Switch language / ভাষা পরিবর্তন করুন
দক্ষিণ এশিয়া

৭ নভেম্বর ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি: শহীদ জিয়ার সার্বভৌম ডকট্রিন

সারকথা

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সাধারণ ক্ষমতার পালাবদল ছিল না। এটি ছিল নয়াদিল্লির করদরাজ্য বানানোর নীল নকশা গুঁড়িয়ে দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর ঐতিহাসিক ঘোষণা।

রাকিবুল ইসলাম
লিখেছেন:রাকিবুল ইসলাম
প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২৬•পড়তে ১৪ মিনিট লাগবে
৭ নভেম্বর ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি: শহীদ জিয়ার সার্বভৌম ডকট্রিন
**উত্তর সংক্ষেপ (TL;DR / Answer Block)**: ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সীমানা ছাড়িয়ে ৭ নভেম্বর ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এক মৌলিক শক্তির ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করে। এই ঐতিহাসিক জাগরণের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে নয়াদিল্লির একচ্ছত্র আধিপত্য ও করদরাজ্যের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেন এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুমুখী কূটনীতি ও সার্ক গঠনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের সার্বভৌম স্বকীয়তা নিশ্চিত করেন।

কাদের স্বার্থে ৭ নভেম্বরের ইতিহাসকে ভয় পায় নয়াদিল্লি?

নয়াদিল্লির সাউথ ব্লক আর তাদের অনুগত বুদ্ধিজীবীরা যখনই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে 'রক্তের বন্ধন' কিংবা 'প্রতিবেশী প্রথম' নীতির সুমিষ্ট বুলি আওড়ায়, তখন ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজপথের দিকে তাকালে তাদের কপালে ভাঁজ পড়ে কেন? যে রাষ্ট্রটি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মিত্র হিসেবে পাশে দাঁড়ানোর দাবি করে, সেই একই রাষ্ট্র কেন গত পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশের প্রতিটি গণমুখী জাগরণ, সামরিক স্বনির্ভরতা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিকে নিজের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে? হিসাবটি অত্যন্ত নির্মম ও স্পষ্ট। ৭ নভেম্বর ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি একে অপরের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা, কারণ ১৯৭৫ সালের ওই একটি দিনই নির্ধারণ করে দিয়েছিল বাংলাদেশ কি দক্ষিণ এশিয়ায় একটি আত্মমর্যাদাশীল স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকবে, নাকি সিকিমের পথ ধরে নয়াদিল্লির সম্প্রসারণবাদী মানচিত্রের একটি আজ্ঞাবহ প্রদেশে পরিণত হবে। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা সেনানিবাসে যে ক্যু এবং পাল্টা-ক্যুর নাটক মঞ্চস্থ হয়েছিল, তার নেপথ্যে ছিল বাংলাদেশকে পুনরায় ইন্দো-সোভিয়েত অক্ষের নিগড়ে বাঁধার এক গভীর চক্রান্ত। কিন্তু ৭ নভেম্বরের ভোরে ঢাকার রাজপথে ট্যাংকের নলে সাধারণ মানুষের ফুলের মালা আর সিপাহী-জনতার গগনবিদারী স্লোগান সেই আধিপত্যবাদী ছককে মুহূর্তের মধ্যে ধূলিসাৎ করে দেয়। বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রপরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন, তখন দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতি ও পরাশক্তির সমীকরণ চিরতরে বদলে যায়। > **সম্পর্কিত মূল্যায়ন পড়ুন**: জিও-পলিটিক্যাল ও কালচারাল সার্বভৌমত্বের আইকন জিয়া — মাসকাওয়াথ আহসান।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কাঠামোগত পটভূমি: করদরাজ্যের ছক বনাম বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ

