Switch language / ভাষা পরিবর্তন করুন

মানবাধিকার কমিটি: গঠন ও সুরক্ষাকৌশল

সারকথা

মানবাধিকার কমিটি হলো বিশেষজ্ঞগণের সমন্বয়ে গঠিত একটি নিরপেক্ষ সংস্থা, যা রাষ্ট্রপক্ষসমূহের 'নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি'র বাস্তবায়ন তদারকি করে থাকে।

রাকিবুল ইসলাম
লিখেছেন:রাকিবুল ইসলাম
প্রকাশিত: ৯ জুন ২০২২•পড়তে ৯ মিনিট লাগবে
মানবাধিকার কমিটি: গঠন ও সুরক্ষাকৌশল
মানবাধিকার কমিটি একটি নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ সংস্থা, যা 'নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি' (International Covenant on Civil and Political Rights - ICCPR) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষগুলোর কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করে। এই কমিটির কর্মতৎপরতা নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের চর্চাকে উৎসাহিত করে, যা আইন, নীতি এবং অনুশীলনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী স্বীকৃত নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার যাতে সকল ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গ ও দ্ব্যর্থহীনভাবে ভোগ করতে পারে, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কমিটি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

মানবাধিকার কমিটি

'নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি'র ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মানবাধিকার কমিটি ১৮ জন স্বাধীন বিশেষজ্ঞ নিয়ে গঠিত, যারা আইসিসিপিআর (ICCPR)-এর রাষ্ট্রপক্ষসমূহ কর্তৃক চার বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হন। কমিটি বর্তমান চুক্তির রাষ্ট্রপক্ষগুলোর নাগরিকদের নিয়ে গঠিত হবে, যাদের অবশ্যই—
  • উচ্চ নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হতে হবে।
  • মানবাধিকার ক্ষেত্রে স্বীকৃত দক্ষতা থাকতে হবে।
আইনি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের উপযোগিতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। কমিটির সদস্যরা তাদের নিজ নিজ যোগ্যতাবলে নির্বাচিত হন এবং দায়িত্ব পালন করেন। ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত শর্তাবলী পূরণকারী এবং বর্তমান চুক্তির রাষ্ট্রপক্ষ কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে কমিটির সদস্যদের নির্বাচন করা হবে।

আইনের শাসন বলতে কী বোঝায় এবং এর মৌলিক নীতিগুলো কী কী?

সম্পর্কিত বিশ্লেষণ
নিরাপদ পরিবেশের অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতির তাৎপর্য ও এর আইনি অভিঘাত: একটি পর্যালোচনা

নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশের অধিকারকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের স্বরূপ এবং এর সুদূরপ্রসারী আইনি ফলাফল নিয়ে এই নিবন্ধে আলোকপাত করা হয়েছে। এতে পরিবেশগত বিপর্যয় ও অপরাধের শ্রেণিবিন্যাস, এই অধিকার বলবৎকরণের আইনি কাঠামো এবং এর স্বীকৃতির আবশ্যিকতা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। আইন শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে নিবন্ধটিতে তথ্যবহুল দৃষ্টান্ত, প্রাসঙ্গিক রেফারেন্স ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়েছে।

রাকিবুল ইসলাম • আইন
সম্পূর্ণ পড়ুন →
চুক্তির প্রতিটি রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ দুজন ব্যক্তিকে মনোনীত করতে পারে। এই ব্যক্তিরা অবশ্যই মনোনীতকারী রাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে। তাদের মধ্যে একজন পুনঃমনোনয়নের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। নির্বাচনে উপস্থিত ও ভোটদানকারী রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে যে মনোনীত ব্যক্তিরা সর্বাধিক ভোট পাবেন, তারাই কমিটিতে নির্বাচিত হবেন। মানবাধিকার কমিটিতে একই রাষ্ট্রের একাধিক প্রতিনিধি থাকতে পারবেন না। কমিটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে:
  • সদস্যপদের সুষম ভৌগোলিক বণ্টন;
  • বিভিন্ন সভ্যতার রূপরেখার প্রতিনিধিত্ব এবং
  • প্রধান আইনি ব্যবস্থাগুলোর প্রতিফলন।
কমিটির সদস্যরা চার বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হবেন। পুনঃমনোনীত হলে তারা পুনরায় নির্বাচনের যোগ্য বিবেচিত হবেন। তবে প্রথম নির্বাচনে নির্বাচিত নয়জন সদস্যের মেয়াদ দুই বছর পর শেষ হবে। প্রথম নির্বাচনের ঠিক পরেই সভার সভাপতি লটারির মাধ্যমে এই নয়জনের নাম নির্ধারণ করবেন। বর্তমান চুক্তির এই অংশের বিধান অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হলে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মানবাধিকার কমিটি, মানবাধিকার কাউন্সিল Maroonpaper.com
যদি কমিটির অন্য সদস্যদের সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে কোনো সদস্য সাময়িক অনুপস্থিতি ছাড়া অন্য কোনো কারণে তার দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তবে কমিটির সভাপতি বিষয়টি জাতিসংঘের মহাসচিবকে অবহিত করবেন, যিনি তখন ওই সদস্যের আসনটি শূন্য ঘোষণা করবেন। কোনো সদস্যের মৃত্যু বা পদত্যাগের ক্ষেত্রে, সভাপতি অবিলম্বে জাতিসংঘের মহাসচিবকে অবহিত করবেন এবং মহাসচিব মৃত্যু বা পদত্যাগের তারিখ থেকে আসনটি শূন্য বলে ঘোষণা করবেন।

