও জার্মানি সফর করে ফ্যাসিজমের পদ্ধতিগুলো অধ্যয়ন করে। বিশেষ করে, তারা মুসোলিনির ফ্যাসিবাদী দলের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছিল এবং মনে করেছিল যে, ভারতীয় জাতীয়তাবাদের জন্য তাদের পদ্ধতিগুলো শিক্ষণীয়। দেশে ফিরে হেগড়েওয়ার তার অনুসারীদের নাৎসি পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে শোনা যায়। ১৯৩৪ সালে আরএসএস ‘হিন্দু মিলিশিয়া’ নামে একটি সামরিক ধাঁচের সংগঠন গড়ে তোলে, যা নাৎসিদের ‘স্টর্মট্রুপার্স’-এর আদলে তৈরি। এই সংগঠনটি পরবর্তীতে ‘আরএসএস স্বেচ্ছাসেবক কোর’ নামে পরিচিত হয়, যা আজও কার্যকর। ইতিহাসবিদদের একাংশ আরএসএস ও নাৎসি দলের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন। সাভারকর, যিনি আরএসএসের প্রভাবশালী সদস্য ও হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন, তিনি হিটলারের নেতৃত্ব ও এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আরএসএস অক্ষশক্তির প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ভারতের ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে জার্মানির কাছ থেকে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব কিংবা জার্মান সেনাবাহিনীতে যুদ্ধরত ভারতীয় যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে আরএসএস সদস্য থাকার কথাও শোনা যায়। আরএসএস ও নাৎসি দলের সম্পর্কের প্রকৃতি যা-ই হোক না কেন, এটি স্পষ্ট যে আরএসএসের হিন্দুত্ব মতাদর্শ এবং জাতীয়তাবাদ ও কর্তৃত্ববাদের প্রতি তাদের ঝোঁক ফ্যাসিবাদী আন্দোলনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই ঐতিহাসিক সংযোগ ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তোলে।

হিটলারের মতাদর্শের কথিত প্রভাব

হিটলারের মতাদর্শের প্রতি আরএসএসের কথিত আকর্ষণ গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি করে। হিটলারের মতাদর্শ ছিল বর্ণবাদ, কর্তৃত্ববাদ এবং আর্য জাতির শ্রেষ্ঠত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই মূল্যবোধ ভারতের সাংবিধানিক ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় বহুত্ববাদের পরিপন্থী। তদুপরি, হিটলারের মতাদর্শের প্রতি আরএসএসের প্রশংসা সংখ্যালঘুদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর আলোকপাত করে। নাৎসি জার্মানি ইহুদিদের ‘সমস্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের ওপর গণহত্যা ও নির্যাতন চালিয়েছিল। যদি আরএসএস হিটলারের জাতিগত দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করে, তবে তা ভারতের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তবে, ২০১৯ সালে আল জাজিরার ‘হেড-টু-হেড’ সাক্ষাৎকারে আরএসএস নেতা মোহন ভাগবত আরএসএস ও নাৎসি জার্মানির মধ্যে কোনো সম্পর্ক বা হিটলারের প্রতি কোনো প্রকার প্রশংসার কথা অস্বীকার করেন। ভাগবতের দাবি, আরএসএসের মতাদর্শ ‘জাতীয়তাবাদ, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের’ ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং তারা ‘সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের’ প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদিও অনেক সমালোচকই ভাগবতের এই অস্বীকার মেনে নিতে নারাজ। তারা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে আরএসএসের সহিংসতার ইতিহাস এবং হিন্দুত্ব মতাদর্শের ক্রমাগত প্রচারকে তাদের সাম্প্রদায়িক ও বহিষ্কারবাদী এজেন্ডার প্রমাণ হিসেবে দেখেন।

আরএসএস ও বিজেপির নীতির প্রভাব

এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে আরএসএস ও বিজেপি দুটি ভিন্ন সংগঠন হলেও তাদের মধ্যে গভীর মতাদর্শিক ও সাংগঠনিক সম্পর্ক বিদ্যমান। আরএসএস বিজেপির অভিভাবক সংগঠন এবং বিজেপির অনেক নেতাই আরএসএসের সক্রিয় সদস্য। তাই আরএসএসের নীতি ও আদর্শ বিজেপির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরএসএস ও বিজেপির নীতিমালা নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। সমালোচকদের মতে, এসব নীতি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকি। নিচে বিজেপির এমন কিছু নীতি নিয়ে আলোচনা করা হলো যা অ-ধর্মনিরপেক্ষ, অসাংবিধানিক এবং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ অস্তিত্বের জন্য হুমকি বলে বিবেচিত।