সত্যটা সোজাসাপ্টা বলা যাক। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর বাংলাদেশের মানুষ যে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিল, ১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ স্বাক্ষরিত ২৫ বছর মেয়াদী 'ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী, সহযোগিতা ও শান্তি চুক্তি' সেই সার্বভৌমত্বের গলায় প্রথম আনুষ্ঠানিক ফাঁস পরিয়ে দেয়। একদিকে সীমান্ত উন্মুক্ত করে চোরাচালান ও অর্থনৈতিক রক্তক্ষরণ, অন্যদিকে নিয়মিত সেনাবাহিনীর সমান্তরালে রক্ষীবাহিনী গঠন এবং ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে বাকশালের মাধ্যমে একদলীয় শাসন কায়েম করে বাংলাদেশকে কার্যত একটি ভঙ্গুর ও পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। ঠিক এই শ্বাসরুদ্ধকর পটভূমিতেই ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লব সংঘটিত হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খুব দ্রুত অনুধাবন করেছিলেন যে, নিছক সামরিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যথেষ্ট নয়; ভারতের সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক আগ্রাসন থেকে বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে একটি স্বতন্ত্র দার্শনিক ও রাষ্ট্রীয় ভিত্তি প্রয়োজন। সেই ঐতিহাসিক প্রয়োজন থেকেই জন্ম নেয় 'বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ'। কেন এই দর্শনটি নয়াদিল্লির কাছে এতটা চক্ষুশূল ছিল? কারণ ভাষাভিত্তিক বা নৃতাত্ত্বিক জাতীয়তাবাদের সূক্ষ্ম ফাঁক গলে কলকাতা ও দিল্লির সাংস্কৃতিক আধিপত্য খুব সহজেই ঢাকার স্বকীয়তাকে গ্রাস করতে পারত। জিয়াউর রহমান সেই ফাঁদটি কেটে দেন। তিনি ভাষা, ধর্ম, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, সংস্কৃতি এবং ৫৫ হাজার বর্গমাইলের ভৌগোলিক সীমারেখাকে একসূত্রে গেঁথে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও দেশভাগ পরবর্তী সবচেয়ে শক্তিশালী সার্বভৌম আত্মপরিচয় নির্মাণ করেন (দৈনিক ইত্তেফাক, ২০২৬)। একদলীয় বাকশালী কাঠামোর কবর রচনা করে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়া এবং খাল কাটা কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে জাগিয়ে তোলার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন যে, বাংলাদেশ কারো দয়ার ওপর নির্ভরশীল কোনো 'তলাবিহীন ঝুড়ি' নয়।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি কীভাবে মাত্র সাড়ে পাঁচ বছরে (১৯৭৫ থেকে ১৯৮১) একটি অবরুদ্ধ রাষ্ট্রকে বৈশ্বিক কূটনীতির সম্মুখসারিতে নিয়ে গিয়েছিল, তার প্রতিটি পদক্ষেপ আজ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গবেষকদের কাছে প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রথম আঘাতটি জিয়াউর রহমান হানেন ভারতের পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। ১৯৭৫ সালের এপ্রিলে মাত্র ৪১ দিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা ব্যারেজের ফিডার ক্যানেল চালুর অনুমতি নিয়ে ভারত চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও একতরফাভাবে গঙ্গার পানি প্রত্যাহার অব্যাহত রাখে (লোটাস অ্যারাইজ পিএসআইআর, ২০২৬)। দিল্লির