আইনের শাসন কী এবং একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এর গুরুত্ব কতটুকু?

মানবাধিকার কমিটির কার্যক্রমের গুরুত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে কমিটির সদস্যদের জাতিসংঘের তহবিল থেকে সম্মানী প্রদান করা হবে। দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে, মানবাধিকার কমিটির প্রতিটি সদস্যকে উন্মুক্ত কমিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অঙ্গীকার করতে হবে যে, তিনি তার দায়িত্ব নিরপেক্ষ ও বিবেকবানের মতো পালন করবেন। কমিটি নিজস্ব কার্যপ্রণালী বিধি তৈরি করবে, তবে এই বিধিতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
  • বারোজন সদস্যের উপস্থিতিতে কোরাম পূর্ণ হবে;
  • কমিটির সিদ্ধান্ত উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হবে।

আরও পড়ুন: মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র

মৌলিক লেখা আহ্বান • CONTRIBUTORS WANTED

মেরুনপেপারে আপনার চিন্তাশীল ও গবেষণাধর্মী লেখা প্রকাশ করুন

আইন, রাজনীতি, দর্শন, অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতি বিষয়ে মৌলিক গবেষণা ও বিশ্লেষণ লিখে পৌঁছে দিন অনুসন্ধিৎসু পাঠকদের কাছে।

লেখা জমা দিন →

নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষায় কার্যপদ্ধতি

মানবাধিকার কমিটি নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষায় তার দায়িত্ব পালনে চারটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে-
  • রাষ্ট্রীয় প্রতিবেদন;
  • আন্তঃরাষ্ট্রীয় প্রতিবেদন;
  • মীমাংসা এবং
  • ব্যক্তিগত অভিযোগ।

রাষ্ট্রীয় প্রতিবেদন

প্রতিটি রাষ্ট্রপক্ষ চুক্তি কার্যকর হওয়ার এক বছর পর আইসিসিপিআর-এর বিধানগুলো বাস্তবায়নের পরিস্থিতি উল্লেখ করে মানবাধিকার কমিটির কাছে একটি প্রতিবেদন দাখিল করবে। প্রাথমিক প্রতিবেদনের পর, মানবাধিকার কমিটির ব্যুরোর অনুরোধ অনুযায়ী রাষ্ট্রগুলো পর্যায়ক্রমিক প্রতিবেদন দাখিল করবে। ঐতিহাসিকভাবে, মানবাধিকার কমিটির পর্যায়ক্রমিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার প্রথম ধাপ হলো বিগত প্রতিবেদন চক্রের পর থেকে অর্জিত অগ্রগতির বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রতিবেদন দাখিল। এরপর কমিটি রাষ্ট্রের সাথে গঠনমূলক আলোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চিহ্নিত করে একটি 'ইস্যু তালিকা' প্রণয়ন করে। রাষ্ট্র ও সুশীল সমাজের কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদন ও ইস্যু তালিকার জবাবের ভিত্তিতে কমিটি তার চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ তৈরি করে।

জলবায়ু পরিবর্তন কী? কীভাবে এটি রোধ করে পৃথিবীকে রক্ষা করা সম্ভব?