সংখ্যালঘু-বিরোধী নীতি

আরএসএস ও বিজেপির নীতিগুলো সংখ্যালঘু-বিরোধী হওয়ার কারণে সমালোচিত হয়েছে। এনআরসি (NRC) এবং সিএএ (CAA) ইস্যু ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা ও সম্প্রীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সিএএ (নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন) পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও পারসি সম্প্রদায়ের অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেয়, কিন্তু মুসলিমদের এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এনআরসি হলো ভারতের ‘প্রকৃত নাগরিক’ শনাক্ত করার একটি বিতর্কিত প্রক্রিয়া, যার উদ্দেশ্য প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করা। অনেকের মতে, এনআরসি ও সিএএ প্রক্রিয়াটি মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ এবং এটি দুর্বল সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে ভীতি ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। সমালোচকদের দাবি, এটি বিজেপির বৃহত্তর মুসলিম-বিরোধী এজেন্ডার অংশ এবং এনআরসি বাস্তবায়নের সময় সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা ছিল সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের ফলস্বরূপ। মুসলিমবিরোধী বলে বিবেচিত এই আইনের প্রতিবাদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে হিন্দু জনতা মুসলিম মহল্লায় হামলা চালায়, যেখানে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। শাসক দলের নেতাদের উসকানিমূলক বক্তৃতা এবং পুলিশের পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে এই দাঙ্গা আরও ভয়াবহ রূপ নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা

বিজেপির নীতিমালা ভারতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও মেরুকরণ বাড়িয়েছে। হিন্দু জাতীয়তাবাদের উত্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর, বিশেষ করে মুসলিমদের ওপর হামলার হার বেড়েছে। রাজনৈতিক আলোচনা এখন অত্যন্ত বিভাজনমূলক এবং বিজেপি রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের জন্য সাম্প্রদায়িকতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হিজাব নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত—বিশেষ করে কেরালা ও আসামের মতো রাজ্যে—নাগরিক সমাজ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যাপক বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে। এই নীতি মুসলিম নারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শিক্ষার অধিকার লঙ্ঘন করে। হিজাবের পাশাপাশি, হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো দ্বারা খ্রিস্টান ও তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে। আরএসএসপন্থী এই গোষ্ঠীগুলো দেশটিকে ‘কেবল হিন্দুদের’ জন্য বলে মনে করে। বিজেপি শাসিত কয়েকটি রাজ্যে ধর্মান্তরবিরোধী আইন পাস করা হয়েছে, যা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

গো-রক্ষা ও মুসলিমবিরোধী সহিংসতা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে ‘গো-রক্ষা’ একটি অত্যন্ত উত্তপ্ত ইস্যু। হিন্দু ধর্মে গরুকে পবিত্র মানা হলেও বর্তমানে এই ইস্যুটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০১৫ সালে দাদরিতে গোমাংস খাওয়ার গুজবে মোহাম্মদ আখলাককে পিটিয়ে হত্যা, ২০১৭ সালে পেহলু খানকে হত্যাসহ বিভিন্ন সময়ে গরুর নাম করে মুসলিমদের ওপর সহিংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্ন হলো, একটি পশুর জীবন বাঁচাতে কেন মানুষ জীবন নিতে উদ্যত হয়? কিছু হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী গরুকে পবিত্র বলে মনে করলেও, ভারতের অনেক রাজ্যে গরু জবাই ও মাংস ভক্ষণ বৈধ। এছাড়া অনেক হিন্দু ধর্মতাত্ত্বিক আচার ও আদিবাসী ঐতিহ্যেও ভিন্ন ভিন্ন রীতি প্রচলিত রয়েছে। ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে (কেরালা, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ইত্যাদি) গরু জবাই ও মাংস খাওয়া আইনত বৈধ। এই সহিংসতা মূলত রাজনৈতিক এজেন্ডা বা অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষার কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল

২০১৯ সালের আগস্টে বিজেপি সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা (ধারা ৩৭০) বাতিল করে। এটি রাজ্যের জনগণের মতামত বা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে কোনো পরামর্শ ছাড়াই করা হয়েছিল। এই ধারা অনুযায়ী রাজ্যটির নিজস্ব সংবিধান ও পতাকা ছিল, যা তাদের স্বায়ত্তশাসন প্রদান করত। এই সিদ্ধান্তকে ভারতের ফেডারেল কাঠামো ও গণতন্ত্রের পরিপন্থী বলে সমালোচনা করা হয়। জম্মু ও কাশ্মীর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য হওয়ায়, এই সিদ্ধান্তকে বিজেপির হিন্দু জাতীয়তাবাদী এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়া এবং মুসলিম কণ্ঠস্বর দমনের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরপর থেকে অঞ্চলটিতে কঠোর নিরাপত্তা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা আরোপ করা হয় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবর পাওয়া যায়।

আরএসএস ও বিজেপি সম্পর্কে আমাদের সচেতন হওয়া উচিত?