ধারণা ছিল, ঢাকার নতুন সরকার ভয়ে চুপ থাকবে। কিন্তু জিয়াউর রহমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মুলা ঝুলিয়ে রাখার ভারতীয় কৌশল প্রত্যাখ্যান করে ১৯৭৬ সালে কলম্বোতে অনুষ্ঠিত জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের (NAM) শীর্ষ সম্মেলন, ইস্তাম্বুলে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন এবং সর্বশেষ ১৯৭৬ সালের ৩১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফারাক্কা ইস্যু উত্থাপন করেন (দ্য ডেইলি স্টার, ২০২৫, আইএসএএস এনইউএস, ২০২৬)। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে নতিস্বীকার করে ভারত ১৯৭৭ সালের নভেম্বরে ৫ বছর মেয়াদী গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য হয়। ওই চুক্তির ২ নম্বর অনুচ্ছেদে শুষ্কতম ১০ দিনে (২১ থেকে ৩০ এপ্রিল) ফারাক্কায় ৪৪,০০০ কিউসেক পানির মধ্যে বাংলাদেশের জন্য ৩৪,৫০০ কিউসেক পানি এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ন্যূনতম ৮০ শতাংশ পানির গ্যারান্টি ক্লজ (Guarantee Clause) আদায় করে নেন জিয়াউর রহমান (অনলাইন একাডেমিক প্রেস, ২০২৪, লোটাস অ্যারাইজ, ২০২৬)। দ্বিতীয় কৌশলগত বিপ্লবটি ঘটে প্রতিরক্ষা ও পরাশক্তি কূটনীতিতে। ১৯৭১ পরবর্তী সময়ে যে চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি, ১৯৭৭ সালের জানুয়ারিতে বেইজিং সফর করে জিয়াউর রহমান সেই চীনের সাথে গভীর সামরিক, বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন, যা ভারতীয় সমরাস্ত্রের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা চিরতরে দূর করে দেয়। একই সাথে ১৯৭৬ সালে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) প্রতিষ্ঠা করে সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করেন, যা আজ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান স্তম্ভ বা রেমিট্যান্স অর্থনীতির মূল ভিত্তি। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ওজন কোন উচ্চতায় পৌঁছেছিল, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ ১৯৭৮ সালের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচন। এশীয় কোটায় অর্থনৈতিক পরাশক্তি জাপানকে সরাসরি ভোটে পরাজিত করে বাংলাদেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়। ওআইসির ৩ সদস্যবিশিষ্ট আল-কুদস কমিটিতে স্থান লাভ, ইরান-ইরাক যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা এবং ১৯৭৮ সালে মিয়ানমারের 'অপারেশন কিং ড্রাগন' পরবর্তী সময়ে ২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে কূটনৈতিক চাপের মুখে ১৯৭৯ সালের মধ্যেই মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করা ছিল জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রনায়কোচিত প্রজ্ঞার অকাট্য দলিল। দেশের অভ্যন্তরেও ১৯৭৭ সালে মিরপুরে সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজ (DSCSC) এবং ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (BIISS) প্রতিষ্ঠা করে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা ও তিস্তা ও গঙ্গা পানিবণ্টন কূটনীতি গবেষণার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলেন।