বিশেষ সুপারিশ
মানবাধিকারের সুরক্ষা, প্রসার ও সংশ্লিষ্ট কার্যপদ্ধতি

জাতিসংঘ সনদে সুস্পষ্টভাবে বিবৃত হয়েছে যে, 'মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও তা সমুন্নত রাখা' বিশ্বসংস্থাটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

রাকিবুল ইসলাম • আইন
সম্পূর্ণ পড়ুন →
মানবাধিকার কমিটি প্রতিবেদন প্রক্রিয়াটিকে সহজতর করেছে। ২০২০ সালে কমিটি একটি "অপ্ট-আউট" (opt-out) মডেল গ্রহণ করে, যার অর্থ হলো—যদি কোনো রাষ্ট্র প্রথাগত প্রতিবেদন প্রক্রিয়া বেছে না নেয়, তবে তারা পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত না করে কমিটির দেওয়া ইস্যু তালিকার জবাব দেবে। কমিটি প্রতিটি ইস্যু তালিকায় প্রশ্নের সংখ্যা সর্বোচ্চ ২৫টিতে সীমাবদ্ধ রাখারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে, চুক্তি অনুযায়ী অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কোনো রাষ্ট্র যদি তাদের রাজনৈতিক বা আইনি কৌশলে "বড় ধরনের পরিবর্তন" আনে, তবে কমিটি তাদের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাবি করতে পারে। সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র চাইলে প্রথাগত প্রতিবেদন পদ্ধতিও বেছে নিতে পারে। রাষ্ট্রীয় প্রতিবেদন দাখিলের পর, মানবাধিকার কমিটি রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিদের সাথে ইস্যু তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে সরাসরি গঠনমূলক আলোচনা করে। যখন রাষ্ট্রপক্ষের কর্মকর্তাদের কাছে প্রশ্ন করা হয়, তখন সাধারণত ওই দেশের টাস্কফোর্সের সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এই ফলপ্রসূ আলোচনাগুলো কমিটির সভায় অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সর্বশেষ পদক্ষেপ হলো চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ খসড়া ও গ্রহণ করা। এই নথিতে ভূমিকা, ইতিবাচক দিক, আইসিসিপিআর বাস্তবায়নে বাধা ও কারণসমূহ, প্রধান উদ্বেগের বিষয় এবং সুপারিশসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকে। রাষ্ট্রপক্ষের পরবর্তী পর্যায়ক্রমিক প্রতিবেদনের জন্য একটি সময়সীমাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। কমিটি তার চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণে থাকা দুই থেকে চারটি সুপারিশ এক বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের তাগিদ দেয়। এছাড়া চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণের ফলোআপের জন্য একজন বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার নিয়োগ করা হয় এবং প্রতিটি অধিবেশনে একটি ফলোআপ অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। কমিটি চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণের একটি হালনাগাদ তালিকা সংরক্ষণ করে।

বাংলাদেশের নীল অর্থনীতি: গুরুত্ব, চ্যালেঞ্জ এবং একটি স্থিতিস্থাপক ও টেকসই নীল অর্থনীতির পথে উত্তরণ

আন্তঃরাষ্ট্রীয় অভিযোগ

একটি রাষ্ট্রপক্ষ মানবাধিকার কমিটির কাছে অভিযোগ জানাতে পারে যে, অন্য একটি রাষ্ট্রপক্ষ চুক্তির অধীনে তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। এটি মানবাধিকার চুক্তিকে কেবল রাষ্ট্রপক্ষ ও তার আওতাধীন ব্যক্তিদের মধ্যে একটি চুক্তি হিসেবে নয়, বরং একটি বহুপাক্ষিক চুক্তি হিসেবেও বিবেচনা করে; যেখানে সকল রাষ্ট্রপক্ষের অন্যের বাধ্যবাধকতা পালনের বিষয়টি দেখার স্বার্থ থাকে। এই কৌশলের অধীনে এক রাষ্ট্রপক্ষের মানবাধিকার লঙ্ঘন অন্য সকল রাষ্ট্রপক্ষের সরাসরি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চুক্তির ৪১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই অভিযোগ কেবল সেই দুটি রাষ্ট্রপক্ষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে যারা কমিটির আন্তঃরাষ্ট্রীয় অভিযোগ শোনার এবং পরীক্ষা করার সক্ষমতাকে স্বীকৃতি দিয়ে ঘোষণা দিয়েছে। প্রকাশের সময় পর্যন্ত ৪৮টি রাষ্ট্র এমন ঘোষণা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আন্তঃরাষ্ট্রীয় অভিযোগ কমিটির কাছে আনা হয়নি। তথাপি, এই পদ্ধতি কীভাবে কাজ করতে পারে তার ব্যাখ্যা দেওয়া জরুরি। প্রথম ধাপে অভিযোগকারী রাষ্ট্রকে অভিযুক্ত রাষ্ট্রের নজরে বিষয়টি আনতে হবে। অভিযুক্ত রাষ্ট্রকে তিন মাসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা বা স্পষ্টীকরণ প্রদান করতে হবে। যদি ছয় মাসের মধ্যে উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সন্তোষজনক সমাধানে পৌঁছাতে না পারে, তবে যেকোনো পক্ষ তা কমিটির কাছে জমা দিতে পারে। কমিটি নিশ্চিত হওয়ার পর যে সব অভ্যন্তরীণ আইনি প্রতিকারের পথ শেষ হয়েছে, তখন বিষয়টি আমলে নিতে পারে। এরপর কমিটি উভয় পক্ষের মধ্যে একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে সহযোগিতা করতে পারে।