আরএসএসের মতাদর্শ ও নীতিমালা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য গভীর হুমকি। নাৎসি জার্মানির সাথে তাদের কথিত ঐতিহাসিক যোগসূত্র, সংখ্যালঘু ও ধর্মীয় সহনশীলতা বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গি এবং হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রচার—সবই এর পেছনে দায়ী। গো-রক্ষা ও মুসলিমবিরোধী সহিংসতা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিচ্ছে। বিজেপির সিএএ ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের মতো নীতিগুলো সংখ্যালঘু-বিরোধী হিসেবে সমালোচিত। শিক্ষাঙ্গনে হিজাব নিষেধাজ্ঞা কিংবা এনআরসির মতো পদক্ষেপ ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর ওপর আঘাত। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার জন্য এই হুমকিগুলো মোকাবিলা করা জরুরি। গো-রক্ষা, এনআরসি, সিএএ সংক্রান্ত জটিলতা দূর করা এবং কাশ্মীরের রাজনৈতিক মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অশুভ মেরুকরণ ঠেকানো যেতে পারে। সরকারি ও নাগরিক সমাজের উচিত আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও সম্প্রীতিকে উৎসাহিত করা। ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ধর্মনিরপেক্ষ ভিত্তিই দেশটির অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি। আমরা যদি এই ভিত্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে পারি এবং ভারতকে সহনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তির আলোকবর্তিকা হিসেবে টিকিয়ে রাখতে পারি, তবেই ভারত তার প্রকৃত গণতান্ত্রিক সম্ভাবনা অর্জন করতে পারবে।

রেটিং

(নতুন)

শেয়ার

পাঠকের মন্তব্য ও পর্যালোচনা

(০)
মন্তব্য করতে Google বা Facebook দিয়ে লগইন করা আবশ্যক
রাকিবুল ইসলাম
রাকিবুল ইসলাম

লেখক (Author)

আইন, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সমাজতত্ত্বের অনুসন্ধিৎসু গবেষক ও লেখক। মেরুনপেপারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কন্ট্রিবিউটর হিসেবে নিয়মিত সমসাময়িক ভূ-রাজনীতি ও সাংবিধানিক বিষয়াবলী নিয়ে লিখছেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

আরও দেখুন →
তুরস্কের নির্বাচনে এরদোয়ানের বিজয়: স্থিতিশীলতার প্রতীক নাকি গণতন্ত্রের জন্য হুমকি?আন্তর্জাতিক সম্পর্ক

তুরস্কের নির্বাচনে এরদোয়ানের বিজয়: স্থিতিশীলতার প্রতীক নাকি গণতন্ত্রের জন্য হুমকি?

২০২৩ সালের ২৮ মের ঐতিহাসিক রান-অফ নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল কিলিচদারওগলুকে পরাজিত করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তৃতীয় মেয়াদে জয়ী হয়েছেন রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। এই বিজয়ের ভূরাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রভাবের গভীর বিশ্লেষণ।

২৮ মে ২০২৩পড়ুন →
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয় কি বাংলাদেশের জন্য নতুন হুমকি, নাকি পুরোনো শোষণের নগ্ন রূপ?অভিমত

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয় কি বাংলাদেশের জন্য নতুন হুমকি, নাকি পুরোনো শোষণের নগ্ন রূপ?

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সাউথ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির আসল অংক কী? বাংলাদেশ কি শুধুই ভারতের ডাম্পিং গ্রাউন্ড?

৫ মে ২০২৬পড়ুন →
নরেন্দ্র মোদী কি ভারতের পাঠ্যপুস্তকের ইতিহাস নিয়ে শঙ্কিত?অভিমত

নরেন্দ্র মোদী কি ভারতের পাঠ্যপুস্তকের ইতিহাস নিয়ে শঙ্কিত?

ভারতের অতীত সম্পর্কে নরেন্দ্র মোদীর দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। হিন্দুধর্মের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ এবং ভারতের ইতিহাসকে হিন্দুত্ববাদী দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্নির্মাণের পক্ষে তাঁর সরব অবস্থানই বর্তমান ভারতের পাঠ্যক্রম ও ঐতিহাসিক বয়ানের বিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি।

৩০ এপ্রিল ২০২৩পড়ুন →
ধর্মনিরপেক্ষ ভারত ও তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতার স্বরূপঅভিমত

ধর্মনিরপেক্ষ ভারত ও তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতার স্বরূপ

ভারতের সংবিধান রাষ্ট্রটিকে ধর্মনিরপেক্ষ ঘোষণা করলেও, মোদী প্রশাসনের বার্তা আজ কী ইঙ্গিত দিচ্ছে? আমরা কি আদৌ এখনও কোনো ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের ধারণার মধ্যে অবস্থান করছি?

২৫ জানুয়ারি ২০২৩পড়ুন →

মেরুনপেপারের সাথে যুক্ত থাকুন

আইন, রাজনীতি, ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষণধর্মী সেরা প্রবন্ধগুলো প্রতি সপ্তাহে সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।

আমরা স্প্যাম করি না। যেকোনো সময় আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।