পরাশক্তি ও ভারতীয় আধিপত্যের দ্বিচারিতা: 'গণতন্ত্রের জননী' বনাম ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষক

এবার আসা যাক নয়াদিল্লির কূটনৈতিক ভণ্ডামি ও দ্বিমুখী নীতির ব্যবচ্ছেদে। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দাঁড়িয়ে ভারতের শাসকেরা যখন নিজেদের 'গণতন্ত্রের জননী' (Mother of Democracy) এবং 'গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর' বলে দাবি করেন, তখন বাংলাদেশের মাটিতে তাদের আসল রেকর্ডটি ঠিক কী বলে? দাবি বনাম রেকর্ডের হিসাবটি মেলানো যাক। ভারত দাবি করে তারা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার সবচেয়ে বড় বন্ধু। কিন্তু নথিপত্র বলছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নয়াদিল্লি বাংলাদেশে এমন একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনকে নিঃশর্ত রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা সুরক্ষা দিয়েছে, যারা ২০১৪ সালের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন, ২০১৮ সালের মধ্যরাতের ভোট ডাকাতি এবং ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে এ দেশের ১২ কোটি ভোটারের মৌলিক ভোটাধিকার হরণ করেছিল। গুমের শিকার হওয়া শত শত মানুষের আর্তনাদ, গোপন বন্দিশালা 'আয়নাঘর', আর ব্যাংক খাত ও মেগা প্রজেক্টের আড়ালে দেশ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ বিদেশে পাচারের সময় কোথায় ছিল দিল্লির গণতান্ত্রিক বিবেক? দ্বিচারিতার এখানেই শেষ নয়। চীন যখন তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদের উজানে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়, তখন ভারত আন্তর্জাতিক নদী আইনের দোহাই দিয়ে নিজের ভাটির অধিকারের কথা বলে। অথচ সেই ভারতই বাংলাদেশের সাথে থাকা ৫৪টি অভিন্ন নদীর মধ্যে ৫৩টির কোনো পানিবণ্টন চুক্তি করতে রাজি হয় না, এবং গজলডোবা ব্যারেজের মাধ্যমে তিস্তার পানি আটকে রেখে উত্তরবঙ্গের লাখ লাখ হেক্টর জমিকে মরুভূমির দিকে ঠেলে দেয়। এমনকি ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান যে গঙ্গা চুক্তিতে ৮০ শতাংশ পানির গ্যারান্টি ক্লজ রেখেছিলেন, পরবর্তীকালে ভারতের চাপে সেই গ্যারান্টি ক্লজটি পর্যন্ত মুছে ফেলা হয় (ড. প্রণব কুমার দাস, ২০২৩, লোটাস অ্যারাইজ, ২০২৬)। সবচেয়ে রক্তাক্ত প্রমাণটি ঝুলে আছে ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের কাঁটাতারে। মানবাধিকার সংস্থা 'অধিকার' (Odhikar) এবং 'আইন ও সালিশ কেন্দ্র' (ASK)-এর প্রামাণ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF) অন্তত ১,২৩৬ জন নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিককে গুলি করে হত্যা করেছে এবং ১,১৪৫ জনকে পঙ্গু বা আহত করেছে (জাতীয় সংসদ গ্রন্থাগার আর্কাইভ ও নিউ এজ, ২০২৪)। এমনকি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম ১১ মাসেও বিএসএফ অন্তত ৩৪ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে (দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদকীয়, ২০২৫)। ১৯৭৫ সালের ভারত-বাংলাদেশ যৌথ সীমান্ত নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর গুলি না চালানোর অঙ্গীকার থাকা সত্ত্বেও এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্টে একজন নিহত ব্যক্তির কাছেও অস্ত্র না পাওয়ার তথ্য প্রমাণিত হলেও বিএসএফের একজন সদস্যেরও আজ পর্যন্ত বিচার হয়নি (উইকিপিডিয়া সীমান্ত হত্যা ডসিয়ার, রিলিফওয়েব ও অধিকার রিপোর্ট)। পাশাপাশি অর্থনৈতিক শোষণের চিত্রটিও সমানভাবে একতরফা: * **বাণিজ্য ও ট্রানজিট বৈষম্য**: বার্ষিক ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি জিইয়ে রেখে বাংলাদেশের পাট ও গার্মেন্টস পণ্যে অশুল্ক বাধা আরোপ করা হয়েছে, অথচ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর জন্য বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর নামমাত্র মূল্যে ব্যবহারের সুবিধা নেওয়া হয়েছে (ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি)। * **আদানির গড্ডা বিদ্যুৎ চুক্তির ফাঁদ**: ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত ঝাড়খণ্ডের ১,৬০০ মেগাওয়াটের আদানি বিদ্যুৎ চুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে চড়া ক্যাপাসিটি চার্জ ও কয়লার দাম চাপিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের করের টাকা লুণ্ঠনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুতরাং বিষয়টি কোনো কূটনৈতিক ভুল বোঝাবুঝি নয়। এটি হলো শহীদ জিয়াউর রহমানের সার্বভৌম রাষ্ট্রদর্শনের বিপরীতে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক, সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতিগতভাবে পঙ্গু করে রাখার এক দীর্ঘমেয়াদী ভারতীয় প্রকল্প।