মীমাংসা

মানবাধিকার কমিটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় অভিযোগের ক্ষেত্রে মীমাংসা প্রক্রিয়া ব্যবহার করে, যখন উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। এমন পরিস্থিতিতে, সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষগুলোর পূর্বানুমতি সাপেক্ষে, কমিটি চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর জন্য অ্যাড-হক 'মীমাংসা কমিশন' গঠন করতে পারে। মীমাংসা কমিশন কমিটির দ্বারা নিযুক্ত পাঁচজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে। কমিশনের সদস্যরা তাদের দাপ্তরিক দায়িত্বে কাজ করবেন। তারা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের নাগরিক হতে পারবেন না অথবা এমন কোনো রাষ্ট্রের নাগরিক হতে পারবেন না যারা ৪১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে ঘোষণা দেয়নি। কমিশন নিজস্ব সভাপতি নির্বাচন করবে এবং নিজস্ব নিয়মাবলী তৈরি করবে। কমিশনের সভা সাধারণত জাতিসংঘ সদর দপ্তর অথবা জেনেভায় অবস্থিত জাতিসংঘের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

পরিবেশগত অপরাধ কী? এর ধরন, প্রভাব এবং উত্তরণের পথ আলোচনা করুন।

কমিটি সংগৃহীত সকল তথ্য কমিশনের কাছে সরবরাহ করবে। কমিশন রাষ্ট্রপক্ষগুলোর কাছে এমন তথ্যও চাইতে পারে যা কমিটির কাছে আগে থেকেই নেই। তদন্ত শেষে, কমিশনকে মানবাধিকার কমিটির সভাপতির কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে, যা পরে রাষ্ট্রপক্ষগুলোর কাছে পাঠানো হবে। কমিশনকে এক বছরের বেশি সময় নেওয়া উচিত নয়। যদি কমিশন বারো মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে না পারে, তবে তারা প্রতিবেদনটিকে পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত সারাংশে সীমাবদ্ধ রাখতে পারে। যদি চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে কোনো বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে প্রতিবেদনটি কেবল ঘটনার সংক্ষিপ্ত সার এবং অর্জিত সমাধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। যদি কোনো সমঝোতা সম্ভব না হয়, তবে কমিশনের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের বিরোধের সাথে প্রাসঙ্গিক সকল বিষয়ে উপসংহার এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে তাদের "মতামত" অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই প্রতিবেদনে লিখিত অবদানের পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষের মৌখিক উপস্থাপনার রেকর্ডও থাকবে। এমন ক্ষেত্রে, প্রতিবেদন পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষগুলোকে অবশ্যই সভাপতিকে জানাতে হবে যে তারা কমিশনের প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু গ্রহণ করেছে কি না।

ব্যক্তিগত অভিযোগ

যদি কোনো রাষ্ট্র 'আইসিসিপিআর-এর প্রথম ঐচ্ছিক প্রোটোকল'-এর পক্ষ হয়, তবে সেই রাষ্ট্রের নাগরিক চুক্তির অধীনে তার অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ মানবাধিকার কমিটির কাছে করতে পারেন। প্রোটোকলটি অভিযোগের এই প্রক্রিয়া প্রদান করে। কমিটির ব্যক্তিগত অভিযোগ পরীক্ষার শর্তাবলী ঐচ্ছিক প্রোটোকলের ১ থেকে ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে। ব্যক্তিগত অভিযোগ দাখিলের জন্য 'মডেল কমপ্লায়েন্ট ফর্ম' ব্যবহার করা যেতে পারে, যেখানে নিম্নলিখিত তথ্য প্রদান করতে হবে:
  • প্রাথমিক তথ্য,
  • অভিযোগটি যে রাষ্ট্রপক্ষের বিরুদ্ধে এবং আইসিসিপিআর-এর কোন অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে তার উল্লেখ,
  • অভ্যন্তরীণ আইনি প্রতিকার শেষ করার জন্য গৃহীত পদক্ষেপ,
  • অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে ঘটনার কালানুক্রমিক তালিকা এবং
  • সহায়ক নথিপত্রের চেক-তালিকা, যার মধ্যে স্থানীয় আদালতের সিদ্ধান্ত বা অভিযোগের অনুলিপি এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ অন্তর্ভুক্ত।
ব্যক্তিগত অভিযোগসমূহ জেনেভা, সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের অফিসের পিটিশন টিমের ঠিকানায় অথবা নিম্নোক্ত ইমেইল ঠিকানায় পাঠানো উচিত। কমিটির রাষ্ট্রীয় প্রতিবেদনের দিকে অধিক মনোযোগ দেওয়া এবং ব্যক্তিগত আবেদনের জন্য পর্যাপ্ত সময় ও মনোযোগের অভাবে ব্যক্তিগত যোগাযোগের এই পদ্ধতিটি খুব একটা কার্যকর হয়নি। ফলে কমিটির কাছে বিপুল সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছে। এর কার্যকারিতা সর্বোচ্চ করতে কমিটিকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

রেটিং

(নতুন)

শেয়ার

পাঠকের মন্তব্য ও পর্যালোচনা

(০)
মন্তব্য করতে Google বা Facebook দিয়ে লগইন করা আবশ্যক
রাকিবুল ইসলাম
রাকিবুল ইসলাম

লেখক (Author)

আইন, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সমাজতত্ত্বের অনুসন্ধিৎসু গবেষক ও লেখক। মেরুনপেপারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কন্ট্রিবিউটর হিসেবে নিয়মিত সমসাময়িক ভূ-রাজনীতি ও সাংবিধানিক বিষয়াবলী নিয়ে লিখছেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

আরও দেখুন →
নিরাপদ পরিবেশের অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতির তাৎপর্য ও এর আইনি অভিঘাত: একটি পর্যালোচনাআইন

নিরাপদ পরিবেশের অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতির তাৎপর্য ও এর আইনি অভিঘাত: একটি পর্যালোচনা

নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশের অধিকারকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের স্বরূপ এবং এর সুদূরপ্রসারী আইনি ফলাফল নিয়ে এই নিবন্ধে আলোকপাত করা হয়েছে। এতে পরিবেশগত বিপর্যয় ও অপরাধের শ্রেণিবিন্যাস, এই অধিকার বলবৎকরণের আইনি কাঠামো এবং এর স্বীকৃতির আবশ্যিকতা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। আইন শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে নিবন্ধটিতে তথ্যবহুল দৃষ্টান্ত, প্রাসঙ্গিক রেফারেন্স ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়েছে।

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩পড়ুন →
মানবাধিকারের সুরক্ষা, প্রসার ও সংশ্লিষ্ট কার্যপদ্ধতিআইন

মানবাধিকারের সুরক্ষা, প্রসার ও সংশ্লিষ্ট কার্যপদ্ধতি

জাতিসংঘ সনদে সুস্পষ্টভাবে বিবৃত হয়েছে যে, 'মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও তা সমুন্নত রাখা' বিশ্বসংস্থাটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

২২ জানুয়ারি ২০২৩পড়ুন →
মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্যসমূহআইন

মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্যসমূহ

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে ১৯৪৮ সালের মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রকে বিবেচনা করা হয়। আইনত বলবৎযোগ্য অগণিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির আদর্শ রূপরেখা হিসেবে এটি কাজ করেছে। অন্যায়-অবিচার মোকাবিলা, বিবাদ নিরসন, নিগৃহীত জনপদে বসবাস কিংবা প্রত্যেকের মানবাধিকার নিশ্চিতকরণের সংগ্রামে—আমাদের সবার জন্যই এই ঘোষণাপত্র আজও এক অবিচল প্রেরণার উৎস।

৩০ অক্টোবর ২০২২পড়ুন →
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ আসলে কী?আইন

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ আসলে কী?

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ মূলত সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং এ সংক্রান্ত ঐচ্ছিক প্রটোকলসমূহের এক সমন্বিত রূপ।

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২পড়ুন →

মেরুনপেপারের সাথে যুক্ত থাকুন

আইন, রাজনীতি, ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষণধর্মী সেরা প্রবন্ধগুলো প্রতি সপ্তাহে সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।

আমরা স্প্যাম করি না। যেকোনো সময় আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।