সমকালীন সমীকরণ ও পরাশক্তিদের ভূ-রাজনীতি: সার্ক ডকট্রিন ও ৪ পরাশক্তির দাবার ছক

১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্ক (SAARC) গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়ে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ সফর করেন, তখন তার পেছনে একটি সুগভীর ভূরাজনৈতিক দর্শন কাজ করছিল (বাসস সার্ক প্রতিবেদন, ২০২৬, সংসদ গ্রন্থাগার আর্কাইভ)। ভারত সবসময় তার ক্ষুদ্র প্রতিবেশীদের সাথে দ্বিপাক্ষিক (Bilateral) আলোচনার টেবিলে বসতে চায়, যাতে তার বিশাল ভৌগোলিক ও সামরিক আকারের চাপে ছোট দেশগুলো মাথা নোয়াতে বাধ্য হয়। জিয়াউর রহমান এই দ্বিপাক্ষিক আধিপত্যের খেলাটি ধরে ফেলেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার ৭টি দেশকে এক টেবিলে বসিয়ে বহুপাক্ষিক (Multilateral) শক্তির ভারসাম্য তৈরি করেন, যা ১৯৮৫ সালে ঢাকা শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে সার্কে রূপ নেয় (দৈনিক ভোরের পাতা, ২০২৬, পলিসি পেপার বিডি, ২০২৬)। আজ ২০২৬ সালের নভেম্বরে দাঁড়িয়ে ৭ নভেম্বর ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি যখন আমরা বিশ্লেষণ করি, তখন দেখা যায় বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ এশিয়াকে ঘিরে বিশ্বের ৪টি প্রধান পরাশক্তি ও আঞ্চলিক বলয়ের স্নায়ুযুদ্ধ এক নতুন চূড়ায় পৌঁছেছে: ১. **মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল (USA)**: ওয়াশিংটন দীর্ঘকাল ধরে দক্ষিণ এশিয়াকে নয়াদিল্লির চশমা দিয়ে দেখার ভুল নীতি অনুসরণ করেছে। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং বর্তমান নির্বাচিত সরকারের 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতির পর যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পেরেছে যে, বঙ্গোপসাগরে কৌশলগত স্থিতিশীলতা চাইলে ঢাকার সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানিয়ে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়তে হবে, দিল্লির ভায়া হয়ে নয়। ২. **চীন ও কৌশলগত ভারসাম্য (China)**: মালাক্কা প্রণালীর ঝুঁকি এড়াতে এবং বঙ্গোপসাগরে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে বেইজিংয়ের কাছে বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত অবস্থান অপরিহার্য। ১৯৭৭ সালে শহীদ জিয়া যে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের সূচনা করেছিলেন, আজ তা অবকাঠামো, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নে ভারতের একচেটিয়া চাপের বিরুদ্ধে ঢাকার সবচেয়ে বড় কৌশলগত লিভারেজ। ৩. রাশিয়া ও জ্বালানি সমীকরণ (Russia): ১৯৭৫ সালে মস্কো-দিল্লি অক্ষের তিক্ত অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বৈশ্বিক ওপেক প্লাস (OPEC+) জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহের সমীকরণে রাশিয়ার সাথে একটি বাস্তববাদী ও স্বার্থভিত্তিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য জরুরি। ৪. **ইরান ও মুসলিম বিশ্ব (Iran & Middle East)**: হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও এলএনজি পরিবাহিত হয়, যার ওপর বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সরাসরি নির্ভরশীল। শহীদ জিয়া যেভাবে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ওআইসি এবং মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশের নিরপেক্ষ ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতায় সেই একই ভারসাম্যপূর্ণ নীতিই বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমবাজার ও জ্বালানি সরবরাহ রক্ষা করতে পারে (প্রথম আলো পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষণ, ২০২৬)।

ভবিষ্যৎ গতিপথ ও সম্ভাব্য দৃশ্যপট: ২০২৬ পরবর্তী সার্বভৌম বাংলাদেশের রোডম্যাপ

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন ও ভারতে পলায়নের পর বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটেছে, তা প্রকৃতপক্ষে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সার্বভৌম চেতনারই ঐতিহাসিক পুনরুজ্জীবন (বাংলাদেশ রাজনীতি ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান)। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে, কোনো দেশই বাংলাদেশকে আর করদরাজ্য বা তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারবে না এবং সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হলো 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' ও শহীদ জিয়ার সার্ক ডকট্রিন (দ্য ডেইলি সান, ২০২৬, দৈনিক বাংলা, ২০২৬, বাসস, ২০২৬)। আগামী মাসগুলোতে বাংলাদেশের সামনে ৩টি সুনির্দিষ্ট ভূরাজনৈতিক পরীক্ষা অপেক্ষা করছে: প্রথমত, ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ সমাপ্তি ও নবায়ন। আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এ ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে (দ্য ডেইলি স্টার, ২০২৫)। নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালে শহীদ জিয়ার আদায় করা ৮০ শতাংশ ন্যূনতম গ্যারান্টি ক্লজ এবং জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক নদী কনভেনশন ১৯৯৭-এর সালিশি বিধান যুক্ত করা ছাড়া কোনো অসম চুক্তিতে স্বাক্ষর করা যাবে না (আইএসএএস এনইউএস, ২০২৬)। দ্বিতীয়ত, সার্কের পুনরুজ্জীবন ও ক্ষুদ্র প্রতিবেশীদের কৌশলগত জোট। ভারতের বাধার কারণে দীর্ঘ এক দশক ধরে অচল হয়ে থাকা সার্ককে সচল করতে নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও পাকিস্তানের সাথে আঞ্চলিক বাণিজ্যিক ও জ্বালানি গ্রিড সংযোগ জোরদার করতে হবে। শিলিগুড়ি করিডোর বা 'চিকেনস নেক' নিয়ে নয়াদিল্লির যে নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে, তার বিপরীতে বাংলাদেশকে দেওয়া ট্রানজিট সুবিধার পূর্ণ অর্থনৈতিক মাশুল ও নেপাল-ভুটানের সাথে সরাসরি স্থল সংযোগ আদায় করতে হবে। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক অপরাধ ও সীমান্ত হত্যার জবাবদিহিতা। জুলাই গণহত্যার পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণ এবং সীমান্তে বিএসএফের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক বিচারিক ফোরামে তুলে ধরার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনের দ্বিমুখী নীতি ভেঙে দিতে হবে (দ্য ডেইলি স্টার, ২০২৬)।

সাধারণ জিজ্ঞাসাসমূহ (FAQ)

**প্রশ্ন ১: ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর কেন দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এতটা গুরুত্বপূর্ণ?**

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইন্দো-সোভিয়েত বলয়ের একচ্ছত্র আধিপত্য থেকে বেরিয়ে আসে (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ২০২৬)। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি নতজানু ও একদলীয় রাষ্ট্রের পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির পথে যাত্রা শুরু করে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একক আধিপত্যবাদী ছককে প্রতিহত করে শক্তির ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করে (প্রথম আলো কলাম, ২০২৬)।

**প্রশ্ন ২: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতির মূল স্তম্ভগুলো কী ছিল?**

শহীদ জিয়ার পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ছিল জাতীয় সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং বহুপাক্ষিক জোটবদ্ধতা (প্রথম আলো পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষণ, ২০২৬)। তিনি ১৯৭৬ সালে জাতিসংঘে ফারাক্কা ইস্যু উত্থাপন করে ১৯৭৭ সালে গ্যারান্টি ক্লজসহ গঙ্গা চুক্তি আদায় করেন, চীন ও মুসলিম বিশ্বের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক গড়েন, ১৯৭৮ সালে জাপানকে হারিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদ অর্জন করেন এবং সার্ক গঠনের উদ্যোগ নেন (লোটাস অ্যারাইজ, ২০২৬, প্রথম আলো, ২০২৬)।

**প্রশ্ন ৩: ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে ভূরাজনৈতিক যোগসূত্র কী?**

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান উভয়ই ছিল অভ্যন্তরীণ স্বৈরতন্ত্র এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও দেশপ্রেমিক শক্তির সার্বভৌম বিদ্রোহ (বাংলাদেশ পোস্ট, ২০২৬)। ৭ নভেম্বর যেভাবে একদলীয় বাকশাল ও দিল্লির প্রভাব বলয় ভেঙে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিল, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবও ঠিক একইভাবে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদ ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অবসান ঘটিয়ে সার্বভৌম 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতি ফিরিয়ে এনেছে (দৈনিক ইনকিলাব, ২০২৬)।

নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে: সার্বভৌমত্ব কোনো পরাশক্তির দাক্ষিণ্য নয়

ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম সত্যটি হলো, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বা অনুগত পুতুল সরকার বসিয়ে কোনো স্বাধীনচেতা জাতিকে চিরকাল পদানত রাখা যায় না। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ঢাকার রাজপথে সিপাহী ও জনতা যে সার্বভৌমত্বের বীজ বপন করেছিল এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে আত্মমর্যাদাশীল পররাষ্ট্রনীতির দুর্গ গড়ে তুলেছিলেন, চার দশকের দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রও তা মুছে ফেলতে পারেনি। নয়াদিল্লির নীতিনির্ধারকদের আজ এই দেওয়াললিখনটি পড়তে হবে যে, দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্রে বাংলাদেশ কারো করদরাজ্য নয়; পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার এই বদ্বীপের ভাগ্য নির্ধারিত হবে কেবল ঢাকার রাজপথে, দেশের মানুষের সার্বভৌম ইচ্ছায়।

রেটিং

(নতুন)

শেয়ার

পাঠকের মন্তব্য ও পর্যালোচনা

(০)
মন্তব্য করতে Google বা Facebook দিয়ে লগইন করা আবশ্যক
রাকিবুল ইসলাম
রাকিবুল ইসলাম

লেখক (Author)

আইন, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সমাজতত্ত্বের অনুসন্ধিৎসু গবেষক ও লেখক। মেরুনপেপারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কন্ট্রিবিউটর হিসেবে নিয়মিত সমসাময়িক ভূ-রাজনীতি ও সাংবিধানিক বিষয়াবলী নিয়ে লিখছেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

আরও দেখুন →
জিও-পলিটিক্যাল ও কালচারাল সার্বভৌমত্বের আইকন জিয়াঅভিমত

জিও-পলিটিক্যাল ও কালচারাল সার্বভৌমত্বের আইকন জিয়া

৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের জিও-পলিটিক্যাল ও কালচারাল সার্বভৌমত্ব রিক্লেইম করার দিন বলে মনে হয়েছে সবসময়। বেড়ে ওঠার সময়টাতে যে আনন্দময় শৈশব-কৈশোর উপহার দিয়েছে ৭ নভেম্বর পরবর্তী জিয়াউর রহমানের শাসনকাল; যাপিত জীবনের সেই অভিজ্ঞতা জিয়াকে একজন অনন্য নায়ক হিসেবে চিত্রিত করে।

৭ নভেম্বর ২০২৬পড়ুন →
আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলারাজনীতি

আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলা

গত ২৯ শে ডিসেম্বরে জাতিসংঘের প্রধান অংগ সংগঠন আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলা দায়ের করে বেশ সাহসী একটি পদক্ষেপ নিয়েছে।

১৮ জানুয়ারি ২০২৪পড়ুন →
নাগর্নো-কারাবাখ সংঘাত: দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলে শান্তিরাজনীতি

নাগর্নো-কারাবাখ সংঘাত: দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলে শান্তি

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আজারবাইজানের ভূখণ্ডে বিষাক্ত হয়ে থাকা নাগর্নো-কারাবাখ সমস্যার সমাধানকল্পে ১০ই নভেম্বর এক ঐতিহাসিক সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। ওই দিন আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান সামরিক সংঘাত অবসানের লক্ষে একমত পোষণ করে...

১২ নভেম্বর ২০২০পড়ুন →
মক্কা চুক্তি: বাংলাদেশের যৌথ প্রতিরক্ষায় যোগদান কেন অপরিহার্য?অভিমত

মক্কা চুক্তি: বাংলাদেশের যৌথ প্রতিরক্ষায় যোগদান কেন অপরিহার্য?

মক্কা চুক্তি ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। এতে বলা হয়েছে, এক সদস্যের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা সবার ওপর আক্রমণ ধরা হবে। বাংলাদেশের যুক্তি সহজ: সীমান্ত হত্যা, পানি আর ট্রানজিট — তিনটিতেই দরকষাকষির জায়গা এখন প্রায় শূন্য। এই লেখার দাবি, একটি যৌথ কাঠামো সেই জায়গাটা ফিরিয়ে দিতে পারে।

২৭ আগস্ট ২০২৬পড়ুন →

মেরুনপেপারের সাথে যুক্ত থাকুন

আইন, রাজনীতি, ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষণধর্মী সেরা প্রবন্ধগুলো প্রতি সপ্তাহে সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।

আমরা স্প্যাম করি না। যেকোনো সময় আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।